১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

প্রধানমন্ত্রীর জন্য দুহাত তুলে দোয়া করলেন ইসমাইল হাজারী

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ১৩ ২০১৬, ০৩:১৩ | 658 বার পঠিত

fb_img_1473703107066শাখাওয়াত হোসেন :
 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দুহাত তুলে দোয়া করলেন ইসমাইল হাজারি। তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করলেন। বললেন আমি সরকারের জন্য দোয়া করি। নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করি। সরকার যেন বেঁচে থাকে।সোমবার সকালে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা’র কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ আমিন উল আহসানের দেওয়া অনুদানের ৫০০০ টাকা ইসমাইল হাজারীর হাতে তুলে দেওয়ার সময় এভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে কথাগুলো বললেন ৮০ উর্ধ্বো অসহায় বৃদ্ধ ইসমাইল হাজারী।  দোয়া করলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মোঃ আমিন উল আহসান ও ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা’র জন্য। আর যারা লেখনির মাধ্যমে তার খবর সরকারকে জানিয়েছেন তাদেরকে নিজের ছেলে আখ্যা দিয়ে তাদের জন্যও দোয়া করলেন। অনুদান প্রদানকালে নির্বাহি কর্মকর্তার সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জামাল উদ্দিন, বিআরডিবির এআরডিও গোলাম মোস্তফা,  ফুলগাজী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ সাহাব উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক লোকমান আলী বিএসসি সহ আমি ও প্রেসক্লাবের সংবাদকর্মীবৃন্দ।
ইসমাইল হাজারীর বাড়ী ছিল উপজেলার গোসাইপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত জাবেদ আলী হাজারি। একসময়ের প্রভাব- প্রতিপত্তিশালী ইসমাইল হাজারি আজ রিক্তহস্ত। শরীরের অবস্থা জির্ণশীর্ন। মানুষের দেওয়া দান দক্ষিণায় চলে তার সংসার। তবে কারো প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। একমাত্র ছেলে, পুত্রবধূ,  নাতি নাতনি ও স্ত্রী পারুল আক্তারকে নিয়ে কহুয়া নদীর বেরিবাঁধে বৈরাগপুর গ্রামের একটি টিনের চালায় তার বাস। ছেলে পিকআপ ভ্যানে বালু শ্রমিকের কাজ করেন।
এই ইসমাইল হাজারিকে নিয়ে কিছুদিন পূর্বে ফেইস বুকে পেইজে একটি আবেগপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয় আমি। যা পরবর্তীে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে উঠে। নজরে আসে জেলা প্রশাসক মোঃ আমিন উল আহসান, সমাজসেবার মহাপরিচালক গাজী কবির সহ অন্যান্যের। জেলা প্রশাসক ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহি অফিসারকে ইসমাইল হাজারীর খোঁজ নিতে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে নির্বাহি অফিসার ৮ সেপ্টেম্বর রবিবার মুঠো ফোনে ইসমাইল হাজারিকে খুঁজে পেতে তাঁকে সহযোগীতার অনুরোধ করেন। এরপর নির্বাহি অফিসার কিসিঞ্জার চাকমা, আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী জামাল, আমি ও স্থানিয় দুজন যুবক ভাইকে নিয়ে ইসমাইল হাজারিকে খুঁজতে বের হলাম।
বাকিটা নির্বাহি অফিসার কিসিঞ্জার চাকমা’র ফেইসবুক পেইজ থেকে হুবুহু তুলে ধরা হল

ইসমাইল হাজারীদের বাঁচিয়ে রাখা আজ বড়ই প্রয়োজনঃ
আজ বিকাল ৩টা।   মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এরই মধ্যে বৈরাগপুর যাবারসেতু পার হয়ে কহুয়া নদীর বেরী বাঁধের সংযোগস্থলে পৌছলাম। গাড়ি থেকে নেমে  সঙ্গীয় সহযোগীদের জিজ্ঞেস করলাম ” ইসমাইল সাহেবের বাড়ি কতদুর “?  জবাব এলো ৩ কিলোমিটারের কম হবে না।  “আপনি যেতে পারবেন না স্যার। খবর দিলে ইসমাইল সাহেবকেই আপনার অফিসে নিয়ে যাওয়া যাবে “। বললাম “আমার কোনো সমস্যা নেই। আমার সাথে হাঁটতে কারো কোনো সমস্যা নেই তো? লোকমান সাহেব আর শাখাওয়াত বললেন “কোনো সমস্যা নেই স্যার”। হাজী জামাল সাহেবও বললেন যে তিনিও প্রস্তুত। কাঁচা রাস্তা বৃষ্টিতে ভিজে প্রচন্ড পিচ্ছিল  হয়েছে। বেরী বাঁধটির খানিক পর পর ইটের খোয়া দিয়ে  সংস্কার করা হয়েছে। তবে  বাঁধের অধিকাংশ স্থানেই গর্ত। চাক্ষুষ দেখে মনে হলো এই বাঁধটি হয়তোবা দীর্ঘকাল ধরেই কহুয়া নদীর নিমর্মতার এবং এক মুনাফালোভী শ্রেনীর  অবহেলার স্বাক্ষী বহন করছে।  অযত্নের ছোঁয়া প্রায় সবখানেই। বাঁধের দু’ধারে সমাজের খেটে খাওয়া অগণিত মানুষের আশ্রয়ের দেখা মিলল।  বাঁধের কিনারে কোথাও একচালা টিনের ছাউনি। কোথাওবা নারকেলের শুকনো পাতা আর বাঁশ দিয়ে ঘেরা বেড়ার আদলে গড়া কাঠামো। যেন পথচারীদের বাঁকা চাহনি থেকে একটু আব্রু রক্ষার চেষ্টা! হাজারো নিরন্ন মানুষকে ধারণ করে প্রচণ্ড বৃষ্টিতে  আধো ভাঙ্গা ঘরগুলো যেন দাঁত কেলিয়ে আমাদের  চেয়ে চেয়ে তিরস্কারের হাসি হাসছে।

প্রায় পৌনে একঘন্টা হাঁটার পর বাঁধের বাঁ দিকে টিনের ছাউনি দেয়া ঘরের সন্ধান মিলল। হ্যাঁ, এটিই জনাব ইসমাইল হাজারী সাহেবের বর্তমান ঠিকানা। পথে যেতে যেতে ইসমাইল সাহেব সম্পর্কে যে কথাগুলো শুনছিলাম তাতে মনে দ্বিধা জাগাটাই স্বাভাবিক। এক কালের অঢেল ভূ-সম্পত্তির মালিক যিনি নিজেই অনেক নিরন্ন মানুষের অন্ন যোগানোর আর আশ্রয়হীনের মাথা গোঁজাবার ব্যবস্থা করতেন মর্মে জেনেছি। সময়ের পরিক্রমা আর কিছু অসাধু ব্যক্তির মনের খেয়ালে  এককালের অন্নদাতা আজ নিজেই নিরন্ন! আশ্রয়হীন বললেও ভূল হবেনা।  দিনে এনে দিনে খাওয়া ছেলের ঘরে থাকেন। ছেলে বউ নাতি নাতনিদের নিয়ে সুখের স্বপ্নের জাল বুনলেও দিনের অর্ধেকটা সময় কাটে বাকি অর্ধেক কিভাবে কাটবে এই ভেবে।  প্রায় ৫ কিলোমিটার হেঁটে ফুলগাজী বাজারে গিয়ে তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘোরেন। দু’হাত পাতেন।  যা পান তাই খুশি মনে এনে সবার সাথে ভাগাভাগি করেন। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই তাঁর।  যাঁরা বিনাদ্বিধায় হাত বাড়ান কেবল তাঁদের জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করেন!  বৃষ্টিভেজা উঠোনে যখন পৌছলাম , দেখলাম মহাপ্রাণ মানুষদের দেয়া টাকার নোটগুলো তিনি আপন মনে গুনছেন।  দুই টাকা! পাঁচ টাকা! সর্বোচ্চ দশ টাকার নোট। নাতি নাতনিরা তাঁর চারপাশে খেলা করছে। সালাম দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই তিনি নিজের আসনটি ছেড়ে দিলেন আগন্তকদের জন্য। ক্ষমা চেয়ে বললাম ” ব্যস্ত হবেন না। আপনিই বসুন।ঘরের মেঝেতে তাঁরই পাশে বসে বললাম ” চাচা, আপনাকে দেখতে এসেছি। সরকার আমাকে পাঠিয়েছে। ডিসি স্যার আপনার খোঁজ নিয়েছেন”। বিলম্বে খোঁজ নিতে আসার জন্য ক্ষমা চেয়ে বললাম “আপনি সরকারের কাছ থেকে কি চান আমায় বলুন “।  প্রতিউত্তরে যা শুনলাম তাতে আমি কিছুটা আশ্চর্যান্নিত হলাম। ” আমি সরকারের জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করি। আমি কিছুই চাইনা। আমি কেবল সরকারের জন্য দোয়া করি” । চাওয়া পাওয়ার সুযোগকে পাশ কাটিয়ে এমন নির্লোভ মনের প্রকাশ যিনি করতে পারেন তিনি সত্যিকার অর্থেই মহাপ্রাণ।

ইসমাইল সাহেবের সামনেই মোবাইলেজেলা প্রশাসক , ফেনী মহোদয়ের সাথে  কথা বললাম।  সবিস্তারে জানালাম।  স্যার সাথে সাথেই পাঁচ হাজার টাকা আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি ইসমাইল সাহেবের ইচ্ছে অনুযায়ী কি করা যায় তা জানাতে নির্দেশ দেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় আবাসনেরও আশ্বাস দেন।  ভূমিহীন হলে খাসজমি প্রদানের ব্যবস্থা করার জন্যও নির্দেশ দেন। যে কোনো ধরণের সহায়তা জন্য প্রশাসন প্রস্তুত মর্মে জানিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিতে বললেন।  সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয় কর্তৃক ঘোষিত ৫০০০/-টাকার আর্থিক অনুদানের খবরও দিলাম ইসমাইল সাহেবকে।  জবাবে তিনি বর্তমান ঠিকানাতেই থাকতে চান মর্মে আমাকে জানালেন।  সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের জন্য দুহাত তুলে দোয়া করলেন।   কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ের প্রতিও। এই বৃষ্টির মধ্যে তাঁকে দেখতে আসার জন্য আমাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতেও ভুললেননা। তাঁর পুত্রবধু  জানালেন যে তাঁর শশুর সরকারি সহায়তা হিসেবে বয়স্কভাতা নিয়মিত পেয়ে আসছেন।  জানালেন ঘরটির কিছু কিছু অংশে বৃষ্টিতে পানি পড়ে। মেরামতের প্রয়োজন। ছেলেমেয়েদের সুশিক্ষার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সরকারি সকল সেবা ও পরিষেবা  প্রাপ্তির বিষয়ে আশ্বস্থ করলাম। বুঝলাম ইসমাইল সাহেব কিছু না চাইলেও সময়ের একটি বিশেষ চাওয়ার আছে। আর তা হলো নির্লোভ প্রবীন এই মানুষটিকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সমাজেরই স্বার্থে।

ধন্যবাদ জানাচ্ছি শাখাওয়াত সাহেবকে যিনি Facebook এ তাঁর  Master Shaka আইডি’র মাধ্যমে  বিষয়টি সকলের নজরে এনেছেন। ধন্যবাদ জানাচ্ছি ফুলগাজী প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি লোকমান সাহেবকে যিনি ইসমাইল সাহেবের বাড়ি খুঁজে পেতে ও শাখাওয়াত সাহেবের সাথে যোগাযোগ করতে কেবল সহযোগিতাই নয় আমার সহযাত্রীও হয়েছেন।  প্রবীন রাজনীতিবিদ হাজী জামাল উদ্দীন সাহেবকেও  অসংখ্য ধন্যবাদ  যিনি এই বৃদ্ধ বয়সেও বৃষ্টি আর কর্দমাক্ত পথ উপক্ষো করে আমাদের  সকলের সাথে সহযাত্রী হয়েছেন।  আর অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ফেনীর জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ আমিন উল আহসান স্যারকে যিনি ইসমাইল সাহেবের সকল ধরণের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে ফুলগাজী প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদানসহ উদ্ধুদ্ধ করেছেন এবং বিষয়টি নজের আসার সাথে সাথেই জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে  আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন।  ইতোমধ্যে প্রবাসীসহ যেসকল শুভানুধ্যায়ী সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন তাঁদের  ভাল কাজের সহযাত্রী হবার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।  সকলের আবেগ বুঝতে পারছি।  সকলের চাওয়া একটাই! আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাঁচিয়ে রাখা হোক একটি নির্লোভ প্রাণকে যাঁদের বেঁচে থাকা আজ বড় প্রয়োজন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4659952আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 4এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET