১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

ভাইস চেয়ারম্যান থাকতে আগ্রহী নন নোমান

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ০৯ ২০১৬, ০২:৪৯ | 639 বার পঠিত

26382_f5নয়া আলো ডেস্ক- বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান পদে থাকতে আগ্রহী নন আবদুল্লাহ আল নোমান। দীর্ঘদিন থেকেই দলের নীতি নির্ধারক ফোরামে পদোন্নতির আলোচনায় ছিল তার নাম। বিগত কমিটিতে কাঙিক্ষত পদোন্নতি না পেলেও সক্রিয় ছিলেন দলে। কিন্তু এবার কাঙিক্ষত পদোন্নতি না পেয়ে দারুণভাবে আশাহত তিনি। কমিটি ঘোষণার পর বঞ্চিত সিনিয়র নেতাদের মধ্যে তার নামটিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দু’দিন ধরে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে পদত্যাগ করতে পারেন প্রবীণ এ নেতা। এমনকি বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। পদত্যাগের গুঞ্জনের ব্যাপারে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এ পদে থাকার আগ্রহী নই। কর্মী-সমর্থকরাও চাপ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, সম্মানের জন্য রাজনীতি করি। আমি রাজনীতি করার জন্য পদকে বড় করে দেখিনি। কোনোদিন নিজের পদ-পদবি নিয়ে চেয়ারপারসনের সঙ্গে কথা বলিনি। তিনি যখন যেখানে উপযুক্ত মনে করেছেন সেখানে রেখেছেন। পদের সম্মানের চেয়ে মানুষের ভালোবাসা আমার কাছে অনেক বড়। আসলে নেতা-কর্মীরা আমাকে ভীষণ ভালোবাসেন। তাই তারা এই খবরে একটু মনে কষ্ট পেয়েছেন। তবে এবার আমি দারুণভাবে আশাহত হয়েছি। আবদুল্লাহ আল নোমানের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা জানান, ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম পরিচিত মুখ নোমান। মওলানা ভাসানীর সঙ্গে রাজনীতি করে তার দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপিতে যোগ দেয়ার পর শ্রমিক দলের প্রথম কমিটিতে সহ-সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। শ্রমিক দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘ সময়। কেবল নীতি নির্ধারক ফোরামের সদস্য নয়, দলের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবেও তার নাম আলোচনায় ছিল এক দশক আগে। কিন্তু এবারও কাঙ্ক্ষিত পদ পাননি তিনি। তার ঘনিষ্ঠ নেতারা জানান, কমিটি ঘোষণার পর সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা ফোন করে তার কাছে হতাশা প্রকাশ করছেন। অনেকে আবেগ আক্রান্তও হয়ে পড়ছেন। তবে নোমানের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানায়, হুট করে নয়, সবকিছু বিচার বিবেচনা করে পরিস্থিতি বুঝেই সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। এদিকে বিএনপি নেতারা জানান, বঞ্চিত ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের শিকার নেতাদের অনেকেই রাজনৈতিকভাবে পুরোনো ও অভিজ্ঞ। তারা প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করলেও তাদের বঞ্চনার বিষয়টি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে তৃণমূলে। ওদিকে নোমানকে দলের স্থায়ী কমিটিতে পদোন্নতি না দেয়ায় চট্টগ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। কমিটি ঘোষণার পর চট্টগ্রাম বিএনপির নেতারা গত রোববার রাতে এক বিবৃতিতে নোমানকে তার যোগ্য সম্মান দিতে দলীয় চেয়ারপারসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তার অনুসারীরা গণপদত্যাগের হুমকিও দিয়েছেন। বাকলিয়া বিএনপির এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আবদুল্লাহ আল নোমানের রাজনীতির বয়স ৫০ বছর। তার মতো লোককে বাদ দিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটিতে ঠাঁই দেয়া হয়েছে জুনিয়র নেতাদের। আমরা তাকে সম্মান নিয়ে দল থেকে সরে যেতে বলেছি। আরো জানিয়েছি, তার সিদ্ধান্ত সবাই মাথা পেতে নেবো। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দিন বলেন, নোমান ভাই চট্টগ্রাম বিএনপির রাজনীতির পিতা। ২০০৯ সালেই তাকে স্থায়ী কমিটির পদে আনার দরকার ছিল। কিন্তু এবারও তাকে হতাশ করাতে আমরা কিছুটা হতবাক হয়েছি। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের চট্টগ্রামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, নোমান ভাই নেতাদের নেতা। তিনি বিএনপি এবং খালেদা জিয়া ছাড়া কিছুই বোঝেন না। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে দলের প্রতি আনুগত্যের কমতি নেই। কোতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি এমএ সবুর বলেন, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, তৃণমূল থেকে সিনিয়র পর্যন্ত সবখানেই নোমান ভাইয়ের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আমরা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মনে করি তাকে স্থায়ী কমিটিতে নিয়ে গিয়ে যোগ্য সম্মান দেয়া হোক। কোতোয়ালি থানা বিএনপির একজন নেতা বলেন, অনেক নেতার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির তিন সরকারে একাধিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন তিনি। কিন্তু নোমানের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগও নেই। মুক্তিযোদ্ধা এ নেতা বঙ্গবন্ধু, এরশাদ ও বর্তমান সরকারের আমলে বহুবার কারাভোগ করেছেন। এদিকে এবারের কমিটিতে স্থায়ী কমিটিতে পদোন্নতির আলোচনায় ছিল আরো কয়েকজন সিনিয়র নেতার নাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাদেক হোসেন খোকা, খন্দকার মাহবুব হোসেন ও আবদুল আউয়াল মিন্টু কেউই পাননি সে পদোন্নতি। এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও ঘনিষ্ঠ মহলে তাদের অসন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করেছেন। ওদিকে উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যপদ নিয়ে চরম অসন্তুষ্ট সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার। তিনি বলেন, দল পদ না দিতে পারে কিন্তু খাটো তো করতে পারে না। বিএনপির জন্মের আগে জাগদল থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলাম। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনাসহ দলকে নানাভাবে নার্সিং করেছি। জীবনের বড় একটি অধ্যায়ই দিয়েছি বিএনপির পেছনে। এটা কারও অজানা নয়। কিন্তু নতুন কমিটিতে নিজের পজিশন দেখে নেতাকর্মীদের কাছে ছোট হয়ে গেছি। আমরা কেউই এমনটি আশা করিনি। আমাদের বিপদ হচ্ছে- জিয়ার আদর্শে এত দূর এসেছি এখন কোথায় যাবো। আবার অপমানও মেনে নিতে পারছি না। তিনি বলেন, কর্মী-সমর্থকদের চাপ আছে। কিন্তু পদত্যাগ বা এ ধরনের সিদ্ধান্ত এখনই নিতে পারছি না।
এদিকে কমিটি ঘোষণার দুদিন পর গতকাল দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি কমিটি নিয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন। বেশিরভাগ প্রশ্নই ছিল কমিটিতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন ও সক্রিয় নেতাদের কাঙিক্ষত পদ না পাওয়া ও ক্ষোভ-বিক্ষোভ বিষয়ক। বিএনপি মহাসচিব জবাবে ঘোষিত কমিটি পুনর্মূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে বঞ্চিত নেতাদের আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4522421আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET