১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

সংসদে ক্ষমা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ২৬ ২০১৬, ০১:০৫ | 638 বার পঠিত

24294_b5নয়া আলো ডেস্ক- টিআর-কাবিখা’র বরাদ্দে চুরি নিয়ে মন্তব্য করায় সংসদ অধিবেশনে রীতিমতো তোপের মুখে পড়েন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। গতকাল মাগরিবের নামাজের বিরতির পর এনিয়ে তুমুল হট্টগোল শুরু করেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা। পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ নিয়ে তারা ওই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। জবাবে মন্ত্রী তার বক্তব্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি দুঃখ প্রকাশ করেন। এতেও সংসদ সদস্যরা শান্ত না হলে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তীব্র ক্ষোভ ও হৈচৈ-এর মধ্যে ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আমার বরাত দিয়ে যে বক্তব্য ছাপা হয়েছে সেটি অনভিপ্রেত ছিল। সে জন্য আমি সকল সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমা চাইছি। ‘টিআর-কাবিখা’র অর্ধেক বরাদ্দ যায় এমপিদের পকেটে’-  রোববার রাজধানীর একটি আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করায় তথ্যমন্ত্রীকে ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরুর পর থেকেই এ বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেয়ার দাবি জানাতে থাকেন সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এ নিয়ে অধিবেশনে তথ্যমন্ত্রী ক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন, এটি বুঝতে পেরে মাগরিবের নামাজের বিরতি ২০ মিনিটের জন্য দেয়া হলেও বিষয়টি সুরাহা করতে আরো ৩০ মিনিট লাগে অধিবেশন শুরু করতে। কিন্তু সরকার ও বিরোধী দলের তীব্র দাবির মুখে স্পিকারকে এ বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর দিতেই হয়। সরকার ও বিরোধী দলের প্রবীণ-নবীন প্রায় সকল সংসদ সদস্যই দাঁড়িয়ে ফ্লোর চাইলেও স্পিকার মাত্র তিন জনকে ফ্লোর দেন। তীব্র হৈচৈ-এর মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ক্ষমা প্রার্থনার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। পয়েন্ট অব অর্ডারে সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ অনির্ধারিত বিতর্কের সূত্রপাত করে তথ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সকল এমপির কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। তথ্যমন্ত্রীর এলাকায় টিআর ও কাবিখা’র কী কী কাজ হয়েছে তা তদন্তেরও দাবি জানান তিনি। জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, সংসদের সাড়ে তিনশ’ সংসদ সদস্যই চোর, আর একমাত্র সাধু হচ্ছেন আমাদের তথ্যমন্ত্রী। সারা দেশে এতো উন্নয়ন কী বাতাসে হচ্ছে? তথ্যমন্ত্রী কি ম্যাসেজ জাতিকে দিতে চাইছেন? হাসানুল হক ইনুর বক্তব্য ক্ষমার অযোগ্য। এই সংসদের প্রতিটি সদস্যকে তথ্যমন্ত্রী অপমান করেছেন। এই সংসদে দাঁড়িয়ে উনাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, তথ্যমন্ত্রী সবাইকে চোর বানাতে পারেন না। উনি যা বলেছেন তাতে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রীরা কেউ-ই সেই অপবাদ থেকে বাদ পড়েন না। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, দুদকসহ তথ্যমন্ত্রীর সব মিডিয়া নিয়ে আমার এলাকা তদন্ত করুন। এক টাকার অনিয়ম হলে আমি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবো। তবে তথ্যমন্ত্রীর এলাকারও তদন্ত করা উচিত। তথ্যমন্ত্রী সবারই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন, উনার বিবেকের তাড়নায় তথ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। তিনি বলেন, তথ্যমন্ত্রী তার দপ্তরের মাধ্যমে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি নিজে জানাননি। এর মধ্য দিয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো আমাদের অপমান করেছেন। তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের মুখে ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী প্রথমে তার বক্তব্য প্রত্যাহার এবং দুঃখ প্রকাশ করলেও এমপিদের শান্ত করতে ব্যর্থ হন। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান। সংসদ সদস্যরা একযোগে প্রতিবাদ জানাতে থাকলে স্পিকার বলেন- তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং প্রত্যাহারও করে নিয়েছেন। এরপরও আপনারা কি চান তা আমাকে বুঝতে হবে। এ সময় জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ আরো বেশ ক’জন সংসদ সদস্য মাইক ছাড়াই চিৎকার করে বলতে থাকেন- মাননীয় স্পিকার, তথ্যমন্ত্রী ক্ষমা না চাইলে আমরা শান্ত হবো না। তাকে ক্ষমা চাইতেই হবে। এরপর দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তার বক্তব্যের জন্য এমপিদের সামনে দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ক্ষমা চাইলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন,  রোববার দুপুরে রাজধানীতে পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা ফাউন্ডেশনের একটি আলোচনা সভায় টিআর ও কাবিখা নিয়ে আমার একটি মন্তব্য নিয়ে কিছুটা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এই মন্তব্যে কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এ ব্যাপারে রোববার রাতেই আমি একটি বিবৃতি দিয়েছি। আসলে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে টিআর ও কাবিখা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির উদাহরণ তুলে ধরতে গিয়ে আমি সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু দুর্নীতির কথা বলেছি। ঢালাওভাবে সবাইকে অভিযুক্ত করে কিছু বলিনি। এ সময় সংসদ সদস্যরা ‘নো নো, আপনি বলেছেন’ বলে প্রতিবাদ করতে থাকলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে আমার বক্তব্য আংশিকভাবে প্রচার হয়েছে, পুরোটা প্রচার হয়নি। তবে আমি একজন এমপি হয়ে অন্য সব এমপিকে আন্তরিকভাবে সম্মান করি এবং তা অব্যাহত আছে। তাই আমার বক্তব্যে এমপি ও জনপ্রতিনিধিরা কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং আমার ওই বক্তব্যে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।  এরপরও সংসদ সদস্যরা শান্ত না হলে এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে সরকার ও বিরোধী দলের অধিকাংশ এমপি ফ্লোরের দাবি জানাতে থাকলে দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, এমপি ও জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে আমার মন্তব্য অনভিপ্রেত ছিল। সেজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাচ্ছি। এরপর স্পিকার দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আইন প্রণয়ন কার্যাবলীতে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
‘ইনু নিজেই নিজেকে চোর বানিয়েছেন’
ওদিকে বিডিনিউজ জানায়, বিবৃতি দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেও পার পাননি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে চুরির জন্য সাংসদসহ জনপ্রতিনিধি ও আমলাদের দায়ী করে বক্তব্য দেয়ায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সহকর্মীদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইনু ওই বক্তব্যের জন্য আরেক দফা দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী জানিয়েছেন। একজন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ নিয়ে আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওই বক্তব্য দিয়ে তিনি (তথ্যমন্ত্রী) নিজেই নিজেকে চোর বানিয়েছেন। রোববার ‘বাংলাদেশ সামিট:  টেকসই উন্নয়ন-২০১৬’ শীর্ষক দুদিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো এমপি, আমি জানি, টিআর কিভাবে চুরি হয়। সরকার ৩০০ টন দেয়, এর মধ্যে এমপি সাহেব আগে দেড়শ’ টন চুরি করে  নেয়। তারপর অন্যরা ভাগ করে। সব এমপি করে না। তবে এমপিরা করেন।’ ওই বক্তব্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর আসার পর রাতে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইনু বলেন, আমি নিজে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দসহ সকল জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকভাবে সম্মান করি এবং সেই সম্মান অক্ষুণ্ন রয়েছে। তারপরও কেউ যদি অনভিপ্রেতভাবে দুঃখ  পেয়ে থাকেন, সেজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে খবর ও তার দুঃখ প্রকাশের বিবৃতির অনুলিপি খামে করে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সব সদস্যকে দেয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন  বলেন, সাংসদদের নিয়ে কথা বলার প্রেক্ষিতে উনি (ইনু) বিবৃতি দিয়ে আগেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওই বিবৃতির কপি সবাইকে দেয়া হয়েছে। এসব নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। সভায় উপস্থিত মন্ত্রিসভার একজন সদস্য বলেন, মন্ত্রিসভার নিয়মিত এজেন্ডাভুক্ত আলোচনা  শেষ হলে তথ্যমন্ত্রী নিজেই দুঃখ প্রকাশ করে  লেখা বিবৃতিটি পড়ে শোনান। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তীর ছেড়ে দিলে এবং মুখের কথা বেরিয়ে গেলে ফিরে আসে না। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এ সময় তথ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে তিনি চুরি করেছেন এমন প্রমাণ দিতে পারলে তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবেন। প্রতিমন্ত্রী চুন্নু বলেন, এভাবে সবাইকে চোর বানানো ঠিক হয়নি। ওই কথা বলে তিনি (ইনু) সবাইকে ডুবিয়ে দিয়েছেন। এ সময় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী শ্রম প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, আমি ওইভাবে বলিনি- এমন বলার সুযোগ নেই। কারণ সংবাদ মাধ্যম বক্তব্যের রেকর্ড দেখালে তখন আর বলার কিছু থাকবে না। সহকর্মীদের তোপের মুখে পড়ে তথ্যমন্ত্রী পরে আর কোনো কথা বলেননি বলে বৈঠকে উপস্থিত আরেকজন মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, আগস্ট মাসে দেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4523487আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET