২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

শত কোটি টাকার ক্ষতি কেশবপুর বন্যার পানিতে ভাসছে ॥ ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ২৪ ২০১৬, ২১:১৪ | 837 বার পঠিত

3333এস আর সাঈদ,কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি-
দুই দফা প্রবল বর্ষন, উজানের পানির চাঁপ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কেশবপুর উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা পানিতে ভাসছে।
কেশবপুর প্রকল্প কর্মকর্তা বিপুল কুমার মালাকার জানান, অতিবর্ষণে কেশবপুর উপজেলার ১৬১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ৮০ হাজার মানুষ। বাড়ি ঘর ছেড়েছে অসংখ্য পরিবার। ২১ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৭ হাজার ৩ শত ৭৫ জন আশ্রয় নিয়েছে।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানাগেছে, হাজার হাজার মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত হয়ে অবকাঠামো-সহ, দন্ডায়মান ও উঠতি ফসল তলিয়ে যেয়ে ১ শত কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। 333
সরেজমিন পরিদর্শন কালে জানাগেছে, কেশবপুর থানা ভবন, উপজেলা ভূমি অফিস, কেশবপুর ডিগ্রী কলেজ, ব্র্যাক অফিস পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বন্দি মানুষ আশ্রয় নেওয়ার কারণে ও বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় কেশবপুর পৌরসভার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ কয়ে গেছে। যশোর- সাতক্ষীরা সড়কের চিনাটোলা বাজার হতে মঙ্গলকোট পর্যন্ত এবং সাগরদাঁড়ি সড়কের সাবদিয়া পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। শত শত কাঁচা ঘর-বাড়ি পানিতে ধ্বসে গেছে। বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছে সড়কের পাশে, উঁচু স্থানে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বেচাকেনা বন্ধ হয়ে গেছে শহরের ধানের বাজার, মাছ ও কাঁচা বাজারে। এ পানি সহজে নামবে না বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন জনসাধারণ। পৌর সভার ৯টি ওয়ার্ডের সাড়ে ৬ হাজার পরিবারের মধ্যে ৫ হাজার পরিবার-সহ বিভিন্ন এলাকার ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আশ্রয় শিবিরে খাদ্যের হাহাকার বানভাসিদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে, পৌর আইন লঙ্ঘন করে ইতিপূর্বে পৌর এলাকায় মাছের ঘের তৈরী করার কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতে শহরের পোস্ট অফিস পাড়া, সাহাপাড়া, কলেজ পাড়া ও মাস্টার পাড়া, শান্তি পাড়া, মাছ বাজার, ধানহাটায় পানিতে তলিয়ে গেছে।
পৌর সভার প্ল¬¬াবিত এলাকার মানুষ কেশবপুর বালিকা বিদ্যালয়, পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ, মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধুশিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাবাস পোল প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্রম্মকাটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের পাশে টঙ ঘর বেঁধে আশ্রয় নিয়েছে। মধ্যকুল এলাকায় সড়কের পাশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৫’শ পরিবারের শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত গতিতে যানবাহন চলাচল করায় ওইসব শিশু ও প্রতিবন্ধীরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। এই মুহুর্তে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কে মধ্যকুল এলাকার দুই পাশে আশ্রয় নেওয়া মানুষের নিরাপত্তার জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করার জন্য জনসাধারণের পক্ষ থেকে দাবী উঠেছে। পাশাপাশি এই এলাকায় পয়নিষ্কাশন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা জরুরী বলে জানিয়েছে টংঘরে আশ্রিতরা। 33333
এলাকাবাসি সূত্রে জানাগেছে, প্রয়াত শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেক সাহেবের হস্তক্ষেপে ১৯৯৬ সাল থেকে ভদ্রানদীর কাশিমপুরে শুষ্ক মৌসুমে ক্রস ড্যাম দেওয়া হয়ে থাকে। যার ফলে ভদ্রা ও হরিহর নদীতে পলি পড়ার কোন সূযোগ থাকত না। কিন্তু গত দুই বছর শুষ্ক মৌসুমে কাশিমপুরে ক্রস ড্যাম না দেওয়ায় পলি পড়ে হরিহর ও ভদ্রা নদী ভরাট হয়ে পড়েছে। যার ফলে অতিবৃষ্টির পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় কেশবপুরে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে ড্রেজার মেশিন দিয়ে পলি অপসারণের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4651789আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET