২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

মহিপালে ফ্লাইওভার নির্মাণ, পাল্টে যাবে ফেনীর দৃশ্যপট

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : এপ্রিল ০৮ ২০১৬, ১০:২৪ | 678 বার পঠিত

FB_IMG_14601054525891766 কাজী ইফতেখারুল আলম,ফেনী থেকে:
ফেনী দ্রুত অগ্রসরমান একটি জনপদ।
দেশের রাজধানী ঢাকা বানিজ্যিক
রাজধানী চট্টগ্রামের মাঝে অবস্থিত এ
জেলাটির রয়েছে অপার সম্ভাবনা। রেল,
সড়ক ও নৌ-তিন পথেই এ জেলায়
যোগাযোগ সহজ হওয়ায় এ জেলায় শিল্প
বিপ্লবের রয়েছে যৌক্তিক কারণ। আর এ
জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্পট হলো মহিপাল। যা
যোগ করেছে চট্টগ্রাম, ফেনী,
নোয়াখালী লক্ষীপুরে মত গুরুত্বপূর্ন
জনপদকে। কিন্তু নিত্য যানজটের কারণে
এখানে এসেই নাকাল অবস্থায় পড়তে হয়
যাত্রীদের। এ স্থানের যানজটের প্রভাব
গিয়ে পড়ে দেশের শিল্প-বানিজ্যের
উপর। কারণ এ মহিপালকেই বলা হয়
দেশের যোগাযোগের নাভী। আশার কথা
হলো দেশের লাইফ লাইন হিসেবে খ্যাত
মহিপালে চলছে বাংলাদেশের প্রথম ৬
লেনবিশিষ্ট ফ্লাইওভারের নির্মাণ
কাজ। যা রাজধানীর বাইরে প্রথম উড়াল
সেতু। যে কাজটি শেষ হলে শুধু মহিপাল
নয় পাল্টে যাবে পুরো জেলার দৃশ্যপট।
দেশের কাছে আরো গুরুত্ববহ হয়ে উঠবে এ
জনপদটি।
দীর্ঘদিন ধরে বহুল আকাঙ্খিত এ
ফ্লাইওভারটির স্বপ্ন দেখছিলেন
ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন
হাজারী। পৌরসভার মেয়র হওয়ার পর
থেকেই বারবার বলছিলেন তার এ
স্বপ্নের কথা। আর তার এ স্বপ্নের সারথী
হলেন সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল
কাদের। তিনি না হলে এ বৃহৎ উন্নয়ন
কাজটি ফেনীবাসী কখোনোই পেত না।
যা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন সময় নিজাম
হাজারী তার বক্তব্যে বলেন। তিনি
বলেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নিজ
জেলা না হয়েও তিনি ফেনীরবাসীর
জন্য যে পরিমাণ কাজ এনে দিয়েছেন তা
ফেনীবাসী কখোনোই অস্বীকার করতে
পারবেনা। মহিপাল ফ্লাইওভারটি
ফেনীবাসীর জন্য কত বড় প্রাপ্তির তা
ফেনীবাসী বুঝবে। যখন এ কাজটি সম্পূর্ন
হবে তখন পুরো দেশবাসী অবাক হয়ে
মুখিয়ে থাকবে ফেনীর দিকে।
ফ্লাইওভারটির ব্যাপারে জানতে
চাইলে ফেনী পৌরসভার মেয়র হাজী
আলাউদ্দিন বলেন, এ ফ্লাইওভারটি
ফেনীর লাখো মানুষের আশা আকাঙ্খার
প্রতিফলন। ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ
সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের যানজট থেকে
রেহাই পাবে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের
যাত্রীরা। ফেনী হবে যানজটমুক্ত
পরিপাটি শহর। আগে যেখানে রাত
১০টার পর অসহনীয় অবস্থায় পড়তে হত
যাত্রীসাধারণকে। সে অবস্থা থেকে
রেহাই পাবে তারা। ফেনী-২ আসনের
সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী
দীর্ঘদিন ধরে এ ফ্লাইওভারটির স্বপ্ন
দেখছিলেন। তার এ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ
দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী
ওবায়দুল কাদের। ফেনীবাসী মন্ত্রীর
কাছে চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে এ
ফ্লাইওভারটির জন্য।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম আন্তঃজেলা বাস
মালিক সমিতির সহ-সভাপতি দেশের বৃহৎ
পরিবহন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্টার
লাইন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক জাফর
উদ্দিন বলেন, এ ফ্লাইওভারটির নির্মাণ
হলে রাজধানীর সাথে বানিজ্যিক নগরী
চট্টগ্রাম ও পর্যটন নগরী কক্সবাজারের
যোগাযোগ আরো সহজ ও দ্রুতগামী হয়ে
যাবে। সাধারণ যাত্রীরা রেহাই পাবে
অসহনীয় দূর্ভোগ থেকে। এর নির্মাণটি
হওয়ার কথা ছিল আরো অনেক আগে।
দীর্ঘদিন পরে হলেও কাঙ্খিত এ কাজটি
হওয়ায় পরিবহন যোগাযোগ আগের চাইতে
আরো সহজতর এবং দ্রুত হয়ে যাবে।
রাজধানীর বাইরে এ প্রথম উড়াল সেতু
ফেনীতে হওয়ায় এ জনপদের মানুষ
নিজেদের গর্বিত মনে করছে। আর এ জন্য
বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী
ওবায়দুল কাদের ও ফেনী-২ আসনের
সাংসদ নিজাম হাজারীর প্রতি
চিরকৃতজ্ঞ থাকবে ফেনীর মানুষ।
ফ্লাইওভারটি নির্মাণকারী বাংলাদেশ
সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্ক
অর্গানাইজেশনের ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং
কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের সাথে কথা
বলে জানা যায়, দেশের ইতিহাসে
মহিপালের এ ফ্লাইওভারটি প্রথম ৬ লেন
ফ্লাইওভার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪
লেন প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর প্রথম
এটি ৪ লেন হওয়ার কথা ছিল। সে
হিসেবে দরপত্রও আহ্বান করা হয়। কিন্তু
সরকার ভবিষ্যতের চিন্তা মাথায় রেখে
ফ্লাইওভারটি ৪ লেনের পরিবর্তে ৬ লেন
করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফ্লাইওভারটির
নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫৮
কোটি টাকা। মূল ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য
৬৬০ মিটার। এর সঙ্গে থাকবে আরও প্রায়
১ হাজার ২২০ মিটারের লিংক রোড। ১
হাজার ২২০ মিটারের পয়েন্ট থেকে সড়ক
ভাগ হয়ে একটি ফ্লাইওভারে যাবে,
অপরটি পাশ দিয়ে এসে ফেনী শহর ও
ফেনী-নোয়াখালী সড়কে যাবে। এটি
হবে লিংক রোড। মোট সড়ক হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৮৮০ মিটার। এ ফ্লাইওভারের
বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি উপরে ৬ লেন ও
নিচে ৪ লেন। সে হিসেবে মহাসড়কের
মহিপালের এ অংশটি হবে ১০ লেনের।
ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ পেয়েছে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল
ওয়ার্ক অর্গানাইজেশনের আন্ডারে ১৯
ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন। ফ্লাইওভার প্রকল্পে নিয়োজিত মেজর মাহবুব হোসেন জানান, ইতিমধ্যে কাজ পুরোদমে শুরু করা হয়েছে।
লিংক রোডটি কোন দিক দিয়ে যাবে
সেটিও চিহ্নিত করা হয়েছে। চলছে
পাইলিং এর কাজ, উঠে যাচ্ছে পিলার।
আস্তে আস্তে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে
নির্মানকাজের মধ্যে পড়ে যাওয়া অবৈধ
স্থাপনা। নির্ধারিত সময়ের আগেই ২০১৮
সালের জুলাই মাস নাগাদ তারা কাজটি
সমাপ্ত করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ
করেন।
এদিকে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী
ওবায়দুল কাদের গেল মাসেও এ ফ্লাইওভারটির নির্মানকাজ পরিদর্শন
করতে আসেন। এসময় তিনি বলেন
মহাসড়কে সবগুলো ফ্লাইওভার ফোরলেন করা হয়েছে। ফেনীর মহিপালের
চৌরাস্তা দিয়ে ফেনী-নোয়াখালী
আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ঢাকা-চট্টগ্রাম
মহাসড়কের যান চলাচল করায় এখানে
প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হওয়ায় ফ্লাইওভারটি ৬ লেনের হচ্ছে।
ইতোমধ্যেই ফ্লাইওভারের দৃশ্যমান কাজ
শুরু হয়েছে এবং তা তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4319118আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 5এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET