এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট অফিস :
বাগেরহাটের শরণখোলায় ক্ষুরারোগে শতশত গবাদিপশু আক্রান্ত হওয়ার পর সেখানকার প্রাণিসম্পদ দপ্তর তা নিয়ন্ত্রনে সর্বাত্মক ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে। সেখানে কর্মরতদের ছুটি বাতিল করে বাগেরহাট জেলার ৫টি উপজেলা থেকে ৬ জন ভেটেরিনারী মাঠ সহকারী এবং জেলা সদর ও মোড়েলগঞ্জ থেকে ২ জন ভেটেরিনারী সার্জন (ভিএস) কে শরনখোলা উপজেলার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। টিকার সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। এ কাজে ৩ সদস্য বিশিষ্ট ৬টি টিম গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রানিসম্পদ অধিদপ্তরের ইপিডিনিওলজী ইউনিট এর উপ-পরিচালক ডাঃ বশীর আহম্মদ, কেন্দীয় প্রানিসম্পদ গবেষনাগার এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডাঃ প্রান গোপাল দত্ত, প্রানিসম্পদ গবেষনাগার থেকে উষা জামান, বাগেরহাট জেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুজ্জামান খাঁন, প্রানিসম্পদ অধিদপ্তরের খুলনা ও যশোর অঞ্চলের বিভাগীয় উপ-পরিচালক কল্যান কুমার ফৌজদার এবং প্রানিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সম্প্রসারন) ডাঃ হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক গত ৫ এপ্রিল থেকে এই রোগের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন ও বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্প করে গবাদি পশুকে টিকা ও চিকিৎসা দিচ্ছেন। ফলে পরিস্থিতি এখন খুবই স্বাভাবিক এবং তা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে- এমনটাই দাবী করছেন সেখানকার কর্মকর্তারা। সূত্র জানায়, এ উপজেলায় সম্প্রতি ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকটি গরু মারা যায়। বানিয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা কামরুল শিকদার, মন্টু শিকদার, শফিকুল, সেলিম খান, হুমায়ুন ও মাওলানা ইব্রাহিমের ১১টি গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। খেজুরবাড়িয়া এলাকার ইউপি সদস্য নাছির হাওলাদার জানান, তার এলাকায় ক্ষুরারোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ওই এলাকার মাস্টার সাইদুর রহমান, মনির হওলাদার, আলমগীর মাতুব্বার, হাসান ফরাজী, বাবুল শিকদার, বেলাল আকন, নুরুল হক, মজিবর, মালা বেগমের কমপক্ষে ৩০টি গরু মারা গেছে বলে তিনি দাবী করেন। রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর কদমতলা গ্রামের খামারী আসলাম হোসেন বলেন, তার ১৩টি গাভী গরুর মধ্যে ১১টি ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়েছে। পশ্চিম খাদা গ্রামের কৃষক সোবাহান জোমাদ্দারের ২টি বাছুর, মালিয়া রাজাপুর গ্রামের সাখাওয়াত হাওলাদারের ১টি বাছুর মারা গেছে বলে জানা যায়।
অপরদিকে ক্ষুরারোগে গরু আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করে উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বেশ কয়েকটি গরু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, তবে তার সংখ্যা সব মিলিয়ে অর্ধশত হতে পারে। সম্প্রতি এর সংখ্যা কয়েক শত উল্লেখ করে পত্র পত্রিকায় খবরও প্রকাশিত হয়েছে, যা আসলে বাস্তব সম্মত নয়। এ ধরনের খবরকে ¯্রফে গুজব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলেন, এমন গুজব গরুর খামারী- চাষীদের মাঝে রীতিমত ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। পাশাপাশি বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বছরের এই মৌসুমে সাধারনত গরুর ক্ষুরা রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। প্রতিষেধক হিসেবে শরণখোলা উপজেলা প্রানিসম্পদ দপ্তর প্রতি বছর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এ বছর বৈরি আবহাওয়ার কারনে এ উপজেলায় ক্রমবর্ধমান ভাবে হঠাৎ এ রোগের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া ভারতীয় রোগাক্রান্ত গরু ঢুকে পড়ায় এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এলাকায় কিছু গরুর বাচ্চার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নানাবিধ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে প্রানিসম্পদ দপ্তর। শরণখোলা উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আলাউদ্দিন মাসুদ জানান, ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গরুর সংস্পর্শে ভাল গরুও সংক্রামিত হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি শরণখোলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে কর্মরতদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও তার নেতৃত্বে বাগেরহাট জেলার কচুয়া, মংলা, চিতলমারী, ফকিরহাট, মোড়েলগঞ্জ থেকে ৬ জন ভেটেরিনারী মাঠ সহকারী (ভিএফএ) এবং বাগেরহাট সদর উপজেলার ইব্রাহিম আল মামুন এবং মোড়েলগঞ্জের জি এম আব্দুল কুদ্দস সহ ২ জন ভেটেরিনারী সার্জন (ভিএস) কে অত্র উপজেলার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। টিকার সরবরাহ বাড়িয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ঠ ৬ টি টিম করে বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্প করে গবাদি পশুকে টিকা দেয়া হচ্ছে। এখন পরিস্থিতি খুব স্বাভাবিক ও আমাদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এছাড়া কৃষক, খামারী এবং এলাকাবাসিকে সচেতন করা হচ্ছে। জানতে চাইলে বাগেরহাট জেলা প্রনিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুজ্জামান খাঁন বলেন, আমরা আক্রান্ত গরুগুলোকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দিচ্ছি। যেগুল আক্রান্ত হয়নি সেগুলোকে ভেকসিন করা হচ্ছে। আর নতুন করে কোন গরু এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেনা। এ বিষয়ে প্রানিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সম্প্রসারন) ডাঃ হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক জানান, আমরা আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। পর্যাপ্ত ঔষধ পত্র ও ভেকসিনের সরবরাহ বাড়িয়েছি। তবে এলাকার সকল গবাদিপশু সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই মেডিকেল টিম মাঠে খাববে বলে জানান এই পরিচালক। তারিখঃ ০৮/৪/২০১৮ ইং









