২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-

যেখানে স্মার্টফোনের চেয়েও সস্তা মরণাস্ত্র

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : নভেম্বর ০৩ ২০১৬, ১৮:৩৬ | 665 বার পঠিত

নয়া আলো ডেস্ক-  

পাকিস্তানের পেশোয়ার থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে পাহাড়ে ঘেরা ছোট শহর দারা আদম খেল, যেটি পাকিস্তানের অবৈধ অস্ত্র উৎপাদনের রাজধানী হিসেবে পরিচিত। দশকের পর দশক ধরে এ শহরটি অপরাধের স্বর্গ। এখানে কালাশনিকভের মতো রাইফেল তৈরি হয় পুরনো ও অব্যবহৃত জিনিসপত্র থেকে। পুরনো জঞ্জাল থেকে বানানো অস্ত্র বিক্রি হয় বাণিজ্যিকভাবে, বিশাল পরিসরে!

পাকিস্তানের আফগান সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলের অস্ত্রের কারিগররা দ্রুততম সময়ে বিশ্বের যেকোনো সমরাস্ত্র নকল করতে সক্ষম এবং সেখানকার বাজারে প্রকাশ্যেই এসব অস্ত্রের কেনাবেচা হয়।

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনায় যে একে-২২ রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিও দারা আদম খেল শহরের কারিগরদের প্রশিক্ষণে ভারতে তৈরি করা হয়েছিল। ভারতে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এমন দাবি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ।

শুধু অবৈধভাবে অস্ত্র তৈরিই নয়, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান, চোরাই গাড়ি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া ডিগ্রি, সব পাওয়া যায় এখানে।

বহু দশক ধরে দারা আদম খেল শহরে এ ব্যবসা চললেও ১৯৮০ দশকে হঠাৎ করেই ব্যাপক জমজমাট হয়ে ওঠে, যখন আফগানিস্তানে সোভিয়েতদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ‘মুজাহিদিন’রা এখান থেকে অস্ত্র কেনা শুরু করে।

পরবর্তীতে এখানে পাকিস্তানি তালেবানের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালে পোল্যান্ডের ইঞ্জিনিয়ার পিওটর স্টাঙ্কজাককে এখানেই শিরশ্ছেদ করে তালেবান।

অবশ্য পাকিস্তান সরকারের কড়া পদক্ষেপে দারা আদম খেল এখন এসব থেকে অনেকটাই মুক্ত। অস্ত্রের কারিগরা বলছেন, সরকারের ‘বিধ্বংসী’ মনোভাবের কারণে দশকের পর দশক ধরে চালু থাকা তাদের জীবিকায় হাত পড়েছে এখন।

তুরস্ক ও বুলগেরিয়ার তৈরি এমপি৫ সাবমেশিন গান নকল করে ‘খ্যাতি’ পাওয়া  কিতাব গুল (৪৫) নামের এক অস্ত্রের কারিগর বলেন, ‘নওয়াজ শরীফ সরকার সব জায়গায় নিরাপত্তা বেষ্টনি বসিয়েছে। আমাদের ব্যবসা এখন বন্ধ।’

এফবিআই ও মার্কিন অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীও এমপি৫ ব্যবহার করে।

এমপি৫ এর আসল দাম কয়েক হাজার ডলার। কিন্তু কিতাব গুল যেটি তৈরি করেন, তার দাম মাত্র ৬৭ ডলার। গুলের দাবি, তার তৈরি এমপি৫ আসলটির মতোই কাজ করে।

দারা আদম খেলে তৈরি একটি কালাশনিকভের দাম ১২৫ ডলারের মতো, যা অনেক স্মর্টফোনের চেয়ে কম। গুল বলেন, ‘এখানকার কারিগররা বিশ্বের যেকোনো অস্ত্র হুবহু নকল করতে সক্ষম। তাও অবিশ্বাস্য দ্রততম সময়ে’। তার দাবি, গত দশ দিনে তিনি ১০ হাজার অস্ত্র বিক্রি করেছেন, কিন্তু একটিও সমস্যার অভিযোগ পাননি।

শহরের প্রধান বাজারে ছোট ছোট অস্ত্রের দোকান ছাড়া অন্য তেমন কিছুই চোখে পড়বে না। এসব ছোট ছোট অস্ত্রের দোকানগুলোয় তাকে তাকে বিভিন্ন মডেলের অস্ত্র সাজানো থাকে। ক্রেতারা কেনার আগে আকাশে গুলি ছুঁড়ে সেটি পরীক্ষা করে নেন।

সবকিছুই অবৈধ হলেও বহু বছর ধরে কিছুটা ক্ষমতার জোরে প্রশাসন এসব সহ্য করে আসছে।

কিন্তু ২০০৭ সালে পাকিস্তানি তালেবান নতুন করে সংগঠিত হওয়ার পর পাক আর্মি তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করা শুরু করেছে। দারা আদম খেলে প্রতি দুই-তিনটি দোকান পরপরই এখন মুদি দোকানের দেখা মেলে যেখানে আগে অস্ত্র বিক্রি করা হতো।

সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমনাভিযানের পর অস্ত্রের চাহিদাও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। গুলের দোকানে আগে প্রতিদিন ১০টিরও বেশি অস্ত্র তৈরি হতো। এখন সেখানে প্রতিদিন মাত্র ৪টি অস্ত্র তৈরি হয়।

সরকার ও সেনাবাহিনীর ‘অতিরিক্ত’ নজরদারিতে অস্ত্রের ক্রেতারাও শঙ্কিত। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিদেশিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এখানকার একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী মুজাম্মিল খান বলেন, ৩০ বছর ধরে আমি এখানে কাজ করছি। কিন্তু এখন আমার কোনো কাজ নেই। একটা সময় দারা আদম খেলে ৭ হাজার অস্ত্রের দোকান ছিল, যা এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

এই শহরের শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা বাদাম আকবরও প্রায় ৩০০০ অস্ত্রের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র: ডন, এএফপি

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4728506আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET