২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

প্রবৃদ্ধির জন্য চাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১৯ ২০১৬, ১৭:৩৫ | 716 বার পঠিত

বিরোধীদল বিএনপির অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের নতুন বছর। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন আ.লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।
Bangladesh_240-animated-flag-gifs
১৯৯১ সালে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পর এটাই প্রথম নির্বাচন, যা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত না হয়ে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হল।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ২০১৫ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির কিছু সময় উৎপাদন, পরিবহন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করেছিল। বিরোধীদল আহূত অবরোধের কারণে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল না।

রাজনৈতিক অস্থিরতা স্বত্ত্বেও ২০১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি অর্জিত হয়েছে ৬.৫% যা বিগত বছরের তুলনায় ০.৪% বেশি। যদিও সরকারের ধার্য্যকৃত লক্ষ্যমাত্রা ৭.৩% থেকে তা অনেক কম। ২০১৫ সালের বাকি সময়গুলো রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকায় এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকলেও, এখনো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর হয়নি। ক্ষমতাসীন দল যত শক্তিশালী হয়ে উঠছে, বিরোধী দলগুলো ততই দুর্বল হয়ে পড়ছে কিন্তু এরপরও বিনিয়োগকারীরা সতর্ক। ২০১৫ সালের বাজেটে অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার কয়েকগুণ কম বিনিয়োগ এসেছে বাংলাদেশে। ২০১৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বেসরকারী বিনিয়োগের অবদান বিগত অর্থবছরের তুলনায় মাত্র ০.১% বেশি। ২০১৫ অর্থবছরে বিনিয়োগ হয়েছে মোট জিডিপির ২৯% যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২৯.৭% এর চেয়ে কম।

সরকারী বিনিয়োগ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রা থেকে ০.৬% কম। এর কারণ বার্ষিক উন্নয়ন প্রোগ্রামের ধীরগতির বাস্তবায়ন। ২০১৫ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে গতবছর একই সময়ের তুলনায় ১.৫% কম এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। বিশ্ববাজারে খাদ্য, সার ও তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সরকারি ভর্তুকি ও খরচের পরিমাণ কমেছে। কিন্তু চিন্তার কারণ হল, দেশের অবকাঠামো যথেষ্ট উন্নত না হওয়ায় বেসরকারী বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না।

প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক আয় কম হওয়ায় বেসরকারী ক্ষেত্রে ব্যয়ের পরিমাণও কম হয়েছে। এবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে বৈদেশিক আয় প্রায় ০.৯% কম হয়েছে, যদিও এটি ২০১৫ অর্থবছরে প্রায় ৭.৬% বৃদ্ধি পেয়েছে।

রপ্তানি হার প্রায় সারা বছরই উঠানামা করেছে তবে বিগত কয়েকমাস যাবৎ এই হার উর্দ্ধমুখী। তৈরি পোশাক খাত বিশ্ববাজারে তার অবস্থান ধরে রেখে দেশের মোট বৈদেশিক আয়ে প্রধান খাত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই খাতে খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে অব্যাহতভাবে। প্রযুক্তিগত উন্নতি ও শ্রমিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে এই খাতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে।

সরকারের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো দেশীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জিডিপিতে ট্যাক্স ও রাজস্বের অবদান সর্বনিম্ন। লক্ষ্যহীনতার কারণে সরকার রাজস্ব ও ট্যাক্স কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রায় আদায় করতে ব্যর্থ হচ্ছে। রাজনৈতিক বিপর্যয় ও আমদানি শুল্ক হ্রাস করার কারণে রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি আপাতত মাথাব্যথার কারণ নয়। বিশ্ববাজারে মূল্য হ্রাস, সংযত আর্থিক প্রবৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলার ও টাকার স্থির বিনিময় হারের জন্য মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাচ্ছে। যদি এই ধারা চলতে থাকে তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি ৬.২% এ নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জিত হবে। তবে খাদ্যদ্রব্য বহির্ভুত মূল্যস্ফীতি এখনো যথেষ্ট চিন্তার কারণ।

সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলেও অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে। বিগত ৩ দশকে বাংলাদেশ প্রত্যেক দশকে ১% করে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। শিল্প, সেবা ও কৃষিক্ষেত্রে সাফল্য সাম্প্রতিক বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বারবার বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার গতিকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে।

দারিদ্র্য দূরীকরণ, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, জীবনযাত্রার মানবৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের মাথাপিছু আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে উচ্চ বেকারত্বের হার যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ।

যথাযথ আর্থিক নীতি প্রণয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নতির এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারে। তবে এসবের আগে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হবে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তরণ ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4498983আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 7এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET