২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

রপ্তানির নতুন বাজার খোঁজার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ২৯ ২০১৬, ০২:২৩ | 638 বার পঠিত

29344_hasinaনয়া আলো ডেস্ক-  রপ্তানির নতুন বাজার খোঁজার পাশাপাশি পণ্য বহুমুখীকরণে ব্যবসায়ীদের প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী গতকাল জাতীয় রপ্তানি ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে এ পরামর্শ দিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা নতুন নতুন বাজার খুঁজে বেড়ান। কোন্‌ দেশে কোন্‌ পণ্যের চাহিদা সেটা বিশ্লেষণ করে বাজার খোঁজ করুন। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। এ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুন, এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মাফরুহা সুলতানা বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেন। সরকার এখানে ব্যবসা করতে আসেনি। আমরা সব ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের সার্বিক অগ্রগতির মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার যেন দ্রুত উন্নতি হয় সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। এ সময় বিগত ৭ বছরে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যবসা ক্ষেত্রে সরকার নগদ সহায়তা প্রদান করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে এখন বহু দেশ এবং মানুষের চাহিদাও দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। কোন্‌ দেশে কোন্‌ পণ্যের চাহিদা রয়েছে তা আপনাদের খুঁজে বের করতে হবে। এ জন্য পণ্যের বহুমুখীকরণও একান্তভাবে প্রয়োজন। সীমিত পণ্যের উপর দেশের রপ্তানি নির্ভরতা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম দুর্বলতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বাণিজ্যের এ সমস্যা দূর করার জন্য আমরা পণ্য তালিকায় নতুন নতুন পণ্যের সংযোজন এবং কম অবদান রাখছে এমন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।  প্রধানমন্ত্রী এ সময় সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ইতিমধ্যে ১০টির কাজ এগিয়ে চলছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পণ্য ও বাজার বহুমুখী করার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অধিক মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনে ও দেশজ কাঁচামালনির্ভর রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে আপনাদের মনোনিবেশ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনশক্তি অর্থনৈতিক সম্পদ। এদেশের ৭৩ শতাংশ মানুষ ৪০ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সী। বয়স্ক মানুষের সংখ্যাধিক্যতা এবং কর্মঠ মানুষের ঘাটতির কারণে শ্রমঘন শিল্পে বিশ্বের শক্তিশালী দেশসমূহ ক্রমাগত পিছিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যাতে সেই জায়গা পূরণ করতে পারে তার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে রপ্তানি বাণিজ্যের বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা পর্যায়ে ১১৩টি প্রতিষ্ঠানের মাঝে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান করেন।
২০১১-১২ এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য সর্বমোট ৫২টি স্বর্ণ, ৩৭টি রৌপ্য এবং ২৪টি ব্রোঞ্জ ট্রফি ও সনদ প্রদান করা হয়।
২০৪১ সালকে লক্ষ্য ধরে রপ্তানি উন্নয়নে  রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বিষয়ে সামগ্রিক সহায়তা প্রদান ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতে দু’টি করে উইংসহ মোট ২১টি বাণিজ্যিক উইং কার্যকর করা হয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে এবং সিঙ্গাপুরে দু’টি নতুন বাণিজ্য উইং খোলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, দেশের স্বার্থকে বিকিয়ে দিয়ে দেশের খনিজ সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে পারেননি বলেই ২০০১ সালের কারসাজির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারেনি। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর আবারও দেশ পিছিয়ে যায়। ৭ বছর পর আমরা আবার ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়নে কাজ পুনরায় শুরু করি। ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপী মন্দা ছিল। প্রতিটি  ক্ষেত্রে ভয়ভীতি কাজ করতো। সব দূর করে আমরা মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস  তৈরি করেছি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কোনো ব্যবসায়ী ঠিক মতো ব্যবসা করতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থ-সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের রোল মডেল। মন্দার প্রভাব সত্ত্বেও বিগত সাড়ে সাত বছরে মাথাপিছু আয় প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত অর্থবছরে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। এ সময়ে রপ্তানি আয়ের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১২ দশমিক ৫২ শতাংশ। তিনি বলেন, ইউরোর দরপতন না হলে আমাদের রপ্তানি আয় গত অর্থবছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেত। অব্যাহত রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং প্রবাসী ভাইবোনদের রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
জাতীয় রপ্তানি ট্রফি পেলো ১১৩টি প্রতিষ্ঠান
২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় করার স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি পেয়েছে ১১৩টি প্রতিষ্ঠান। যার মধ্যে ৫২টি স্বর্ণ, ৩৭টি রৌপ্য ও ২৪টি ব্রোঞ্জ ট্রফি রয়েছে। গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় রপ্তানি ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে ট্রফি ও সনদ বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ২৬টি প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ, ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে রৌপ্য ও ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ব্রোঞ্জ ট্রফি দেয়া হয়। ২০১১-১২ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের জন্য ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ, ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে রৌপ্য ও ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ব্রোঞ্জ ট্রফি প্রদান করা হয়। ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ দুই অর্থবছরেই সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি স্বর্ণ পায় ?জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড।
২০১২-১৩ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি করে স্বর্ণপদক পেয়েছে রিফাত গার্মেন্টস, জিএমএস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ, কামাল ইয়ার্ন, সাদ সান টেক্সটাইল, জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড, নোমান টেরিটাওয়েল, অ্যাপেক্স ফুডস, পপুলার জুট, আকিজ জুট, অ্যাপেক্স ট্যানারি, পিকার্ড বাংলাদেশ, এফবি ফুটওয়্যার, আল আজমী ট্রেড, প্রাণ ডেইরি, রাজধানী এন্টারপ্রাইজ, কারুপণ্য রংপুর, বেঙ্গল প্লাস্টিক, ফার সিরামিকস, বিআরবি কেবলস্‌?, মেরিন সেইফটি সিস্টেম, স্কয়ার ফার্মা, গ্রাফিক্স পিপল, ইউনিভার্সেল জিনস, শাশা ডেনিমস, মনট্রিমসে এবং মীর টেলিকম।
রৌপ্য পদক পেয়েছে অনন্ত অ্যাপারেলস, স্কয়ার ফ্যাশনস, বাদশা টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইল, ইউনিলারেন্স টেক্সটাইল, সীমার্ক (বিডি), রেজা জুট, জনতা জুট, এসএফ ইন্ডাস্ট্রিজ, আরএমএম লেদার, লালমাই ফুটওয়্যার, মনসুর জেনারেল, প্রাণ এগ্রো, ক্যাপিটাল এন্টারপ্রাইজ, কোর দ্য জুট ওয়ার্কস, বেঙ্গল প্লাস্টিক, সার্ভিস ইঞ্জিন এবং প্যাসিফিক জিনস।
ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে অ্যাপারেল গ্যালারি, ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস, মোশারফ কম্পোজিট, তালহা ফেব্রিকস, জালালাবাদ ফ্রোজেন ফুডস, উত্তরা জুট, সাদাত জুট, বেঙ্গল লেদার, এবিসি ফুটওয়্যার, ফুটবেড ফুটওয়্যার, এলিন ফুডস, প্রাণ ফুডস, হেলাল অ্যান্ড ব্রাদার্স, আরএফএল প্লাস্টিক এবং ইউনিগ্লোরি পেপারস অ্যান্ড প্যাকেজিং।
২০১১-১২ অর্থবছরে স্বর্ণপদক পেয়েছে রিফাত গার্মেন্টস, স্কয়ার ফ্যাশনস, স্কয়ার টেক্সটাইলস, নোমান উইভিং, জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিকস, অ্যাপেক্স ফুডস, পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ, আকিজ জুট, অ্যাপেক্স ট্যানারি, পিকার্ড বাংলাদেশ, এফবি ফুটওয়্যার, এগ্রি কনসার্ন, প্রাণ এক্সপোর্টস, রাজধানী এন্টারপ্রাইজ, কারুপণ্য রংপুর, বেঙ্গল প্লাস্টিক, ফার সিরামিকস, ইউনিগ্লোরি সাইকেল, তানভীর পলিমার, বেক্সিমকো ফার্মা, সার্ভিস ইঞ্জিন, ইউনিভার্সেল জিনস, শাশা ডেনিমস এবং মনট্রিমস।
রৌপ্যপদক পেয়েছে অনন্ত অ্যাপারেলস, জিএমএস কম্পোজিট, মোশারফ কম্পোজিট, এনভয় টেক্সটাইল, সি-মার্ক (বিডি), এফআর জুট, জনতা জুট, এসএফ ইন্ডাস্ট্রিজ, আরএমএম লেদার, ফার্ম ফ্রেশ, প্রাণ এগ্রো, ক্যাপিটাল এন্টারপ্রাইজ, কোর দ্য জুট ওয়ার্কস, এভারব্রাইট প্লাস্টিক, ট্রান্সওয়ার্ল্ড বাইসাইকেল, আল-হাবিব এন্টারপ্রাইজ, গ্রাফিক পিপল এবং জিনস-২০০০।
ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে সিনহা ইন্ডাস্ট্রিজ, ফোর এইচ ফ্যাশনস, ভিয়েলাটেক্স স্পিনিং, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, কুলিয়ারচর সি ফুডস, রেজা জুট, করিম জুট, আল-আজমী ট্রেড এবং প্রাণ ফুডস।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম, বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, এফবিসিসিআই’র সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মাফরুহা সুলতানা।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4655376আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 7এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET