১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

ভূমিহীন আশ্রয়ন প্রকল্পে ঈদে বাড়তি আনন্দ নেই

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ০৩ ২০১৬, ০৭:২৫ | 694 বার পঠিত

Matlab News Picture  02-07-2016 (1)মনিরুল ইসলাম মনির, মতলব (চাঁদপুর) থেকে :
সামনে ঈদ। ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ। কিন্তু চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ভূমিহীন আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার অধিবাসীরা ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত। ঈদ এদের জীবনে বাড়তি আনন্দ বয়ে আনে না। বছরের অন্য দিনের মতই কাটবে এদের ঈদের দিনটি।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ভূমিহীন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭শ’ বেশি শিশু ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত। শিশুদের মধ্যে নেই, নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদ উদযাপনের পরিকল্পনা। পরিবারের বড়রা ঈদের কেনাকাটা না করার কষ্ট চেপে রাখতে পারলেও ছোটদের নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। নদী ভাঙনের শিকার হয়ে এই আশ্রয়ণের হতদরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে নেই ঈদকে ঘিরে বাড়তি কোনো আয়োজন। এখানে ন্যূনতম মৌলিক চাহিদার বেশির ভাগই অনুপস্থিত। ১৯৯৮ সালে সরকারি অর্থায়নে উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নে নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে মাটি কেটে উঁচু করে তৈরি করা হয়েছে ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ন পল্লী। সেখানেই তাদের আশ্রয়। শুধু এখলাছপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প নয়, উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ ও আবাসন প্রকল্পের শিশুদের একই চিত্র।
জানা যায়, তাদের আশ্রয়ন প্রকল্পটি সিমেন্টের খুঁটির ওপর টিনের চালা ও বেড়া দিয়ে ১৩টি ব্যারাক তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যারাকে ১০টি করে কক্ষ, একটি নলকূপ ও টয়লেট রয়েছে। একটি কক্ষ মানেই একটি পরিবার। পদ্মা-মেঘনার ভাঙনে সব হারিয়ে এখানে আশ্রয় পেয়েছে ১৩০টি পরিবার। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৮০টি ও আবাসন প্রকল্পের ৫০টি ভূমিহীন পরিবারের ১ হাজার ৩শ’ বেশি মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সরেজমিন আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, শতকরা ৯০ ভাগ শিশুর অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ঈদের জামা-কাপড় কিনে দিতে পারেনি। আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলো বেশির ভাগই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন নদীতে মাছ শূন্য। ওরা অভাব-অনটনের সঙ্গে বেঁচে থাকার লড়াই করছে। ওদের বেঁচে থাকা মানেই ভালো থাকা। দিনে এনে দিনে খেতেই কষ্ট। তাদের আবার ঈদে নতুন কাপড়, পোলাউ-কোরমা ও সেমাই ভাগ্যে জোটবে কি করে?
আশ্রয়ণের বাসিন্দা জানু বেগম জানান, তার স্বামী নদীতে মাছ ধরে যা পায় তা দিয়ে ৫ সন্তান নিয়ে খেয়ে-পড়ে কোনো রকম বেঁচে আছেন। নদীতে এখন মাছ নেই, পরিবারের আহার জোগাতে পারে না, আবার সন্তানদের নতুন জামা-কাপড় দিবে কোথা থেকে? আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওসমান গনির মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মুক্তি (১০) জানায়, কোন ঈদে সে নতুন জামা-কাপড় পায় না। ঈদে নতুন জামা-কাপড় পরতে না পারলে সারাদিন মন খারাপ থাকে। জামা না পেয়ে কাঁদলেও বাবা শুনেন না। সাইফুল ইসলামের ছেলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ইউছুফ জানায়, ঈদকে ঘিরে কোনো নতুন জামা-কাপড় সে পায়নি।
এখলাছপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোসাদ্দেক হোসেন মুরাদ অপ্রতুল বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে জানান, ঈদে যেন না খেয়ে থাকতে হয়, সেজন্য ভিজিএফ কার্ডের আওতায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রতি পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। আশ্রয়নের পরিবারগুলো বেশিরভাগ জেলে হওয়ায় নদীতে মাছ না থাকায় তাদের কষ্ট ও দুর্ভোগ এখন একটু বেশি। তবে জেলেদের সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
তিনি সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের আশ্রয়ণ প্রকল্পদের ছেলেমেয়েদের সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আহ্বান জানান।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4487559আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 13এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET