১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

শীলং তীর আর ডাব্বা নামক জুয়ায় ভাসছে গুইমারা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল

এম দুলাল আহাম্মদ, খাগড়াছড়ি করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : মার্চ ২৯ ২০২১, ১৫:১৩ | 671 বার পঠিত

জুয়ায় ভাসছে গুইমারা উপজেলা প্রত্যন্ত অঞ্চল। কোথাও চলছে শীলং তীর নামক
ডিজিটাল জুয়া,আবার কোথাও বসছে প্যাকেজ যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য
প্রদর্শনির মাধ্যমে  ডাব্বা নামক জুয়া।এই দুইয়ে মিলিয়ে গুইমারা উপজেলায়
চলছে জুয়া খেলার মহোৎসব। জুয়ার মহোৎসব আর অশ্লীল নগ্ন নৃত্য প্রদর্শনির
কারণে নি:স্ব হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ,তৈরী হচ্ছে সামাজিক
সংকট,বিপথগামী হচ্ছে তরুণ-তরুণীরা।উপজেলার  গ্রাম থেকে গ্রামে ছড়িয়ে
পড়েছে এসব জুয়া খেলা।জুয়া খেলা দুটি এখন এলাকার সামাজিক ক্যান্সারে রূপ
নিয়েছে।স্কুল পড়–য়া থেকে শুরু করে প্রান্তিক কৃষকরাও  জুয়ায় আসক্ত হয়ে
লাখ লাখ টাকা হারাচ্ছে। বাদ যাচ্ছেনা নারীরাও।গত দুই বছরের ব্যবধানে
গুইমারা উপজেলার অন্তত ১৫ স্থানে ভয়ঙ্করভাবে শীলং তীর নামক ডিজিটাল জুয়ার
বিস্তৃতি ঘটেছে।স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি,পুলিশসহ দুষ্টচক্র’কে ম্যানেজ
করে দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে  জোয়ার জমজমাট ব্যবস্যা।

অনুসন্ধানে,বিভিন্ন সূত্রহতে জানা যায়,ভারতের শীলং থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে
পরিচালিত শীলং তীর নামক ডিজিটাল অলনাইন ভিত্তিক জুয়া খেলাটি উপজেলা
প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে।এটি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে
নেওয়ার বিশেষ একটি ফাদ।বিশেষ কৌশলে পরিচালিত জুয়া খেলাটির ফাঁদে  পা দিয়ে
অর্থ হারিয়ে এখন নি:স্ব হচ্ছে।এতে করে অনেক পরিবারে দেখা দিয়েছে কলহ ও
অশান্তি।

জানাযায়,গুইমারায় শীলং এর এজেন্ট পয়েন্ট রয়েছে  অন্তত ১৫টি।এগুলোর মধ্যে
রয়েছে বটতলী,যৌথখামার,আমতলীপাড়া,হাজীপাড়া,দেওয়ান
পাড়া,হাতিমুড়া,রামছুবাজার ডাক্তারটিলার নিচে,নতুনপাড়া,বুধংপাড়া,বরইতলী
প্রভূতি।প্রত্যেকটি স্পটে স্থানীয় চতুর একজন লোক মূল হোতাদের পক্ষে
এজেন্ট হিসেবে এ জুয়া খেলা পরিচালনা করে। এসব এজেন্টরা হাজার টাকার জুয়া
বাজির কমিশন হিসেবে মূল কোম্পানীর কাছ থেকে পায় ৬০ টাকা। সকাল ৯টায় শুরু
হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত এসব এজেন্টের মাধ্যমে কর্তন করা জুয়ার টাকা ও নম্বর
সাড়ে তিনটার মধ্যেই পৌঁছে দিতে হয় প্রধান এজেন্টদের কাছে।তারা আবার
কয়েকজন নারী/পুরুকে সাব এজেন্ট হিসাবে ব্যবহার করে,পাড়া মহল্লায় গিয়ে
খেলায় ১০ টাকায় ৮শত টাকা, ২০ টাকায় ১৬শত টাকা বা ৮০ গুণ লাভ পাবে বলে
প্রতিশ্রুতি দিয়ে খেলায় মানুষকে প্রলুব্ধ করছে।এত লাভের আশায় নতুন ধরনের
এই জুয়ায় রিকশা-চালক, দিনমজুর শ্রেণীর লোকরাই বেশি হুমড়ি খেয়ে পড়েছে।
জুয়ার আকর্ষণ রাখতে এবং জুয়ার আসর থেকে সাধারণ মানুষ যাতে মুখ ফিরিয়ে না
নেন, সেজন্য প্রতিদিন কয়েক জনকে নামে মাত্র শীলং তীরের বিজয়ী হওয়ার কৌশলে
খেলা খেলে থাকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান,এর প্রধান দায়িত্বে রয়েছে তিনজন। তাদের পরিচালিত ‘শীলং
তীর’ জুয়ার আসর এখন প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় চলে। তাদের অবস্থান সদর উপজেলা
থেকে দুই কিলোমিটার দূরবর্তী বটতলী এলাকায়।সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে এ জুয়া
চালিয়ে এখন ওরা বিত্তশালী হয়ে উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে,এই জুয়া প্রচলনের প্রথম দিকে এলাকার বেকার বা আড্ডাবাজ তরুন
যুবকদের টার্গেট করা হলেও বর্তমানে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং
বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নারীরাও আসক্ত হয়ে পড়েছেন এ খেলায়।ছাত্র-ছাত্রীরা
টিফিনের টাকা শীলংয়ের বাজিতে রেখে আসছে লাভের আশায়।খেলোয়ারদের সূত্রমতে,
আগে শুধুমাত্র গুইমারা উপজেলাতেই শীলং এর দৈনিক খেলা হত ২-৩ লক্ষ টাকা।
বর্তমানে দৈনিক ৬-৭ লক্ষ টাকার খেলা হচ্ছে।

অপরদিকে প্যাকেজ যাত্রার নামে চট্টগ্রাম,ফেনী,কুমিল্লা থেকে যাত্রা গানের
নর্তকীদের অর্ধালুঙ্গ ,অশ্লীল নগ্ন নৃত্য প্রদর্শন করে মানুষের জমায়েত
করে।বিভিন্ন এলাকা থেকে উঠতি বয়সি যুবক যুবতীরা এসে প্যাকেজ নাটকে নামে
নগ্ন নৃত্য দেখতে গিয়ে  জড়িয়ে পড়ে ডাব্বা নামক জুয়া খেলায় এবং অনৈতিক
কর্মকান্ডে। হাতে গোণা কয়েক জন জুয়ার থেকে হাসিমুখে ফিরলেও সিংহভাগই
ফিরেন নি:স্ব হায়ে।বর্তমানে গুইমারা উপজেলায় প্রায় প্রতিদিনই প্যাকেজ
যাত্রার নামে জুয়া(ডাব্বা)ও অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শনী চলছে।ডাব্বা পরিচালনা
কারীদের সাথে গুইমারা থানার পুলিশের রয়েছে গোপন চুক্তি।খেলা শুরু হওয়ার
আগে জুয়া পরিচালণাকারীদের পক্ষ থেকে  তাদের মাসোহারা পৌছে দেওয়া হয়।এদের
সাথে জড়িত থাকেন কিছু দুষ্ট প্রকৃতির প্রভাবশালী ব্যক্তি।জুয়া খেলার
চাদাঁ দিতে হয় উপজাতি সংগঠনকে।ডাব্বা খেলা রাত(৯-১০)টা থেকে শুরু হয়ে চলে
সরা রাত্রি ব্যাপী।ডাব্বা এবং শীলং তীর জুয়ারীদের সাথে থানা পুলিশের
সমন্বয় সাধন করে প্রভাবশালী মহল মধ্যস্তভোগী হিসেবে বিপুল অংকের অর্থ
বানিজ্যের বিষয়টি গুইমারা উপজেলায় ওপেন সিক্রেট হলেও চক্রটির বিরুদ্ধে
কেউ মুখ খুলতে নারাজ।কারণ যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে সত্য কথা বলবে তাকে
পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ  করে সর্বশান্ত করে
ফেলবে।গুইমারা উপজেলা আইন শৃংখলা সভায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং
গুইমারা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে বিষয়টি তুলে ধরা হলে এসব অনৈতিক
কর্মকান্ড বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারে নির্দেশনা থাকলেও তা আমলে
নেওয়া হচ্ছেনা।

গতকাল ২৮মার্চ গুইমারা উপজেলার মুসলিমপাড়া (ইন্দ্রমনিপাড়া)এলাকায় মেলার
নামে জুয়া(ডব্বা) ও প্যাকেজ যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন বন্ধের
জন্য এলাকাবাসীর অভিযোগের বিত্তিত্বে গুইমারা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে
গুইমারা থানার পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনকে অবগতি কররেও পুলিশ বা স্থানীয়
প্রশাসন কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।তার আগে গতকাল ২৭মার্চ শনিবার
গুইমারার উপজেলার চাইন্দামনিতে মেলায় নামে প্রকাশ্যে চলেছে জুয়ার জমজমাট
আসর।গুইমারা থানার পুলিশ জুয়া বন্ধে কোন রকম ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।অবশেষে
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তুষার আহমেদ এর হস্থক্ষেপে বন্ধ হয়েছে।

স্থানীয় এক সমাজকর্মী অভিযোগ করে বলেন,এসব জুয়াড়িদের তৎপরাতার কারণে
এলাকায় অস্থিরতা বাড়ছে। ভঙ্গুর হচ্ছে অথনৈতিক কাঠামো,বাড়ছে সামাজিক
অবক্ষয়ও অপধারদ কর্মকান্ড।উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা বিপথগামী হচ্ছে,দেখা
দিচ্ছে সামাজিক সংকট।টাকা পয়সাসহ সর্বস্ব হারিয়ে ধীরে ধীরে নিঃস্ব হচ্ছে
পরিবার গুলো। এখনই জুয়ার কার্যক্রম বন্ধ হওয়া উচিত। জুয়ার আড়ালে এসব
এলাকায় ইয়াবা ও চোলাইমদ বিক্রি করা হয় বলে তার অভিযোগ রয়েছে।
মেলার নামে জুয়া(ডাব্বা) এবং অশ্লীল লগ্ন নৃত্য প্রদর্শনীর বিষয়টি অবগত
করার পর ও প্রশাসন অশ্লীল লগ্ন নৃত্য এবং জুয়া বন্ধ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ
করেন এলাকাবাসী।
প্রকাশ্যে  জুয়া খেলার বিষয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তুষার আহমেদ
বলেন, গত আইন শৃংখলা মিটিং এ জুয়া বন্ধের নির্দেশনা নোটিশে রয়েছে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4524590আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 4এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET