২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

বাল্যবিয়ে বাড়ছে জীবননগরে

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ২৪ ২০১৬, ১৩:২৭ | 767 বার পঠিত

1472016115সাদ্দাম হোসেন,জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা : জীবননগর উপজেলায় শুধু বাল্যবিয়ের কারনেই প্রতিবছর ৩০ শতাংশ কিশোরী মা ও ৭৫ শতাংশ শিশু অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। বাল্যবিয়ের কারণে এসব অপুষ্ট কিশোরী মায়েরা শতকরা ৪৫ ভাগ কম ওজন ও খর্বাকৃতির শিশুর জন্ম দিচ্ছে এবং এই অপরিণত বয়সে মায়েরা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু ঝুঁকির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সের মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে বেশি। শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে উপজেলার অধিকাংশ বাবা-মা তাৎক্ষণিক সুবিধা লাভ বা অসুবিধা দূর করতে পরবর্তী সমস্যা ও অসুবিধা সম্পর্কে চিন্তা না করেই মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দিচ্ছেন। অজ্ঞ অভিভাবকরা মেয়েদের দ্রুত বিয়ে দেওয়াকে দায়িত্ব মনে করছেন। এছাড়া ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, ইভটেজিং, জনসচেতনতার অভাব, দারিদ্রতা, অশিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার কারনেই গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিয়েগুলো বেশি হচ্ছে। এর প্রভাবে বেড়েছে পুষ্টিহীন ও প্রতিবন্ধী শিশু প্রসব এবং গর্ভজনিত ও অপুষ্টি জনিত মত্যু।
দেহাটি গ্রামের আদিবাসী পল্লীর অপুষ্টির শিকার ১০-১২ জন মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সবারই ১১-১২ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছে এবং প্রত্যেকেরই ৩-৪টি করে শিশু সন্তান রয়েছে। তাদের দাবি, অভাবের কারনে খাদ্যের দু®প্রাপ্যতার জন্যে আদিবাসী শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে। এসব আবিদাসী অধিকাংশ শিশুদের চেহারা বেটে, কোনটা ক্ষীনকায়, কোনটার পেট বড় এবং মায়েরা সবাই হাড্ডিসার শুন্য। বাল্যবিয়ের কারণেই মা ও শিশুদের সবাই চরম অপুষ্টির শিকার এবং অপরিণত বয়সে মা হওয়ার কারনে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েয়ে এরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, অপুষ্টির শিকার ২০-২৫ জন মা ও শিশু প্রতিদিন পুষ্টি কর্ণারে চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মায়েরাই বাল্যবিয়ের কারণে অপুষ্টিতে ভুগছে। উপজেলায় বর্তমানে শূন্য থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে সাড়ে ১৮ হাজার। এর মধ্যে বাল্যবিয়ে জনিত কৈশোরে গর্ভধারণ ও অপুষ্টির কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু বয়স অনুযায়ী কম ওজন সম্পন্ন, ১৫ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতি এবং ২০ শতাংশ শিশু ক্ষিণকায়। তাঁর মতে, বাল্যবিয়ের শিকার ১২ থেকে ১৫ বছরের বয়সের এই কিশোরীরা বিয়ের পর গর্ভধারণ করলে দু’ ধরণের সমস্যা হয়। একদিকে গর্ভবতী কিশোরী মা অপুষ্টি এবং নানা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। অপরদিকে তিনি যে সন্তান জন্ম দেন সেও অপুষ্টির শিকার হয়। এছাড়া অধিকাংশ কিশোরি মায়েরা ব্রেস্ট ফিডিং সম্বন্ধে তেমন কিছুই জানেন না। কিশোরি মায়েরা সন্তান প্রসবের পর অসুস্থ্যতার কারণে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারে না। ফলে জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে নবজাতককে বুকের দুধ না খাওয়ানোর কারণেও অনেক শিশুরই মৃত্যু ঘটে। এ কারনে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা গেলে অনেক শিশুর অনাকাক্ষিত মৃত্যু রোধ করা যাবে।
Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4645636আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 8এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET