নাজিম হাসান,রাজশাহী থেকে:- রাজশাহীতে স্ত্রীকে মেরে জখম করার অপরাধে জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা এ.বি.এম সাদিকুর রহমান সোহেলকে রাজশাহী কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল আদালত। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ইউএনএইচসিআর সহযোগী ওয়াশ কর্মকর্তা হিসেবে কক্সবাজারে কর্মরত রয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদালতে জামিন নিতে গেলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার আইনজীবি সরকার হাসিবুল আলম জানান, গত রোজার ঈদের দিনে আসামি যৌতুকের দাবিতে তার স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করেন। এ নিয়ে তার স্ত্রী বাগমারা থানায় মামলা করেন। এই মামলায় আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছিলেন। পরে উচ্চ আদালত তাকে নির্ধারিত হাজিরার দিনে রাজশাহীর আদালতে আত্মসমর্পন করে স্থায়ী জামিন চাইতে বলেন। সোহেল আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। সূত্র জানায়, সাদিকুর রহমান একই সংস্থার এক নারী স্টাফের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন। অন্য নারীর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ার বিষয়টি তার স্ত্রী সানজিদা মুনমুন লিপি শ্যামলী টের পেলে এর প্রতিবাদ জানায়। এ নিয়ে সাংসারিক জীবনে অশান্তি নেমে আসে। আবার ঢাকায় ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার জন্য যৌতুক দাবি করেন সাদিকুর। কিছু টাকা দেয়াও হয় তাকে। বাকি টাকা দিতে না পারায় গত ১৬ জুন ঈদের দিন রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে সানজিদাকে সাদিকুর, ননদ ও ভাসুর মেরে রক্তাক্ত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহীর মোহনপুরে সরকারি স্বাস্থ্য কমপেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে এ নিয়ে সানজিদা বাদি হয়ে গত ৯ জুলাই নারী নির্যাতন মামলা করেন। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয় সাদিকুর। জামিনের মেয়াদ শেষে নিম্ন আদালতে বৃহস্পতিবার হাজির হলে আদালত সাদিকুরকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।









