১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • রাজনীতি
  • বিরোধী দলকে নির্মূল করার প্রচেষ্টা কখনো শুভ বয়ে আনবে না: মির্জা আলমগীর

বিরোধী দলকে নির্মূল করার প্রচেষ্টা কখনো শুভ বয়ে আনবে না: মির্জা আলমগীর

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ০৪ ২০১৬, ০১:২৫ | 658 বার পঠিত

FNS03082016N-31নয়া আলো ডেস্ক- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, ‘‘ এটর্নি জেনারেল সাহেব জনাব মাহবুবে আলম উনি আদালতে বলেছেন যে উনি ব্যক্তিগতভাবে অস্ট্রিয়া গেছেন। সেখানে গিয়ে উনি( মাহবুবে আলম) খবর এনেছেন যে, পাওয়ার অব এর্টনি হোল্ডার বাড়িটি রেজিষ্ট্রি করার কয়েকদিন আগে মারা গেছেন। এটা এটর্নি জেনারেল ব্যক্তিগত উদ্যোগে কারণে এই মামলা করে আজকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে তার বাড়ি থেকে বের দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ উনি (মওদুদ আহমদ) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।” আর এ রায় বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার সরকারের ‘নীল নকসা’র অংশ বলে মনে করে বিএনপি।

বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘‘ ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেবের বাড়ির মামলার রায় প্রমাণ করলো যে তাদের(সরকার) মূল লক্ষ্য হচ্ছে- তারা জঙ্গিবাদকে নির্মূল করা নয়, গণতন্ত্রকে পূনঃপ্রতিষ্ঠা করা নয়, নির্বাচন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু করা নয়, মানুষের আয়-রোজগার বাড়ানোর দিকে নয়, অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়।” ‘‘ তাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে- ক্ষমতায় টিকে থাকা। সেটা যে করেই হউক বিরোধী দলকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে যদি হয়, তাতেও তাদের এতটুকু দ্বিধা নেই এবং তা তারা করে চলেছে। তারা মামলা-মোকাদ্দমা দিয়ে বিএনপিকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। আমরা সরকারের এই প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”

অবিলম্বে এই ‘ভয়াবহ’ পথ থেকে সরে এসে ‘গণতন্ত্রের পথে’ ফিরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহবানও জানান ফখরুল।

‘‘ জাতির এই সংকটময় মুহুর্তে যখন জাতি একটা ভয়াবহ সংকট মোকাবিলা করছে এই উগ্রবাদ ও সন্ত্রাবাদের সংকট। সেই সংকটের মূহুর্তে একমাত্র কাজ হচ্ছে-গোটা জাতির ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংকটের মোকাবিলা করা। তখন বিরোধী দলকে নির্মূল করার এই প্রচেষ্টা কখনো কোনো শুভ বয়ে আনবে না এবং তা সমস্যার সমাধান করবে না।”

মির্জা আলমগীরবিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের গুলশান-২ নম্বর সেকশনের ১৫৯ নম্বর প্লটের বাড়ি যা তার ভাই মনজুর আহমেদের নামে মিউটেশন (নামজারি) ও ডিক্রি জারি করতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ বাতিল করে।

হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাজউকে ও রাষ্ট্রপক্ষের করা তিনটি আপিল মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রায় দেয়।

পাশাপাশি ওই বাড়ি নিয়ে দুদকের মামলায় অভিযোগ আমলে নেওয়াকে বৈধতা দিয়ে হাই কোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে মওদুদ ও তার ভাইয়ের করা লিভ টু আপিলও সর্বোচ্চ আদালত নিষ্পত্তি করে দিয়েছে। ফলে মামলাটি বাতিল হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে মওদুদের বিরুদ্ধে সরকারি বাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলাও আর টিকছে না।

বিএনপির জামায়াত সঙ্গ ছাড়ার বিষয়ে ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ যে বক্তব্য দিয়েছেন তা তার নিজস্ব বলে মন্তব্য করেন দলের মহাসচিব।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ জামায়াত প্রসঙ্গে সম্প্রতি যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।

ঢাকা সেনানিবাসে শহীদ মইনুল সড়কের জিয়াউর রহমানের সরকারের বরাদ্ধ দেয়া বাড়ি বাতিলের প্রসঙ্গে টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘এই সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অত্যন্ত সচেতনভাবে ও সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধী দল ও মতকে নির্মূল করবার জন্য নীল নকশা তৈরি করে তা বাস্তবায়নে এগিয়ে চলেছে। এরই অংশ হিসেবে তারা(আওয়ামী লীগ সরকার) তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেআইনিভাবে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।”

‘‘ যে বাড়িটি তিনি( খালেদা জিয়া) পেয়েছিলেন, স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাহেবের শাহাদাৎ বরণ পরে। যে বাড়িটি সেনাবাহিনী তাকে বরাদ্ধ করেছিলো, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে।”

তিনি বলেন, ‘‘ বিরোধী দলকে নির্মূল করার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১/১১ পরে যেসব মামলাগুলো হয়েছিলো, সেগুলো আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিরুদ্ধে ছিলো। দেখা গেলো যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তাদের প্রায় ১০ হাজার মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কেবল তাই নয়, আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর কিছু দুর্নীতির মামলা তুলে নেয়া হলো।”

‘‘ আর বিএনপির সব মামলাকে সচল রাখা হলো। আবার নতুন করে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেয়া হলো। কেবল তাই নয়, আমাদের দলের সিনিয়র ভা্ইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দেয়া মামলায় জজ কোর্ট তিনি খালাস পেয়েছিলেন, সেই মামলায় উচ্চ আদালতে তাকে ৭ বছর সাজা দেয়া হলো। সর্বশেষ ঘটনা ঘটলো বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যার স্বাধীনতা যুদ্ধে অপরিসীম অবদান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বাড়ির মামলা আপীল বিভাগ — —। সরকার সুপরিকল্পিতভাবে এটা করেছে।”

ফখরুল বলেন, ‘‘ সরকারের উদ্দেশ্য একটা বিরোধী দলকে পঙ্গু করে দেয়ার জন্য, দূর্বল করে দেয়ার জন্য, নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য এই কৌশলগুলো নিয়েছে। এভাবে মামলা-মোকাদ্দমা দিয়ে তারা বিএনপিকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার নীলনকশায় নেমেছে।”

জঙ্গিবাদ দমনের সরকারের কোনো আন্তরিকতা নেই অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ বিএনপি চেয়ারপারসন একজন দেশপ্রেমিকের মতো সমস্ত দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে যে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, সেটাকে সরকার বিদ্রুপ করছে। শুধু তাই নয়, তারা এখন জঙ্গিদের ধরার নাম করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। প্রথম দফায় তারা ১৬ হাজার গ্রেপ্তার করেছে।”

‘‘ গুলশান-শোলাকিয়া-কল্যাণপুরের ঘটনার পর থেকে তারা আবারো বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা শুরু করেছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে- যাদেকে পুলিশ ধরছে সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে তাদেরকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ না করে অথবা আদালতে বিচারে না এনে অধিকাংশকে ৯০% কে ক্রসফায়ার অথবা গান ব্যাটেলের নাম করে হত্যা করা হয়েছে। এই বিষয়গুলোর ফলে জনগনের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে যে, সরকারের কতটুকু আন্তরিকতা আছে সত্যিকার অর্থেই জঙ্গিবাদের শেকড়টা খুঁজে বের করবার ও জঙ্গিবাদকে নির্মূল করবার।”

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, ‘‘ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ৩৭ বছর এই বাড়িতে বসবাস করছেন। এটা কোনো সরকারি বাড়ি নয়। এটা অষ্ট্রিয়ান এক নাগরিকের বাড়ি ছিলো। স্বাধীনতার পরে এই বাড়িটি ভুলক্রমে এবান্ডেন্ট বাড়ি হিসেবে সরকার তালিকায় নেয়। পরবর্তিতে সরকার এই ভুলটা স্বীকার করে সেই অস্ট্রিয়ান ভদ্র মহিলাকেই এক টাকা মূল্যে রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছে।”

‘‘ এরপর অস্ট্রিয়ান ভদ্র মহিলা বাড়ি পাওয়ার অব এর্টনির মাধ্যমে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। বায়নাপত্র হয়। মওদুদ আহমেদের ভাইয়ের নামে বাড়িটি আদালতে রেজিষ্ট্রি হয়েছে।”

‘‘ দেশের জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ির ব্যাপারেও এটর্নি জেনারেল সাহেব ব্যক্তিগত উদ্যোগের কারণেই উনাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। আমি বলব, এটা ঠিক না। আইনকে আইনের পথে চলতে দিতে হবে, আ্দালতকে স্বাধীনভাবে চলতে দিতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, অর্পনা রায়, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, হাফেজ আবদুল মালেক প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4659664আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET