৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

পরিবারতন্ত্রেই পাক খাচ্ছে বিএনপি

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ০৮ ২০১৬, ০৪:৫৪ | 647 বার পঠিত

2016_08_07_12_34_57_gQTkYXGazVLW1lkcPtwIhVVOWPOPIg_originalঢাকা : পারিবারিক বন্ধনেই এগিয়ে চলেছে বিএনপির রাজনীতি। এক্ষেত্রে শুধু জিয়া পরিবার নয়, স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে দলটির দায়িত্বশীল অন্য নেতাদের সন্তানেরাও বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হচ্ছেন কিংবা সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

শনিবার (৬ আগস্ট) ঘোষিত ৫০২ সদস্যবিশিষ্ট দলটির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে এর প্রতিফলন ঘটেছে।

নতুন কমিটিতে স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাখা হয়েছে গুমের শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যকেও। এদেরকে বলা হচ্ছে বিএনপি নেতাদের ‘দ্বিতীয় প্রজন্ম’, কিংবা তাদের ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি।

তবে এক্ষেত্রে সবাইকে ছাপিয়ে চমক দেখিয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামে নিজেকে দ্বিতীয় বারের মতো ঠাঁই করে নেয়ার পাশাপাশি দলটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তার কন্যা ও পুত্রবধূ। যদিও কন্যা অপর্ণা রায় দাস আগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেই অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। সদ্য বিদায়ী কমিটির নির্বাহী সদস্য ছিলেন তিনি। নতুন কমিটিতে  প্রান্তিক  জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বেশ সক্রিয় গয়েশ্বর তনয়া।

এ ছাড়া গয়েশ্বরের পুত্রবধূ অ্যাডভোকেট নিপুর রায় চৌধুরী নির্বাহী কমিটির সদস্য হয়েছেন। তিনি ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে। বিগত কমিটিতে নিতাই রায় সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আইন পেশার সাথে সংযুক্ত থাকার পাশাপাশি শ্বশুরের সঙ্গে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সেমিনারে নিপুর রায়কে সক্রিয় দেখা যায়।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য। বলা হয়ে থাকে, তিনি অলটাইম পলিটিশিয়ান অর্থাৎ সার্বক্ষণিক রাজনীতি করেন। জানা যায়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি। ছাত্রলীগ ভেঙে গেলে জাসদপন্থী ছাত্রলীগের নেতা হন গয়েশ্বর। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের আহ্বানে প্রতিষ্ঠালগ্নেই বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। জাতীয়তাবাদী যুবদল গঠনে রাখেন সক্রিয় ভূমিকা। এরপর বিএনপির প্রধান এ অঙ্গ সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিএনপির চতুর্থ কাউন্সিলের পর প্রথমে দলটির বিশেষ সম্পাদক মনোনীত হন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম মহাসচিব হন। গত কাউন্সিলের পর হন স্থায়ী কমিটির সদস্য। এবারও দলটির নীতি-নির্ধারকের পদে বহাল রয়েছেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে দলটির চেয়ারপারসন। বড় ছেলে তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। তারেকের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমানকেও বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার গুঞ্জন রয়েছে। বিদায়ী কমিটির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামে খালেদা জিয়া ছাড়াও একজন নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯ সদস্যের কমিটিতে বেগম জিয়ার বাইরে কোনো নারী সদস্যকে এখনো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ রাজনীতির কথা চিন্তা করে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকে স্থায়ী কমিটিতে নেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন চেয়ারপারসন।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেগম সারোয়ারি রহমানকে স্থায়ী কমিটি থেকে সরিয়ে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা করা হয়েছে।

কমিটিতে আরেক চমক মানিকগঞ্জের হারুন অর রশিদ খান মুন্নুর পরিবার। খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদে আগেই ঠাঁই পেয়েছিলেন। এবারও একইপদে বহাল আছেন। তবে সঙ্গে পেয়েছেন মেয়ে আফরোজা খান রিতাকেও। বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। কারণ, ৭৩ সদস্যবিশিষ্ট বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলে আছেন এই বাবা ও মেয়ে।

হারুন অর রশিদ খান মুন্নুর রাজনীতির পাশাপাশি অন্যতম পরিচয় একজন শিল্পপতি। মুন্নু সিরামিকসের কর্ণধার তিনি। বিএনপি সর্বশেষ ক্ষমতায় থাকাকালে ছিলেন দপ্তরবিহীন মন্ত্রী। পিতৃপরিচয় ‘জোরালো’ হলেও কম যান না আফরোজা খান রিতাও। বিএনপির বিদায়ী কমিটির নির্বাহী সদস্য ছিলেন তিনি। তৃণমূলের সক্রিয় এই বিএনপি নেত্রী দলটির মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভানেত্রীও।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ফাঁসি হওয়া স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তিও কমিটির অন্যতম চমক। তাকে বিএনপির নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে। বাবার মামলায় গণমাধ্যমে একাধিকবার বক্তব্য দিয়ে বেশ আলোচনায় আসেন তিনি। তবে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছেন ট্রাইব্যুনালের মামলার রায় আগের দিন প্রকাশ করে। এ নিয়ে ট্রাইব্যুনালের করা মামলায় আসামিও হুম্মাম। এ মামলার রায় আগামী ১৪ আগস্ট ঘোষণা করা হবে।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর বিএনপি নেতা সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এদিকে, হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে গত ৪ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আগে খুব একটা আলোচনায় না থাকলেও বিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তরের মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত তাবিথের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন খালেদা জিয়া। বিভিন্ন সময় তাকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে বিদেশ সফরেও দেখা গেছে। নতুন কমিটিতে তাকে নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাবাকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা থেকে করা হয়েছে ভাইস চেয়ারম্যান।

বেশ তরুণ বয়সেই কুমিল্লা জেলা বিএনপিতে স্থান করে নিয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছোট ছেলে ব্যারিস্টার ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাকেও নতুন কমিটির নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসকে সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছে। বিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের মেয়র পদে নির্বাচন করেন মির্জা আব্বাস। কিন্তু মামলা থাকায় তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেননি। তবে বিএনপি সমর্থিত আব্বাসের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন আফরোজা আব্বাস। ওই নির্বাচনে খালেদা জিয়াও আব্বাসের পক্ষে প্রচারণায় নামেন।

প্রয়াত সাংসদ বিএনপির সাবেক নেতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আখতার কল্পনাকে নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। রাজধানীর লালবাগ এলাকার সাবেক কমিশনার তিনি। পিন্টু কারাগারে মারা যাওয়া পর তার কর্মী-সমর্থকরা এখন নাসিমা আখতারকে সামনে রেখেই রাজনীতি করছেন।

‘নিখোঁজ’ হওয়া দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রশদীর লুনাকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য করা হয়েছে। ইলিয়াস আলীর অনুপস্থিতিতে সিলেটের রাজনীতিতেও ভূমিকা রাখছেন তিনি। জেলা বিএনপির সর্বশেষ কমিটিতে লুনাকে প্রথম সদস্য রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাবেক সংসদ সদস‌্য হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গের স্ত্রী তাহমিনা খানম আওরঙ্গকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। ২০১৩ সালের আগস্টে নিহত হওয়া আওরঙ্গ বিএনপির বিদায়ী কমিটির নির্বাহী সদস্য ছিলেন।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বাংলামেইলকে বলেন, ‘শুধু আমাদের দেশে নয়, বিশ্বের অন্য দেশগুলোতেও পরিবারের ভেতর থেকে রাজনীতিতে আসছে। উপযুক্ত হলে রাজনৈতিক দলের নেতার ছেলেমেয়েরা মাঠে-ময়দানে সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে অবশ্যই নেতৃত্বে আসতে পারেন। বেগম খালেদা জিয়া হয়তো প্রত্যাশা নিয়েই ‍রাজনীতিবিদদের পরিবারের সদস্যদের দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের এ সিদ্ধান্ত যে সঠিক, আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে তাদের সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে সেটা প্রমাণ ও কার্যকর হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাবা, চাচা রাজনীতি করেন বলে তাদের সন্তানরা সুযোগ পাবে না, এটি ঠিক নয়। সক্রিয় থাকলে যে কেউ রাজনীতি করতে পারেন। তবে একই পরিবারে একাধিক নেতা থাকলে অন্যরা পদ পাবে কী করে? এ ধরনের প্রশ্নও আসতে পারে। তবে এই প্রবণতাটা আমাদের দেশের জন্য নতুন কিছু নয়। এটা ঠিক, কোনো পরিবারে কোনো রাজনীতিবিদ থাকলে ওই পরিবার একটু এগিয়েই থাকে। সেক্ষেত্রে যারা অন্য পরিবার থেকে এসে রাজনীতি করতে চান, তাদেরকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে কিংবা বেশি শ্রম দিয়ে কার্যক্রমের মাধ্যমেই সামনে এগোতে হয়।’সূত্র-বাংলা মেইল

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4657493আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET