৪ঠা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রজব, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

বাগমারায় মা ও ছেলে হত্যার আসামীরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে ।

হুমায়ন আরাফাত, আশুলিয়া করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : মে ১৮ ২০১৭, ২১:৩১ | 617 বার পঠিত

নাজিম হাসান,রাজশাহী :

রাজশাহীর বাগমারায় নিজ বাসায় মা ও ছেলেকে জবাই করে হত্যার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আজও আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। গত ২৩ নভেম্বর ২০১৪ সালে রাতের কোন এক সময়ে মা আকলিমা বেগম ও ছেলে জাহেদুল ইসলাম জাহিদকে জবাই করে হত্যা করা হয়। এদিকে পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ বলে দাবি করছেন মামলার বাদী নিহতের বড় ছেলে দুলাল উদ্দিন। একটি মহল ঘটনাটি আড়াল করতে একাধিক পুলিশ প্রশাসনের পরিবর্তন এনেছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। জোড়া খুনের সেই মামলাটি গত ৫ নভেম্বর রাজশাহী পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিকেশন বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাগমারায় এক সাথে দুই জন ব্যক্তিকে জবাই করে হত্যার ঘটনা এটাই প্রথম। তবে ঘটনার পর থেকে এখনও কোন আলামতের মাধ্যমে এই হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত সেটা উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন। জানা যায়, উপজেলার দেউলিয়া গ্রামের মজিবর মেম্বারের স্ত্রী আকলিমা বেগম । প্রায় ২০ বছর আগে তার স্বামী মারা যায়। সম্প্রতি এক মেয়ে ও এক ছেলের বিয়ের পর আকলিমা তার ছোট ছেলে রাজশাহী কলেজের মার্স্টাস শেষ বর্ষের ছাত্র জাহেদুল ইসলাম জাহিদকে নিয়ে মুল বাড়ি থেকে অদুরে মাঠের মধ্যে উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ ও রাজশাহী জেলা শহরে সাথে সংযোগ সড়কের চৌরাস্তার নিকটে একটি বিলাসবহল বাড়ি নির্মান করে উভয়ে বসবাস করতেন। গত ২৩ নভেম্বর দুর্বৃত্তরা নিজ বাসায় মা ও ছেলেকে জবাই করে হত্য করে। পরে ২৪ নভেম্বর বাগমারা থানায় ৪ জন কে আসামী ও অজ্ঞাত নামে আরো কয়েক জনকে আসামীকরে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার ১নং আসামী হলেন উপজেলার তেলিপুকুর গাঙ্গোপাড়া গ্রামের চঞ্চল এর ছেলে শুভ(২২), ২নং আসামী একই উপজেলার দেউলা গ্রামের জালাল ছেলে মিন্টু(২৮),৩ নং আসামী একই গ্রামের মৃত- রফাতুল্ল্যাহ এর ছেলে জাবেদ আলী(৫০),৪নং আসামী দেউলা গ্রামের মৃত আবেদ আলীর ছেলে বিপুল(২৮)। মামলার দিন ২ নং আসামী মিন্টুকে ধরতে এসে তাকে না পেয়ে তার ছোট ভাই সান্টুকে আটক করে জেলে প্রেরণ করে পুলিশ। পরে সান্টু জড়িত না থাকায় তাকে জামিন দেয় আদালত। এদিকে রাজশাহী মেডিকেলে লাশ দুটি ময়না তদন্তের ঘটনায় মেডিকেলের ৪ জন ডোম নিহত আকলিমর বুকের ভেতরে রাখা মোবাইল ফোনটি পাওয়ায় কিছুদিন পরে সেই মোবাইল সহ চার ডোমকে আটক করে পুলিশ। সেই চার ডোমোর মধ্যে বর্তমানে ৩ জন জামিনে বের হলেও এখনও একজন জেল হাজতেই আছেন। নিহতের বড় ছেলে দুলাল উদ্দীনের দাবি পুলিশের গাফিলতির কারনে গ্রেফতার হয়নি মা ও ভাইয়ের খুনের কোন আসামী। সে আরো দাবি করে ১ বছরে একই মামলা তদন্তের জন্য পরিবর্তন করা হয়েছে ৩ জন তদন্ত কর্মকর্তা। দুলাল উদ্দীন বলে হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে যাদেরকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে তারা এলাকাতে চলাফেরা করলেও পুলিশ তাদেরকে দেখেও না দেখার ভান করে । যার ফলে মা ও ছেলের খুনের আসামীদের ধরতে পারছেন না পুলিশ। খুনের ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর প্রথমে এই মামলাটির তদন্ত ভার দেওয়া হয় সে সময়ের বাগমারা থানার ওসি তদন্ত মাসুদ রানাকে। তিনি গাফিলতি ও মোটা অংকের অর্থ নিয়ে আসামী না ধরে পাশবর্ত্তী থানা মোহনপুরে বদলী হয়ে সেখানে বর্তমানে ওসি হয়ে রয়েছেন।এছাড়াও ওসি তদন্ত মাসুদ রানা বাগমারা থানায় থাকা কালিন তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এব্যাপারে মোহনপুর থানায় যোগাযোগা করা হলে তিনি থানায় তার বক্তত্য পাওয়া যায়নি।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4397665আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 0এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET