৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

পাহাড়ে নারী শিক্ষায় আলো ছড়াচ্ছে লামা উচ্চ বিদ্যালয়

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ১৪ ২০১৬, ১৫:২৪ | 669 বার পঠিত

14017948_1735703250015030_1409756190_nজাহিদ হাসান,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি এবং বাঙ্গালি নারী শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে অবহেলিত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নারী শিক্ষায় আলো ছড়াচ্ছে বিদ্যালয়টি। শুধু পড়ালেখা নয়; খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক, সাহিত্য চর্চা, বাহ্যিক জ্ঞানসহ শিক্ষামূলক নানা কর্মকাণ্ডেও এ বিদ্যালয়ের অবস্থান শীর্ষে। লামা শহরের প্রাণ কেন্দ্রেই বিদ্যালয়টির অবস্থান। অত্যন্ত নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে এখানে কোমলমতি ছাত্রীদের পাঠদান করানো হয়।

বিদ্যালয়ের সামনেই রয়েছে উপজেলা পরিষদ, নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এলাকার নারী শিক্ষাকে সামনে এগিয়ে নিতে ও গরীব অভিভাবকদের সুবিধার জন্য এগিয়ে চলেছে এ বিদ্যালয়। তবে বিদ্যালয়ে ছাত্রী হোস্টেল না থাকায় দূর-দূরান্তের ছাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে অভিভাবকরা জানিয়েছেন। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হলে অবহেলিত পাহাড়ি এলাকার নারী শিক্ষা আরও অগ্রগতি হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবালের উদ্যোগে মাত্র ১৮জন ছাত্রী নিয়ে এ বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু করে। তার এ উদ্যোগে নারী শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্দি করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন- উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মো. আলী মিয়া, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ইউনুছ, মরহুম এডভোকেট মোজাম্মেল হক, মরহুম আবদুর রশিদ ও আবু মুছা ফারুকী, লামা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আবদুল মালেক। বর্তমানে ছাত্রী সংখ্যা মোট ৬৫৭ জন। তাদের মধ্যে বান্দরবান সদর, রুমা ও থানছি উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের ৪০ জন গরীব ছাত্রী এ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। বিদ্যালয়ে ১৫ জন শিক্ষক ও ৬ জন বিভিন্ন স্তরের কর্মচারী কর্মরত আছেন। রয়েছে তিন একর জমি। এখানে কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞানারগার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ রুম ও লাইব্রেরি রয়েছে।

সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম যেমন- বিতর্ক, বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ও নানা শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় নিয়মিত এ বিদ্যালয়ে। ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি এমপিওভুক্ত হয়ে নিম্ন মাধ্যমিক ও একই সালের ১ জুলাই মাধ্যমিকের অনুমতি পায় বিদ্যালয়টি। বর্তমানে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত বিদ্যালয়টির ক্লাস কার্যক্রম চলে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএম ইমতিয়াজের নেতৃত্বে এমপিওভুক্ত আরও ১৪ জন ও খণ্ডকালীন একজন শিক্ষক প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান করে যাচ্ছেন। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় ২০১৫ সালে ১৪৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১৩০ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে চারজন। পাশের হার ৮৯ শতাংশ। এসএসসি পরীক্ষায় ৮৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৮০ জন কৃতকার্য হয়েছে। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুইজন, পাসের হার ৯২ শতাংশ। ২০১৬ সালের জাতীয় পর্যায়ে গ্রামীণ খেলাধুলায় স্কিপিংয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে বিদ্যালয়টি। ছাত্রীদের লেখাপড়ায় গতিশীলতা এবং আরও মনযোগী করে তুলতে আয়োজন করা হয়ে থাকে, মা ও অভিভাবক সমাবেশ। এছাড়া ছাত্রীদের বাহ্যিক জ্ঞান, প্রতিভা বিকাশ ও উদ্যোমী করে তুলতে দেওয়ালিকা প্রকাশ, বিতর্ক ও দাবা প্রতিযোগিতাসহ জাতীয় দিবসগুলো যথাযথভাবে পালন করা হয় এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

বিদ্যালয়টি সকল শিক্ষক তাদের মেধা, শ্রম ও আন্তরিকতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক গড়ে তুলতে ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বছরের প্রথম থেকেই শুরু করে পাঠদান কার্যক্রম ও পরিকল্পনা। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের স্ত্রী বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কর বিতরনী অনুষ্ঠানে একটি ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণের ঘোষণা দেন। এ প্রেক্ষিতে দুই কোটি টাকার প্রকল্প তৈরিপূর্বক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক একটি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব তৈরির কাজ চলমান। এছাড়া বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য চলতি বছরের ফ্রেব্রুয়ারিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর ডিওলেটারসহ আবেদন করা হয়। জাতীয়করণ করা হলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ও বাঙ্গালি সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা আরো বেশি সুযোগ-সুবিধা পাবে বলে বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।

এতে অবহেলিত ওইসব এলাকার অভিভাবকরা তাদের কন্যাসন্তানদের শিক্ষায় আরও আগ্রহী হয়ে উঠবেন। বিদ্যালয়ের ছাত্রী অভিভাবক আবদুল শহীদ ও মো. ইসহাক বলেন, উপজেলা সদর থেকে আমার বাড়ি ১০ কিলোমিটার দূরে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় সময়মত গাড়ি পাওয়া যায় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বেশিরভাগ সময় একেবারেই যাওয়া সম্ভব হয় না। বিদ্যালয়ে একটি ছাত্রী হোস্টেল করা হলে এ দুর্ভোগ লাঘব হত। বিদ্যালয়ে ছাত্রী হোস্টেল না থাকার কারণে দূর-দূরান্ত ছাত্রীদের ভোগান্তির সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক এএম ইমতিয়াজ জানান, এখান থেকে পড়াশোনা করে অনেক কৃতি ছাত্রী দেশবরেণ্য হয়েছেন। বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ করা হলে শিক্ষা বন্ধব পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমতো।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4516695আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET