৯ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে রজব, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • করোনা-ভাইরাস
  • রামগঞ্জে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার টেন্ডার ভাগ-বাটোয়ারা॥ ভূয়া প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত প্রকল্পের নামে বরাদ্ধ॥

রামগঞ্জে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার টেন্ডার ভাগ-বাটোয়ারা॥ ভূয়া প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত প্রকল্পের নামে বরাদ্ধ॥

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : মে ২০ ২০১৭, ১৮:২৬ | 618 বার পঠিত

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি –
রামগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে চলিত অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিবি) আওতায় ভূয়া প্রতিষ্ঠান, ব্যাক্তি বা যৌথ উদ্যোগে নির্মিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং এডিবির পূর্বের অর্থ বছরের সমাপ্ত কাজকে তালিকা ভূক্ত করে নতুন বরাদ্ধ দিয়ে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার কাজ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা প্রকাশ পেলেম উপজেলাব্যপি তোলপাড়া শুরু হয়। ৩ থেকে ৫ বছর পূর্বে নির্মিত ঘাটলা, গাইডওয়াল, সড়ক ও ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে উক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে কিছু ভূয়া অস্থিত্বহীন প্রকল্প, পূর্বের অর্থ বছরের সমাপ্ত কাজকে নতুন করে তালিকা ভূক্ত করে। পরে ওই নতুন প্রকল্প এবং ব্যাক্তি বা যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ঘাটলা, গভীর নলকুপ, গাইডওয়াল, বাড়ির রাস্তার সলিং, ওয়াশরুমসহ বিভিন্ন প্রকল্প তালিকাভুক্ত করে রামগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় কর্তৃক চলতি মাসে ওই প্রকল্পের দরপত্র আহব্বান করা হয়। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিস, জেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে দরপত্র বিক্রয় করার কথা থাকলেও কোন ঠিকাদার দরপত্র ক্রয় করতে পারেনি।
কয়েকজন ঠিকাদার জানান, দরপত্র ক্রয় করতে গেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপজেলা চেয়ারম্যান আকম রুহুল আমিনের সাথে আলাপ করতে বলেন।
রামগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে ১৮ মে বিকেল ২টায় দরপত্রের খোলা হলে দেখা যায় টেন্ডারে বাক্সে ১টি ফরমও জমা পড়েনি। ওই সময়ে টেন্ডারের সাথে জড়িত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিগণ কৌশলে এলজিআরডি অফিস ত্যাগ করেন। আ’লীগের দলীয় কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একটি দরপত্রে (নং ০২/২০১৬-২০১৭ইং) ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ও অফিস সংস্কার নামে ২০ লাখ টাকায় বরাদ্ধ দেওয়া হয়। এডিভির ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের বরাদ্ধে ও ওই প্রতিষ্ঠান গুলো সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া অন্য দরপত্রে (দরপত্র নং ০৪/২০১৬-২০১৭) বিভিন্ন প্যাকেজে স্বজণপ্রীতি, অনিয়ম ও দুনীর্তি মধ্যে দিয়ে নিজেরা তা ভাগ বাটোয়ারা করে তারা।
দরপত্র ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, ইছাপুর নামে কোন উচ্চ বিদ্যালয় না থাকলেও ইছাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব রুম নির্মানে ৬লক্ষ ৪৩হাজার ৮ শত টাকা, শোশালিয়া নামে কোন বাজার না থাকলেও শোশালিয়া বাজারের ওয়াশ রুম নির্মানে ১লক্ষ ৫০হাজার টাকা, ভাটরা ইউনিয়নের নান্দিয়ারা আবদুর রহিম ব্যাপারী বাড়ির রাস্তার গাইডওয়াল ২০১৫ সালের অর্থ বছরে এডিপি বরাদ্ধ থেকে করা হলে ও চলতি অর্থ বছর উক্ত প্রকল্পের জন্য ১লক্ষ টাকা, ভোলাকোট ইউনিয়নে তিন বছর পূর্বে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে নির্মিত আথকরা বাজারের মসজিদের ঘাটলার নামে ১লক্ষ টাকা, দরবেশপুর ইউনিয়নের আলীপুর আঠিয়া বাড়ির পূর্ব পাশে ৫বছর পূর্বে নির্মিত কালভাটের নামে ১লক্ষ টাকা, বিগত বছর করা আইয়েনগর পাঁচ হাজারী বাড়ির ঘাটলা নির্মানে ১লক্ষ টাকা, শাকতলা বিল্লালের বাড়ির পুকুর ঘাটলা নির্মানে ১লক্ষ টাকা, দেহলা জাকিরের ভুইয়া বাড়ির নামে কোন বাড়ি না থাকলেও জাকির ভূইয়া বাড়ির পুকুরের গাইড ওয়াল নির্মানের নামে ১ লক্ষ টাকা, চন্ডিপুর ইউনিয়নের রফিক মাষ্টারের বাড়ির পুকুরের গাইড ওয়াল নির্মানে ১ লক্ষ টাকা, পূর্বে নির্মান করা ১নং কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবদুল করিম মাষ্টারের বাড়ির রাস্তা করার নামে ১ লক্ষ টাকা, পূর্বে সলিং থাকলেও ২নং নোয়াগাও ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় আ’লীগের উপ-কমিটি সাবেক সহ সম্পাদক মমিন পাটোয়ারী বাড়ির সলিং-এর জন্য ১লক্ষ, টিউবয়েলের জন্য ৮০ হাজার টাকা বরাদ্ধসহ অস্থিত্বহীন, ভূয়া, বিগত অর্থ বছরে এলজিএসপি, এডিপিসহ বিভিন্ন কোটায় সমাপ্ত কাজকে চলতি বছর তালিকা ভূক্ত করে ভাগ-ভটোয়ারা করে আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে এবং চুক্তিভিত্তিক আস্থাভাজন নেতাকর্মী ও ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রকৌশলী অনুপ কুমার বড়–য়া জানান, তালিকায় পূর্বেব সমাপ্তকৃত কিছু প্রকল্পের নাম আছে। কিন্তু এসব বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার আগে উপজেলা চেয়াম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকম রুহুল আমিন জানান, প্রকল্পগুলো সমযোতার মাধ্যমে নেয়া হয়েছে বলে আমি শুনেছি। তবে উক্ত কাজের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু ইউসুফ জানান, প্রকল্পের নাম তৈরী করা আমার কাজ নয়। তদন্ত করে কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রমান পেলে রি-টেন্ডার করা হবে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4411184আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 8এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET