২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • সকল সংবাদ
  • মুরাদনগরে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র চিকিৎসক শূন্য; স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অন্য উপজেলায় প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগি দেখেন




মুরাদনগরে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র চিকিৎসক শূন্য; স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অন্য উপজেলায় প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগি দেখেন

মোহাম্মদ ইমন মিয়া, বাঙ্গরা,কুমিল্লা করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : এপ্রিল ০৬ ২০১৮, ১৯:০৮ | 690 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

বিশেষ প্রতিনিধি 

 

“আগামীকাল ৭ এপ্রিল বিশ্বস্বাস্থ্য দিবস”

 
শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রহিমা খাতুন (৬০)। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে। চিকিৎসার জন্য তিনি সম্প্রতি যান পাহাড়পুর ইউপির উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেই বন্ধ থাকায় তার সব পরিশ্রম বৃথা যায়। ক্লান্ত পরিশ্রান্ত রহিমা খাতুন এই প্রতিবেধককে বলেন, ‘সরখার গাও-গ্রামের গরিব মাইনষ্যের লাইগ্যা হাসপাতাল বানাইছে। অতডা পথ কষ্ট কইরা আইয়া যদি ডাক্তর (ডাক্তার) দেহাইতাম না পারি তা হলে এই হাসপাতাল বানাইয়া কি লাভ অইলো। আমরার মতো গরিব মানুষ কই যাইবো।’ এখন চিকিৎসা কই করাবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আর কি করমু অহন ওষুধের দোহানতে (ফার্মেসি) ওষুধ কিন্যা খামু আর কবিরাজের তেল পড়া বুকে মালিশ করমু।
 
মুরাদনগর উপজেলায় ২২টি ইউনিয়নে ৬টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। ইউনিয়ন গুলো হচ্ছে পাহাড়পুর, নবীপুর, রামচন্দ্রপুর, বাঙ্গরা, জাহাপুর, আন্দিকুট। প্রতিটি কেন্দ্রে একটি করে চিকিৎসকের পদ রয়েছে।
 
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানাযায়, ওই কেন্দ্রে কোন চিকিৎসক নেই। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশেপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানাযায়, চিকিৎসকের অভাবে এসব উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে গুলো মাসের বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে। চিকিৎসক, ফার্মাসিষ্ট ও অফিস সহায়কের পদ গুলো শূণ্য রয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসকের সহকারীরা (উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল এ্যাসিসট্যান্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলো চালাচ্ছেন।
 
রামচন্দ্রপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশেই হাবিল মিয়ার (৩৮) বাড়ি। তিনি বলেন মাসের বেশির ভাগ সময়ে স্বস্থ্যকেন্দ্রেটি বন্ধ থাকে। ভবনের দোতলায় চিকিৎসকের জন্য নির্ধারিত বাসায় বসবাস করেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আয়া। প্রতিদিন তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তালা খোলেন। কোন দিন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভিজিটর এসে বসেন। আবার কোন দিন স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন (মেডিকেল এ্যাসিসট্যান্ট) এসে ঔষধ বিতরণ করে চলে যান। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দীর্ঘ দিন যাবৎ চিকিৎসক নেই।  
 
গত ২ এপ্রিল দুপুর বারটার দিকে গিয়ে নবীপুর পশ্চিম ইউপির স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি খোলা পাওয়া যায়। চিকিৎসকের সহকারী জালাল উদ্দিনকে ঔষধপত্র বিতরণ করতে দেখা যায়। জানতে চাইলে জালাল বলেন, তিনি এখানে উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল এ্যাসিসট্যান্ট পদে কর্মরত। ঔষধপত্র বিতরণ করলেও রোগীর ব্যবস্থা পত্র দেন না তিনি। শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য বা কোন ঝামেলায় না থাকলে তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে বসেন।
 
জাহাপুর ইউপির আট জন বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা যায়, চিকিৎসক না থাকায় তাঁরা এখান থেকে কোন ধরণের সেবা পান না।
 
গত ৩ এপ্রিল উপজেলার কামাল্লা ইউপির উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ পাওয়া যায়। উপকেন্দ্রটির সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায় পরিমল শীলকে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালটি বেশির ভাগ সময়ে বন্ধ থাকতে দেখি। এলাকার বাসিন্ধা আইনজীবি দিদারুর আমিন বলেন, র্দীঘদিন ধরে এখানে চিকিৎসক নেই। গ্রামের লোকজন এখান থেকে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে হাতুড়ে ডাক্তার ও কবিরাজারে দ্বারস্থ হচ্ছে।
 
গত ৪ এপ্রিল দুপুরে গিয়ে আন্দিকোট ইউপির উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ওই কেন্দ্রের সামনে চায়ের দোকনদার মনির হোসেন বলেন, চিকিৎসক হচ্ছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রাণ। চিকিৎসক যদি না থাকেন তা হলে অসুক-বিসুক হলে মানুষ কোথায় যাবে।
.
  • শিশু, গাইনী ও কনসাল্ট্রেন ডাক্তার নেই দীর্ঘদিন
  • এক্স-রে মেশিন বিকল
  • ল্যাব টেকনিশিয়ান নেই
 
উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে জানা যায় আরো ভয়াল তথ্য, শিশু, গাইনী ও কনসালটেন্ট ডাক্তার নেই দীর্ঘদিন। এক্স-রে মেশিন বিকল। ল্যাব টেকনিশিয়ান নেই। চর্ম রোগের ডাক্তার সপ্তাহে দুদিন আসেন। হাসপাতালের ডাক্তার মামুন, মানিক ও পাপিয়া উপজেলার ৬-লক্ষ লোকের চিকিৎসা দিচ্ছেন। ডাক্তার মামুন ও মানিক জেলার কোন মিটিং’এ গেলে ওই দিন হাসপাতাল খা খা করেন, রোগির আর্তনাদে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএসও) ষ্টেশনে থাকেন না। দিনের বারটা থেকে একটা আবার কোন দিন দু’টা পর্যন্ত থেকে হাসপাতাল ত্যাগ করে চলে আসেন পাশ্ববর্তী উপজেলা দেবিদ্বারে। দুপুর থেকেই দেবিদ্বার ইবনেসিনা সন্ধ্যায় শিশু মাতৃ প্রাইভেট হাসপাতালে রোগি দেখেন তিনি। রাত্রে থাকেনও দেবিদ্বার উপজেলায়।
 
উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পা কর্মকর্তা ডাক্তার আলী নূর বশির বলেন, ‘প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগি দেখি না। মাঝে মাঝে এ স্টেশনে থাকি। উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলোতে অনেক চিকিৎসকের পদ শূণ্য। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে।
 
মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সৈয়দ আহমদ হোসেন আউয়াল বলেন, হাসপাতালের অবস্থা করুন। স্বয়ং টিএসও হাসপাতালে কয়েক ঘন্টা সময় দেয় মাত্র। এতো বড় বৃহৎ উপজেলায় দু’তিনজন ডাক্তার দিয়ে সেবা চলে না। রোগিরা বাধ্য হয়ে হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছে।
 
কুমিল্লা জেলার সিভিল সার্জন ডাক্তার মজিবুর রহমান বলেন, ডাক্তারের অনেক পদ শূণ্য রয়েছে এই বিষয় সম্পর্কে আমি অবগত তবে স্বয়ং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা স্টেশনে না থাকাটা দু:খ জনক। আমি বিষয়টি দেখব। উপস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও মুরাদনগর উপজেলার সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, চিকিৎসক না থাকার বিষয়টি মন্ত্রী মহোদয়কে অবহিত করেছি দেখা যাক কি হয়।
Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET