১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-

মেহমান খানার মেহমানি

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ২৯ ২০১৬, ০৩:২৩ | 647 বার পঠিত

148625_172সুমাইয়া হাবিবা- মেহমান হতে কার না ভালো লাগে। বেশি ভালো লাগে যদি নিমন্ত্রণকর্তা হন আন্তরিক। বাঙালি আর মেহমানদারি পরস্পর সম্পূরক। বাঙালি গেরস্থ বাড়ির আন্তরিকতার ফলেই এ জাতিতে রয়েছে বহুমাত্রিক বৈচিত্র্য। মিশেছে বহু সংস্কৃতি। বাণিজ্য কিংবা ভ্রমণ করতে আসা বিদেশী মানুষগুলো বাঁধা পড়েছে মায়ার বাঁধনে। হাল আমলে বাঙালি তার অনেক স্বকীয়তাই ভুলতে বসলেও কিছু মানুষের এখনো ভালো লাগে মেহমানদারি করতে। এখনো বাঙালির আন্তরিকতা ও মানবিকতার প্রমাণ মেলে। আগের যুগে মানবসেবার নিদর্শন হিসেবে মুসাফিরখানা চালু করতেন ধনাঢ্য ব্যক্তিরা। বাংলাদেশী ভূমিতেও অনেক মুসাফিরখানা চালু ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের মেহমানদারি হতো সেখানে। হাল আমলে তা আর দেখা যায় না। তবে কিছু মানুষ এখনো ব্যতিক্রম, যারা মানুষ নিয়ে ভাবেন, সমাজ নিয়ে ভাবেন।

ধানমন্ডির এই বাড়িতে প্রতিদিন দুপুরে বসে মেহমানদারির মেলা

সে রকম ভাবনা থেকেই পথচলা শুরু হয়েছে ঢাকাই মেহমানখানার। এ মেহমানখানার মেহমান হতে কোনো বাধা নেই। কোনো নিয়ম নেই। যে-কেউ চাইলেই মেহমান হতে পারেন। ঢাকার বাসিন্দা হলেও ঢাকাতেই হবে আয়েশি পেটপুজো। এ জন্য যেতে হবে আপনাকে বাড়ির পাশে ধানমন্ডিতে। আমিন মোহাম্মদ মেহমানখানায়। সমাজসেবা ও মানবসেবার উদাহরণ বহু দেখা যায়। তবে অতিথিপরায়ণ বাঙালি ঐতিহ্যের নতুন সংযোজন এই ব্যতিক্রমী মেহমানখানা। এতে নেই কোনো বিনিময় আদান-প্রদান, নেই মেহমানের শ্রেণিবিন্যাস। সব শ্রেণিপেশার মানুষই এখানে সমান মর্যাদার অতিথি।
ধানমন্ডি ১৫ নম্বরে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছে এই মেহমানখানা। এখানে প্রতিদিন দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়ে থাকে জনসাধারণের জন্য। বিশেষত দুস্থ মানুষের জন্য। তবে সব ধরনের মানুষই আসেন। দুপুর ১২টা থেকেই খাবার বিতরণ শুরু হয়। চলে কয়েক ঘণ্টা। প্রথম দিন মিস করলেও দ্বিতীয় দিন গিয়ে দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য! ব্যাপক ভিড় লেগে আছে মেহমানখানার গেটে। বিশাল বিশাল পাতিল (ডেকোরেটর ডেকচি) ভর্তি করে খিচুরি আনা হয়েছে। সাজানো আছে সার সার থালাবাসন, পানির গ্লাস।
কেউ রিকশা পার্ক করছেন তো কেউ ভ্যান। কেউবা পাশের অফিস থেকে এসেছেন কেউবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। নারীর সংখ্যাও কম নয়। বাচ্চাকাচ্চা নিয়েও কয়েকজন এসেছে। ভরপেট আয়োজন। কোনো কমতি নেই। যত খুশি ততবার নেয়া যায় খিচুরি। মেহমানখানায় কোনো মেহমানকেই আধপেটা থাকতে হবে না। আগেই শুনেছিলাম তবু খেয়াল করে দেখা গেল অনেকেই টিফিন বক্স, হাঁড়ি, বাটি, ছোট বালতি নিয়ে এসেছেন। কারণ তারা খেয়ে নিয়ে যাবেন পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য। কতটা পরিমাণ পার্সেল দেয়া হয় জানতে চাইলে বিতরণকারীরা বললেনÑ যার পাত্রে যতটা ধরে!
চার পাশ খিচুরির সুগন্ধে ম ম করছিল। বোঝাই যাচ্ছিল যথেষ্ট যতœ নিয়ে রান্না করা হয়। তবুও কথা হলো কয়েকজন মেহমানের সাথে। খাওয়া শেষে রিকশায় বসেই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মনির। বললেন, তিনি হঠাৎই জানতে পারেন এই আয়োজনের কথা। এখন দুপুর হলেই এখানে চলে আসেন। এতে খাবার খরচটা বেঁচে যায়। আর খুবই স্বাদের খিচুরি। তার মতো অনেকেই এখন অন্য কোথাও আর খান না এবং তাদের মতো আরো যারা আছেন তাদের মধ্যে যারা জানেন না তাদেরও জানান। এভাবেই কোনো প্রচারণা ছাড়াই শুধু লোকমুখেই দিন দিন বাড়ছে মেহমানখানার প্রসার।
প্রতিদিন ১৬টি ড্যাগে (ডেকোরেটর হাঁড়ি) নিজস্ব বাবুর্চি দিয়ে রান্না করা হয় খাবার। মেহমানখানাতেই সকাল থেকে শুরু হয় আয়োজন। বাজার সদাই থেকে খাবার বিতরণ সবটাই খুবই আন্তরিকতা দিয়ে তদারকি করা হয় বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা। মানের ব্যাপারেও খুবই সতর্ক। প্রত্যেকের আন্তরিক ব্যবহারই কথার যথার্থতা বুঝিয়ে দিলো। অফিসের স্টাফরাও এই একই খাবার খেয়ে থাকেন। উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল প্রাঙ্গণজুড়ে। দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী নিসফাউর খুবই আন্তরিকতা দিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছিলেন সব আয়োজন। বললেন আমাদের এখানে প্রতিদিনই উৎসব বসে।
কথা বলেছিলাম এ মেহমানদারি আয়োজনের প্রধান তদারককারী গাজী আহমাদ উল্লাহর সাথে। হেড অব মিডিয়া, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ। কেন এই আয়োজন? তিনি জানালেন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে মানবতার সেবার লক্ষ্যেই এই আয়োজন। মানবসেবার মাধ্যমেই আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ বাড়ে। সে চিন্তা থেকেই এ আয়োজন। মানুষকে পেট পুরে খাওয়ানোর মাধ্যমেই তাদের তৃপ্তি।
ভাবনাটা প্রতিষ্ঠানপ্রধানের হলেও এ কাজে সংশ্লিষ্ট সবাই এখন কাজটাকে ভালোবেসে ফেলেছেন। নিজ তাগিদেই তারা সুচারুভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন মেহমানদারি। এ বছর মার্চ মাস থেকে শুরু হয়েছে মেহমানদারি। এখনো শুধু লোকমুখেই প্রচার হচ্ছে। কারণটা কী? জানালেন, কর্তৃপক্ষ কোনো রকম প্রচারণা চান না। নেক নিয়তে প্রচারণা ছাড়াই কাজ করতে চান।
কত দিন চলবে এ আয়োজন? সাথে সাথেই উত্তর দিলেন আল্লাহ যত দিন সামর্থ্য দেবেন। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার মেহমান খাচ্ছেন। চাইলে আপনিও যে কোনো দিন হতে পারেন মেহমান। আপনাকে সাদরে অভ্যর্থনা জানাতে ভুলবে না মেহমানখানার লোকেরা।সূত্র-নয়া দিগন্ত

 

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4751722আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 7এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET