আজকাল বেশিরভাগ মানুষের দিকে তাকালে যেটা সব থেকে বড় সমস্যা চোখে পড়ে সেটা হলো বিশাল আকৃতির একটা পেট। অথচ অনেকেই জানে না এই পেট তার জন্যে কতটা ভয়ংকর। সাধারণত পুরুষের ৩৯.৫ ইঞ্চি এবং নারীর ক্ষেত্রে ৩৫.৫ ইঞ্চির বেশি পেটের আকৃতি থাকলে হার্টের রোগ,ডায়াবেটিস ও দাম্পত্য সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া এই বিশাল পেট (ডবংঃ ষরহব ড়ৎ অনফড়সরহধষ মরৎঃয) সমস্ত সৌন্দর্য্য নষ্ট করে সকলের কাছে হাসির পাত্র করে তোলে। এতে সে মানসিকভাবে কোনঠাসা হয়ে পড়ে। পেটে মেদ বা ভুঁড়ি হবার অন্যতম কারণঃ খাবার ঠিক মতো হজম না হওয়া, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, আলস্য, দৈহিক পরিশ্রম কম করা, অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ। এছাড়া বিজ্ঞানীরা ভুঁড়ি হবার আরও একটা কারণ বের করেছেন যার নাম কালপ্রিন্ট জিন”। এই দুষ্টু জিনেরা কোলেস্টরল বিপাকে গ-গোল পাকিয়ে রক্তে ( খউখ) এর পরিমাণ বাড়িয়ে এমন বিপত্তি ঘটায়। বন্ধুরা, মনে রাখবেন পেটের মেদ আর শরীরের অন্য অংশের মেদ কিন্তু এক নয়। পেটের মেদের সাথে যেহেতু লিভার, কিডনি ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ অঙ্গ মিশে থাকে তাই এটি অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তাই আসুন কিছু নিয়ম ও ভেষজ এর মাধ্যমে পেটের মেদ ও স্থূলতা কমাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হই। একমাত্র ভেষজের শক্তিশালী গুণ নিরাপদ জীবন দান করতে পারে। তাই একজন ভেষজ চিকিৎসক হিসেবে আজ আমি এ সম্বন্ধে কিছু জানাবো।
প্রতিদিন মেনে চলুনঃ
১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন। প্রতিবার খাবার আগে ১ গ্লাস পানি পান করুন।
২. প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৩ কোয়া রসুন খান।
৩. এরপর ১ গ্লাস উষ্ণ গরম পানি + ১/২ লেবুর রস + এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পান করুন।
৪. ফুটন্ত পানিতে কয়েক টুকরা দারুচিনি ফেলে দিন এবং ১৫ মিনিট ফুটান। ঠা-া হলে আধা কাপ পানিতে ২ চামচ করে মধু মিশিয়ে ৩ বেলা পান করুন।
৫. ১ চামচ কালো জিরা গুঁড়ো + ১ চিমটি গোল মরিচ + ১ বাটি টক দইয়ে মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে খান।
৬. আদা কুচি করে আধা ঘণ্টা পানিতে ভেজান। আরো পানি ও ১ টা লেবুর রস মিশিয়ে সারাদিন ১ কাপ করে বার বার পান করুন।
৭. আধা চামচ মৌরি+ আধা চামচ জিরা একসঙ্গে মিশিয়ে সন্ধ্যায় ভিজিয়ে রেখে সকালে আবার সকালে ভিজিয়ে রেখে রাতে ঘুমের আগে ঐ পানি পান করুন।
৮. আসরের পর ২৫০ গ্রাম কচি খিরাই খোসাসহ খাবেন।
৯. ৩ টি আলু বোখারা প্রতিদিন সকালে হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে রাতে ঘুমানোর আগে চটকিয়ে আধা চামচ সোনা পাতা গুড়া মিশিয়ে খাবেন।
১0. বেশি করে সবজি, ফলমূল ও ফ্যাটলেস খাবার যেমনঃ সয়াবিন, মাশরুম, পপকর্ণ, যবের ছাতু ও ভাতের মাড় ইত্যাদি খান।
১১. ক্ষুধা লাগলে টক জাতীয় ফল বেশি বেশি খান।
১২. প্রতিদিন ৪৫ মিনিট হাঁটবেন। ঘুম থেকে উঠে এবং ঘুমাতে যাবার আগে ১০ বার উঠবস করুন।
১৩. খালি পেটে থাকবেন না। ৩ বেলা খাবারের পরিবর্তে ৬ বেলা অল্প করে খাবেন। রাতের খাবার অবশ্যই ৮ টার মধ্যে খাবেন।
১৪. পজেটিভ চিন্তা করুন এবং দুশ্চিন্তা করবেন না। নিজেকে ভালোবাসুন। প্রভাষক, খুলনা ইউনানী মেডিকেল কলেজ, খুলনা। ত্বক, চুল ও মহিলাদের যাবতীয় রোগ বিষয়ে অভিজ্ঞ।









