২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-

মালয়েশিয়ায় নির্যাতিত সেই তুহিন রেজা ভাগ্য এখন হুইল চেয়ারে ! দেখার কেউ নেই !

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : অক্টোবর ১৯ ২০১৬, ০৩:০৩ | 662 বার পঠিত

tuhin-reja-pic3-jhenaidahজাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
মালেশিয়ায় দির্ঘদিন নির্যাতিত ঝিনাইদহের তুহিন রেজার শেষ সম্বল এখন হুইর চেয়ার। তুহিন রেজার অবস্থান জানতে এশিয়ান টেলিভিশনের সাবধান টিম ও মাগুরা নিউজ টয়েন্টি ফোরের সম্পাদক মোঃ সাগর হোসেন এবং ঝিনাইদহের সাংবাদিক মোঃ জাহিদুর রহমান তারিক, তুহিন রেজার বাড়িতে পৌছালে করুন নির্যাতিত তুহিন রেজাকে হুইল চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়।

সাংবাদিকদের এক সাক্ষাৎকারে তুহিন রেজা বলেন, আমার জীবনের এখন কোন মুল্য নেই। কিছু মানুষ রুপি পশু আমাকে পঙ্গু করে দিয়েছে এখন আমার ভাগ্য ও শেষ সম্বল হুইল চেয়ার। বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর আমার প্রতিবেশী ছাড়া আর কেউ আমাকে দেখতে আসেনি।

তিনি আরো বলেন আমার এই র্নিমম নির্যাতনের পরেও নির্যাতিতদের কোন বিচার এখনো পর্যন্ত হয়নি। এখনো তারা এই পৃথিবীর বুকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর আমি হুইল চেয়ারে।

তুহিন রেজার মা রোকেয়া খাতুন বলেন, মুক্তিপণের জন্য মালয়েশিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতিত অবস্থায় আমার ছেলে তুহিন রেজা ৩০ শে আগষ্ট মঙ্গলবার দেশে ফিরেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে নিজেদের খরচে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। দেশে ফিরিয়ে আনার পরে ৩১শে আগষ্ট বুধবার তাকে ঝিনাইদহে সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।tuhin-reja-pic4-jhenaidah

তিনি আরো বলেন মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ছেলে তুহিন রেজার দুই পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। সে এখন হাটতেও পারছে না। দালালরা বলেছিলো মালয়েশিয়া থেকে আনা ও চিকিৎসার সব খরচ তারা বহন করবে। কিন্তু তারা উঁকি মেরেও দেখছেনা।

মধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েলের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তার মধ্যে তুহিন রেজাকে দেশে ফিরিয়ে আনা ও বিদেশে যাওয়ার খরচ দেওয়ার সমঝোতা হয়। কিন্তুু দালালরা এখন কোন খোঁজ খবরও নিচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে লিবিয়া যাওয়ার জন্য এলাকার দালাল মহামায়া গ্রামের মধু, আসাদ, বেজিমারা গ্রামের মাহফুজুর রহমান ওরফে পল্টু ও তোরাব আলির কাছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করে তুহিন। কিন্তু ৫ বছরের ভিতরে দালালরা লিবিয়ার ভিসা না দিতে পারায়, পরে মালয়েশিয়া জাওয়ার জন্য আরো ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করে বলে সাংবাদিককে জানিয়েছেন তুহিন রেজার মা।

৫ বছর ধরে ঘোরানোর পর দালালরা জানান, লিবিয়ার আবস্থা ভাল নয়। সাড়ে ৪ লাখ টাকা হলে ইরাক বা কাতারে পাঠানো হবে। এরপর ফ্লাইটের নামে তুহিনকে দফায় দফায় ১৬ বার ঢাকায় নিয়ে রাখা হয়।

সর্বশেষ একই খরচে তুহিনকে ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেয়। মালয়েশিয়ায় পৌছানোর পর দালালচক্র তুহিনকে আটকিয়ে পরিবারের কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে তুহিনকে দফায় দফায় নির্যাতন করে।

কোন উপায়ন্ত না পেয়ে তুহিনের দরিদ্র বাবা গরু ও মাঠের জমি বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করেন।

এরপর তুহিনের নিকট আরো দশ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারাই ৩ তলা বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে হত্যার চেষ্টাও করা হয়।

এতে তুহিনের দুই পা ভেঙ্গে যায়। দেশে ফিরে পঙ্গু তুহিন রেজা জানান, তার উপর যে নির্যাতন করেছে তাদের বিচার চান তিনি। তুহিন আরো বলেন, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন আমার মা ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করতে গেলে ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার ৩ লাখ টাকায় মিমাংশা করেন।

পরবর্তিতে মধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েলের নিকট মহামায়া গ্রামের দালাল মধু তুহিন রেজার চিকিৎসা বাবদ পঞ্চাশ হাজার টাকা জমা দেয়। কিন্তু তুহিন রেজা জানাই চেয়ারম্যানের কাছে বারবার বলা সত্ত্বেও চেয়ারম্যান আমার কোন টাকা পয়সা দেয়নি।

এ ব্যাপারে মধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েলের সাথে কথা বললে তিনি সাংবাদিককে বলেন, আমার কাছে জমা রাখা পঞ্চাশ হাজার টাকা গত কাল তুহিন রেজাকে দিয়েছি। বাকি টাকা পনের দিনের মধ্যে দিয়ে দেব।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তুহিন তার আদরের ছোট্ট মেয়েকে কোলে নিয়ে তার উপর যে নিষ্ঠুর নির্যাতন হয়েছে সে সম্পর্কে কেঁদে কেঁদে সাংবাদিকের কছে বিষদভাবে বর্ননা করেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4729964আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET