২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

বিচারপতি অপসারণের আইন হবে ‘সংবিধানপরিপন্থী’

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২৮ ২০১৬, ০০:২৪ | 654 বার পঠিত

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিচারক (তদন্ত) আইন-২০১৬ পাস হলে তা সংবিধানপরিপন্থী হবে। এটি স্বাধীন বিচারকার্য পরিচালনায় বাধার সৃষ্টি করবে।
mahabub uddin
বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বারের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এটি পাসের মাধ্যমে সরকার পুরোপুরি বিচারপতিদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এই পুরো প্রক্রিয়াটিই ভীতিকর। চাপ সৃষ্টি করার জন্য, ন্যায়বিচার যেন না করতে পারে, সরকারের বিপক্ষে যেন রায় দিতে না পারে—এ জন্য এমন একটি আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই আইন পাস করার আগে জনমত যাচাই করা উচিত। এ ব্যাপারে যাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, অর্থাৎ, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সিনিয়র আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মাহবুব উদ্দিন বলেন, বিচার বিভাগ আমাদের সংবিধানের একটি মৌলিক স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত। এই আইন পাস হলে তা আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে আঘাত করবে।

এই আইনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের ওপর সরকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই আইনটির মাধ্যমে সরকার বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এই আইনটি অপব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিচারপতিরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। বিচারপতিরা হয়তো সম্মানজনকভাবে বিদায় নিতে পারবে না।’

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘সংসদের হাতে ক্ষমতা দিতে হলে সংসদ সদস্যদেরও আচরণবিধি থাকতে হবে। কারণ সংসদ সদস্যদেরও অনেকেই আইনজীবী হিসেবে আদালতে প্রাকটিস করেন। তাই আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত ওই সংসদ সদস্যের বিপক্ষে গেলে সংসদে গিয়ে বিচারকের বিরুদ্ধে এই আইনের অপব্যবহার করতে পারেন।’

তিনি বলেন, তাছাড়া তদন্ত কমিটিতে এটর্নি জেনারেল থাকায় তদন্ত প্রভাবিত হবে। আর একজন নাগরিককে তদন্ত কমিটিতে রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু সেই ব্যক্তি কে হবেন, এর কোনো বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা হয়নি। তাই তদন্ত কমিটিতে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের আইন বা নীতিমালা প্রণয়নের দাবির সঙ্গে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে বিচার বিভাগ সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান মাহবুব উদ্দিন খোকন।

পরে এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং আওয়ামীপন্থী আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৯৭২ সালের সংবিধানেও এই বিধানটি ছিল। কিন্তু তখন কোনো বিচারককে অপসারণ করা হয়নি। সরকারী প্রত্যেক কর্মকর্তাদের আচরণবিধি আছে। সুতরাং এই ধরনের তদন্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করবে বলে আমি মনে করি না। তাছাড়া আইনটি মন্ত্রিসভায় মাত্র নীতিগত অনুমোদন হয়েছে। এখনো অনেক প্রক্রিয়া বাকি আছে। সংসদে পাশ হওয়ার পরও এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে।’

গত ২৫ এপ্রিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিচারক (তদন্ত) আইন-২০১৬-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা অসামর্থ্য-সম্পর্কিত কোনো অভিযোগ জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে দাখিল করতে হবে। ১০ জন সাংসদকে নিয়ে স্পিকার একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ করবেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে স্পিকার বিষয়টি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির কাছে পাঠাবেন।

তদন্ত গোপনে করতে হবে। প্রাথমিক তদন্ত শেষ করতে হবে সাত দিনের মধ্যে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন সাবেক একজন প্রধান বিচারপতি বা আপিল বিভাগের একজন সাবেক বিচারপতি। এ ছাড়া ওই কমিটিতে সাবেক একজন অ্যাটর্নি জেনারেল এবং একজন সম্ভ্রান্ত নাগরিককে রাখার কথা বলা হয়েছে।

তদন্ত-প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত ফলাফল জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। এরপর সংবিধানের ৯৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারককে অপসারণ-সংক্রান্ত প্রস্তাব জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গ্রহণ করতে হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি ওই বিচারককে অপসারণ করবেন। আইনে অভিযুক্ত বিচারকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখা হয়েছে। কেউ ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক অভিযোগ করলে দুই বছর এবং অনূর্ধ্ব পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4325483আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET