১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

পা টিপে নেয়ার নামে ঘরে নিয়ে বলৎকার করতো হুজুর…???

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ২৩ ২০১৬, ১৬:৪৯ | 661 বার পঠিত

Rajshahi-logoকাওছার আহম্মেদ রাজশাহী প্রতিনিধি। ‘হুজুর প্রায় রাতেই হোস্টেলে আসতেন। পা টিপে নেয়ার নামে সব ছাত্রের সামনে থেকেই আমাকে তার ঘরে নিয়ে যেতেন। তারপর আমার সঙ্গে এসব করতেন। বাধা দিলে ক্লাশে আমাকে মারতেন। তাই মাদ্রাসায় পড়বো না বলে অনেক দিন বাড়ি পালিয়ে গেছি। কিন্তু বাড়িতে এসব কথা বলতে পারিনি বলে হেফজ করতে পারি না ভেবে আব্বাও আমাকে মারতেন।

তারপর আবার মাদ্রাসায় রেখে আসতেন। তারপর আবার হুজুর আমাকে নিয়ে যেতেন।’ রাজশাহীতে এভাবেই অধ্যক্ষের হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে এক মাদ্রাসা ছাত্র (১৩)। ঘটনাটি মহানগরীর ছোটবনগ্রাম এলাকার জামিয়া রহমানীয়া মাদ্রাসার। বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ডিউটি অফিসারের কৰে কথা হয় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে। সে জানায়, তার বাড়ি নগরীর ওয়াবদা কলাবাগান এলাকায়। জামিয়া রহমানীয়া মাদ্রাসায় সে হেফজ বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করত। এই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল জব্বার জিহাদী।

হাত-পা টিপে দেয়ার নাম করে অধ্যক্ষ প্রায়ই তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতেন। কখনও তার ঘরে, আবার কখনও আবাসিক ভবনের নিচতলায় মসজিদের ভেতর দিনের পর দিন তার ওপর এই পাশবিক নির্যাতন চলতো। সবশেষ গত ২২ রোজার রাতে তারাবীহ শেষে তাকে মসজিদে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেন অধ্যক্ষ। থানায় আসা ওই শিক্ষার্থীর বাবা জানান, মাদ্রাসায় পড়বে না বলে প্রায়ই তার ছেলে সেখান থেকে পালিয়ে আসত। তিনি ভাবতেন, তার ছেলে হয়তো কুরআন মুখস্ত করতে না পেরে পালিয়ে আসছে। তাই জোর করে তাকে তিনি আবারো রেখে আসতেন। সবশেষ গত ঈদে বাড়ি এসে এবার সে কোনোভাবেই মাদ্রাসায় যাচ্ছিল না। পরে বাধ্য হয়ে তাদের সব কথা খুলে বলে।

এরপরই তিনি থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন। শিক্ষার্থীর মা থানায় এসে ক্ষোভে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, ‘আমার ছেলের মতো কত ছাত্র নির্যাতিত হয় তার কোনো ঠিক নেই। এসবের প্রতিবাদ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমি আমার ছেলের সুষ্ঠু বিচার চাই’। এবিষয়ে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান জানান, অধ্যক্ষ আবদুল জব্বার জিহাদীর গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে। তার বাবার নাম ফকির মাহমুদ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভিকটিমকে সঙ্গে এনে তার বাবা-মা ওই অধ্যক্ষের নামে থানায় মামলা করেন। এরপরই রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বুধবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) বশির আহম্মেদ এর সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জিহাদীর রিমান্ডেরও আবেদন করা হবে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4659822আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET