২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-

পিতা-মাতার দ্বন্দ্বের বলি রুজেল-মামুন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : অক্টোবর ২৬ ২০১৬, ০০:৩০ | 663 বার পঠিত

নয়া আলো ডেস্ক-

স্ত্রী নুরমনিকে সন্দেহের চোখে দেখতেন ছাতির মিয়া। এ নিয়ে তাদের পারিবারিক বিরোধ ছিল তুঙ্গে। গেলো কয়েক বছর ধরে এই বিরোধের জের ধরে এক মাস পিত্রালয়ে ছিলেন ছাতির মিয়ার স্ত্রী। অভিযোগ ছিল- ছাতির মিয়া সব সময় স্ত্রীকে মারধর করে। এ কারণে স্ত্রীও তার কাছে আসতে চাচ্ছিল না। এলাকার লোকজন মধ্যস্থতা করে  অবশেষে তাকে স্বামীর বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। কিন্তু স্ত্রীর উপর ক্ষোভ কমেনি ছাতির মিয়ার। একটু চুন থেকে পান খসলেই লেগে যায় ঝগড়া। সংসার করলেও মনোমানিল্য চলছিলই। আর স্ত্রীর উপর রাগ করেই ফুটফুটে দুটি পুত্র সন্তানকে নির্মমভাবে খুন করল ছাতির মিয়া। খুনের ঘটনার পরপরই ছাতির মিয়া পালিয়ে গেছে। গতকাল সিলেটের ওসমানীনগর থানার ওসি আবদুল আউয়াল চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, এলাকাবাসীর বক্তব্যের সূত্র ধরে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে পিতা ছাতির মিয়াই দুটি সন্তানকে খুন করে পালিয়ে গেছে। ছাতির মিয়া কিছুটা বিকারগ্রস্ত বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন। ফলে স্পষ্ট ধারণা জন্মেছে পিতার হাতেই খুন হয়েছে দুটি শিশু। তবে, পুলিশ ছাতির মিয়াকে খুঁজছে। তাকে পেলেই পুরো ঘটনা পরিষ্কার হবে বলে জানান তিনি। দুটি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে শোকের অন্ত নেই সিলেটের ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জে। চিন্তামনি গ্রামটি দুটি উপজেলায় বিশেষভাবে পরিচিত। ওই গ্রামে নির্মম এ ঘটনায় দুটি উপজেলা জুড়েই ধিক্কার চলছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছাতির মিয়া সোমবার দুপুরের পর ১১ বছরের পুত্র সন্তান রুজেল মিয়া ও ৮ বছরের পুত্র সন্তান মামুন মিয়াকে নিয়ে গ্রামের পাশের হাওরে মাছ ধরতে যান। পিতার সঙ্গে দুটি সন্তান অনেকটা উৎসাহ ভরে মাছ ধরতে গিয়েছিল। কে জানতো মায়ের কাছ থেকে বিদায় হয়ে যাওয়া দুটি সন্তানের শেষ যাওয়া। ছাতির মিয়ার বড় পুত্র রুজেল মিয়া স্থানীয় চিন্তামনি গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ও মামুন মিয়া প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, বিকালের দিকে হাওর থেকে মাছ নিয়ে বাড়ি এসেছিল রুজেল মিয়া। মাছ রেখে   পৃষ্ঠা ১১ কলাম ৬
পুনরায় হাওরে চলে গেছে। যাওয়ার সময় মাকে বলেছে- সে পিতার সঙ্গে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেলেও তারা ফিরে না আসায় বাড়ির লোকজন তাদের খুঁজতে থাকে। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত ৮টার দিকে হাওরের একটি ডোবায় তারা রুজেল ও মামুনের লাশ দেখতে পান। গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন, দুটি সন্তানের মধ্যে মামুনের লাশ পানিতে ডুবেছিল। তবে তার মুখ ভেসেছিল। আর রুজেলের লাশ ছিল অর্ধেক পানিতে। স্থানীয়রা প্রথমে লাশ দেখার পর চিৎকার শুরু করেন। ছুটে যান ছাতির মিয়ার পরিবারের সদস্যরাও। তারা গিয়ে দুটি শিশুর লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে পুলিশ গিয়ে রাত ১০টার দিকে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এদিকে, পিতা ছাতির মিয়ার হাতে নৃশংসভাবে দুই সহোদর রুজেল ও মামুন খুনের ঘটনায় শোকের মাতম চলছে নিহতদের পরিবারে। এ ঘটনায় চিন্তামনি গ্রামসহ গোটা উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্তব্ধ হয়ে পড়েছে চিন্তামনি গ্রাম। বুকের মানিক দুই ছেলে সন্তানকে হারিয়ে একমাত্র কন্যা সন্তান তানজিনাকে বুকে নিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন নিহত রুজেল ও মামুনের মা নুরমিন বেগম। ছেলেদের শোকে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী রয়েছেন তিনি। এক সঙ্গে  একই পরিবারের দুই সহোদর আবার পিতার হাতে খুন হওয়ায় ঘটনাস্থল উপজেলার দয়ামীর ইউপির চিন্তামনি গ্রামসহ গোটা উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার রাত থেকে গতকাল সারা দিন পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমের কর্মীরা নিহতদের গ্রামের বাড়ি চিন্তামনিতে ভড়ি করেছেন। গতকাল দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে নিহত রুজেল ও মামুনের লাশ তাদের পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করেছে পুলিশ। গতকাল আছরের নামাজের পর জানাজার নামাজ শেষে নিহতের চিন্তামনি গ্রামের পারিবারিক কবরে তাদের লাশ দাফন করা হয়। দয়ামীর ইউপি চেয়ারম্যান এইচটি এম এম ফখর উদ্দিন জানিয়েছেন, এলাকার মানুষের মুখে শুনা যাচ্ছে শিশু দুটির পিতা ছাতির মিয়া তার ছেলেদের নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে ছেলে দুটি খুন করেছে। ছাতির মিয়াও পলাতক রয়েছে। ওসমানীনগর থানার ওসি আব্দুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, নিহত শিশুদের মা নুরমিন বেগম, ছাতিরের পরিবারের অন্য সদস্যরা, গ্রামবাসী ও ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী প্রাথমিক ভাবে ছাতির মিয়াই তার দুই পুত্রকে খুন করেছে বলে ধারণা। তদন্তে ঘটনার বিস্তারিত বেরিয়ে আসবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। কোনো কথাই বলতে পারছেন না নিহত দুই শিশুর মা নুরমনি বেগম। তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। আর রুজেল ও মামুনের নাম ধরে ধরে চিৎকার করছেন। তার কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। পুলিশ ও এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, দুটি লাশ পাওয়ার পর তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশেও ছিল আঘাতের দাগ। লাশ দেখে তারা ধারণা করেন- ধারালো অস্ত্রই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4729966আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET