১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে

Shawkat Jahan

আপডেট টাইম : জুন ০২ ২০১৬, ০০:০৬ | 639 বার পঠিত

hasinaদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক থাকায় মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছে। এমনকি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ়তর হচ্ছে।

বুধবার বিকেলে দশম জাতীয় সংসদের একাদশতম ও তৃতীয় বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে টেবিলে উত্থাপিত লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সদস্য এম এ আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে সংসদকে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী।

এদিন বিকেল ৫টায় ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থার ফলে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিকভাবে দেশি-বিদেশি নাগরিকরা তাদের জীবন-যাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকার ফলে দেশে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ়তর হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকসহ জনসাধারণের সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা সাধনে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদসহ যেকোনো ধরনের অরাজকতা রোধ করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

সব ধরনের জঙ্গিবাদ, নাশকতা ও সহিংসতার সাথে জড়িত ও হুকুমদাতাদের আইনের আওতায় আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশসহ সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এ লক্ষ্যে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরস্পরের সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ঈদে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
আসছে ঈদুল ফিতরে জনসাধারণের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ জন্য বৃহস্পতিবার আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩২টি প্রসত্মাব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার বিকেলে শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনে চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমানের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত (১৪ নং) প্রশ্নের জবাবে সংসদে এ তথ্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, আশা করা যায় পূর্ববতী ঈদুল ফিতরের চেয়ে আগামী ঈদুল ফিতরে জনসাধারণ আরো স্বাচ্ছন্দ্যে, আনন্দঘন পরিবেশে ও নির্বিঘ্নে বাড়ি আসা-যাওয়া করতে পারবে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় উত্থাপন হতে পারে এমন সব প্রস্তাব তুলে ধরে সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একমুখী যান চলাচলের ব্যবস্থা চালু করাসহ আইন অমান্যকারী যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধে এবং অবৈধভাবে পার্কিংকৃত যানবাহনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা মহানগীর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত ও সংস্কার করা। জাতীয় আঞ্চলিক মহাসড়কসমূহ যানজট মুক্ত রাখা। দুর্ঘটনায় পতিত গাড়ি দ্রুত অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেকার ও ক্রেন প্রস্তুত রাখা। বঙ্গবন্ধু সেতুসহ সব টোল প্লাজার বুথ চালু রাখা।

ভিজিলেন্স টিম গঠন এবং ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বহির্গমন মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখা হবে। ঈদে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

মহাসড়কের অবস্থা বর্তমানে ভালো এমন তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহাসড়ক ভালো হলেও জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়কের পরিস্থিতি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ মনিটরিং পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশের ও বহির্গমনের মূল সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমানোর লক্ষ্যে ছোট যানবাহনকে বিকল্প মহাসড়ক ব্যবহার করার অনুরোধ করতে হবে। মহাসড়কের অপব্যবহার বন্ধ করা হবে। মহাসড়কের উপর ধান, পাট, খড়, কাঠ ইত্যাদি শুকাতে দেওয়া যাবে না। স’ মিলের কাঠ ও নির্মাণ সামগ্রী মহাসড়কে রাখা যাবে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পেট্রোল পাম্প, সিএনজি স্টেশন, হাইওয়ে রেষ্টুরেন্ট, ডাক বাংলো এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টয়লেটগুলো ব্যবহার উপযোগী রাখতে হবে। মহাসড়কে লক্কর-ঝক্কর গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

ঢাকা শহরে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করা হবে। যত্রতত্র পাকিং বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। ফেরিঘাটে পর্যাপ্ত সংখ্যক যান্ত্রিক ত্রুটিমুক্ত ফেরীর চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। নসিমন, করিমন, ইজিবাইক মহাসড়কে, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে বন্ধ নিশ্চিত করা হবে।

ঈদের ৭ দিন আগে ও ৩ দিন পরে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের চলমান উন্নয়ন কাজ জনস্বার্থে বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হবে। সব সিটি কর্পোরেশন ও সকল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সড়কসমূহ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। সিএনজি স্টেশন সার্বক্ষণিক চালু রাখা হবে।

জরুরি সার্ভিসসমূহ প্রস্তুত রাখা হবে। অস্থায়ী ভাসমান বাজার অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্পেশাল বাস, ট্রেন ও লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হবে। বিনা প্রয়োজনের মহাসড়কে যানবাহন থামানো যাবে না। নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। গার্মেন্টসগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিনে ছুটি ও খোলার ব্যবস্থা রাখাসহ ৩২ প্রস্তাব আন্তঃমন্ত্রণালয়ে উঠছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4522429আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET