২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

”যমুনায় আংগেরে ঘর ভাংগে গেলে হামরা কুনটি যামু বাপো”

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ২৬ ২০১৬, ১৪:২৬ | 667 বার পঠিত

jamuna-reverতাজুল ইসলাম,বগুড়া থেকে- একদিন কামলা না দিলে বউ ছোলের পেটত ভাত দেখে না। যদি অন্য কোন উপায় থাকলো হিনি তাইলে আগেই জমি কিনে বাড়ি করলেম হিনি। যমুনা নদীতে আংগেরে বাড়ি ঘর ভাঙগে যামানছে। আজকের (গত) দিনের মধ্যে যদি হামরা ঘর না ভাংগি তাইলে খাদক নদীর মধ্যে হামাগরে ঘর দুয়ের ভাংগে গালহিনি। এখন তোমরাই কও দেখি হামরা এখন কুনটি যামু বাপো।” এক নাগারে কথাগুলো বললেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বয়রাকান্দি ফকির মাহমুদ বৃদ্ধ উয়াহিয়া প্রামানিক (৬৫)। কথাগুলো তার একার নয় উপজেলার নদীর পারের পরিবারের সকলের মুখে একই কথা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরেও যমুনা নদীর ভাঙ্গন অব্যহত আছে। যদিও ভাঙ্গন প্রতিরোধ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রতি বছর শতশত কোটি টাকা ব্যয় করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কারনেই শত শত কোটি টাকা ব্যয় করার পরও সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর ভাঙ্গন থামছে না। এত টাকা ব্যয় করার পরেও সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের মথুরাপাড়া বাজারের দক্ষিণ পাশ থেকে শুরু করে উপজেলা শেষ সীমানা কামালপুর ইউনিয়নে দড়িপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কিঃমিঃ এলাকাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে অব্যহত ভাঙ্গনে ফসলি জমি, বিভিন্ন স্কুল ও বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে ধলিরকান্দি গ্রমে।ঐতিহ্যবাহী নিজাম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এখন হুমকির মুখে।এলাকাবাসীর অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বের্ডের বস্তা যদি নদীর কাচারের উপরদিয়ে না ফেলত তাহলে হয়তো এত বেশি নদী ভাংতনা আরো কিছুদিন আমরা বসবাস করতে পারতাম। এছাড়াও কর্ণিবাড়ী মরচা, বয়রাকান্দি, ঘুঘুমারি, শেখপাড়া, রৌহাদহ, ইছামারা ও দড়িপাড়া এলাকায়। এসব এলাকা থেকে প্রতিদিন ফসলি জমি, বসতভিটা নদী গ্রাস করছে। এছাড়াও নদী ভাঙ্গনের কারণে ৪২নং নিজকর্নিবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,৪৮ নং নিজ কর্নিবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,নাড়াপালা সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়,নিজচন্দনবাইশা সরকাররি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নওখিলা পি.এন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দনবাইশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর চন্দনবাইশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আয়েশা ওসমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় প্রতিষ্ঠান গুলো এরইমধ্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও ঘুঘুমারি দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটাচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রৌহাদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীভাঙ্গনের কারণে হুমকী মুখে পড়েছে। অন্যদিতে ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বালি ভর্তি জিও বস্তা ফেলে যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ধলিরকান্দি থেকে শুরু করে রৌহাদহ-দড়িপাড়া পর্যন্ত ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩ বছর মেয়াদী প্রকল্প শূরু হয়েছে । এছাড়াও ৯টি প্যাকেজে একই উদ্দেশ্যে প্রায় ১২৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এই ৯টি প্যাকেজের কাজ চলতি বছরেই শেষ হচ্ছে। এরইমধ্য চলতি বছর থেকে একই উদ্দেশ্যে ২৬২ কোটি টাকা প্রকল্প শুরু করা হয়েছে। আগামী ৩ বছরের মধ্য এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, নদীভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য এসব প্যাকেজ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হলে ্উল্লেখিত এলাকায় নদীভাঙ্গন প্রতিরোধ ৯৫ ভাগ থেকে শুরু করে একেবারে ০ (শূন্য) পয়েন্টে আনা সম্ভব। এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ৩ বছরে সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর,চন্দনবাইশা, কামালপুর ও বোহাইল ইউনিয়ন এলাকায় যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙ্গনে কমপক্ষে ২/৩ কিঃমিঃ এলাকা লোকালয়ের দিকে এগিয়ে এসেছে। স্থানীয়রা এখনও নদী ভাঙ্গনের অজানা আতঙ্কে ভুগছেন। কুতুবপুর ইউনিয়নের ধলিরকান্দি গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, চন্দনবাইশা এলাকার জহুরুল ইসলাম সমাজসেবক কুদরত-ই-খুদা চাঁন ও আয়েশা বেগম জানান, নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য সরকার তো আমাদের এলাকায় বছর বছর কম টাকা খরচ করে না। বরাদ্দকৃত টাকার বস্তা যদি যমুনা নদীর ভাঙ্গনের জন্য ফেলা হতো তবে নদীভাঙ্গন অব্যশই বন্ধ হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের টাকা খরচ করার পরও নদী ভাঙ্গন থামছে না। আমরা কাকে দোষ দিবো, দোষটা আসলে আমাদের কপালের। যার জন্য এলাকা মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষেত্রে নেমে এসেছে চরম দূর্বিসহ অবস্থা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রহুল আমিন জানান, যমুনা নদীর ভাঙ্গনের আগের বরাদ্যের কাজ যেখানে করা হয়েছে সেখানে তো আর ভাংছেনা । বাকি আছে ৬ কিঃমিঃ ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা ।এর কাজ এখনো শুরু হয় নাই। কাজ শুরু হলে নদীভাঙ্গন প্রতিরোধ করা সম্ভব।আম্ার সময় কম আপনার যা ইচ্ছা তাই লেখেন।

এব্যাপারে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরান আলী রনি বলেন, এবছর অব্যাহত ভাংগনের কারনে ধলিরকান্দি গ্রামের প্রায় ২/৩কিমি নদীর গর্ভে বিলিন হয়েছে। এভাবে ভাংতে থাকলে অল্প কিছুদিনের মধ্যে আমার ইউনিয়নসহ উপজেলার অনেক জায়গা-জমি নদীর গর্ভে বিলিন হবে।সাধারন কৃষক,দিনমজুরা কোথায় ঠাইপাবে জানিনা। বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমার আবেদন উপজেলার নদী ভাঙ্গনের একটি স্থায়ী বাবস্থা গ্রহন করেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4662634আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 6এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET