১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

সাংবাদিকতায় তরমুজ উপহার এস এম, জহিরুল ইসলাম

মোঃ ইনামুল হাসান নাইম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ,ঢাকা।

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১৬ ২০২১, ১৬:৪৮ | 672 বার পঠিত

১৯৯৪ সালের এমন সময়টাই হবে। আমি সাংবাদিক হিসাবে বরিশালের মুলাদীতে আলোচনায় উঠে এসেছি। তখন সর্বহারা বিরোধী রিপোর্টই আমাকে পরিচিত করতে সহায়তা করছে বেশী।
একদিন কাজিরচরের শশুর বাড়ীতে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ আমার এক নিকট আত্বীয়র সাথে অচেনা একটি লোক আমাকে খুঁজতে আমার শশুর বাড়ী এসে হাজির। বিষয়টি জানতে চাইলে সে বলল, জামাই আপনাকে এক সপ্তাহ ধরে খুঁজেও পাইনি। আমি মহাবিপদে আছি। আমাকে বাঁচান। আমি মুল বিষয়টি জানতে চাইলে সে বলল, তার একটি মেয়ে বয়স ৭ বছর হবে। তাদের বাড়ী বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর গ্রামে। সেখান থেকে হারিয়ে গেছে প্রায় ১ মাস। এখনও ফিরে আসেনি। আপনি একটু পত্রিকায় লিখে দিন আর রেডিওতে বলতে বলেন। এই কথা বলেই হাউমাউ কান্না। আমি কি করব ভেবে পাই না। উপায় না দেখে তার মেয়ের নামসহ বিস্তারিত তথ্য নিলাম। তখন মেয়ের ছবি তো আর পাওয়ার কথা না।
জরুরী সংবাদের জন্য সরাসরি বরিশাল যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। মানবিক কারনেই বরিশাল চলে গেলাম।
দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদকে ঘটনাটি খুলে বললাম। তিনি পত্রিকার ঐ সময়কার চীফ রিপোর্টার কাজী মকবুল ভাইকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দিলেন।
কাজী মকবুল সুন্দর করে সংবাদটি লিখে বরিশালের সব কাগজ এবং জাতীয় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ঢাকার পত্রিকাসহ খুলনা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায় প্রকাশের ব্যাবস্থা করে দিলেন।
তখন মোবাইল বা আধুনিক টিএন্ডটি ফোন ছিল না। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে স্টেশনের মাধ্যমে ফোন করতে হত। সে ভাবেই অনেক কস্ট করলেন কাজী মকবুল ভাই। তার বন্ধু বাংলাদেশ বেতারের সংবাদদাতা। তাকে দিয়ে বেতারে প্রচারেরও ব্যাবস্থা করে দিলেন।
শ্রদ্ধাভাজন সম্পাদক ও চীফ রিপোর্টার শুধু বলল, তোমার আগ্রহ আর বলার আবেকের কারনে আমরা বিষয়টি এ ভাবে করলাম। না হয় শুধু আমাদের পত্রিকায় ছাপালেই পারতাম। কারন আমি ছিলাম দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার মুলাদী উপজেলা প্রতিনিধি।
আমি বিকালে শশুর বাড়ী চলে এলাম। ঐ দিকে কি হল তা আর তেমন কিছু জানতে পারলাম না। তবে একজনের মারফত জানতে পারলাম সংবাদটি বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত হয়েছে।
এর মধ্যে সপ্তাহখানেক নিজ বাড়ীতে থাকার পর আবার শশুর বাড়ী গেলাম। ঘুম থেকে উঠতেই দেখলাম আমার বউয়ের বড় ভাই শামীমের সাথে সেই লোকটি বাড়ীতে আমাকে দোয়া করতে করতে ঢুকছে। মাথায় বিরাট একটা তরমুজ। হাউমাউ করে কেঁদে বলল, সাংবাদিক জামাই আপনার কারনে আমার হারানো মেয়েটাকে খুঁজে পেয়েছি। একজন লোক রেডিওতে শুনে মেয়েকে তার বাড়ীতে পৌঁছে দিয়েছে। আমরাও খুশির খবরটি পেয়ে আনন্দ পেলাম। সবাই মিলে তাকে নিয়ে তরমুজটি খেলাম।
কিছু দিন পর তার অনুরোধে একদিন তার বাড়ীতে স্ব-পরিবারে বেড়াতে গিয়ে মেয়েটাকে দেখে এলাম।
Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4524471আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 8এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET