৭ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে রজব, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

সোনাগাজীতে স্থাপিত হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ১৪ ২০১৬, ১৯:৪১ | 644 বার পঠিত

Electricty
সোনাগাজী প্রতিনিধি –  বঙ্গোঁপসাগরের সন্নিকটে ফেনী নদীর মোহনায় পাশ্বে সোনাগাজীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রায় এক হাজার একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প। ইলেকট্রিসিটি জেনারেশান কোম্পানী অব বাংলাদেশ লিঃ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়নের চর পূর্ব বড়ধলী মৌজায় প্রায় এক হাজার একর জায়গার উপর এ বিদ্যুৎ প্রকল্প প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড অধিনস্থ পাওয়ার সেল এর তত্বাবধানে ও বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় উক্ত স্থানে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করে (ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি) করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কন্সালটেন্ট নিয়োগের টেন্ডার হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে এর পরিধি আরো বাড়বে বলে কোম্পানীর লোকজন জানিয়েছেন। সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে এ সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প হতে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এবং বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প হতে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎসহ মোট ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে যা দেশের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রীডে যোগ হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের লক্ষ্যে সোলার প্যানেলের নিচে উপকূলীয় প্রজাতির মৎস্য চাষের পরিকল্পনা আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সর্বপ্রথম অনন্য প্রকল্প হিসাবে বিবেচিত হবে। গত ৩০ জুন দুপুরে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয়ের সচিব মনোয়ার ইসলাম বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে এসে পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁর সাথে ছিলেন ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানী অব বাংলাদেশ লিঃ এর এমডি এটিএম জহিরুল ইসলাম মজুমদার, নির্বাহী পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) এ.এম মনসুর উল আলম, প্রকল্প পরিচালক ড. কাজী মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্লানিং ও ডেভেলপমেন্ট সেকশনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইব্রাহীম মুহাম্মদ শাফী আল মোহতাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুর রহমান, পিডিপির প্লানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর সদস্য মোহাম্মদ আবুল বাশার, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লা ও ফেনী জোনের প্রধান প্রকৌশলী, ফেনী জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার সার্ভেয়ার মোঃ মিজানুর রহমান, সোনাগাজী উপজেলার নির্বাহী অফিসার শরিফা হক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিদর্শী সম্বৌধী চাকমা, সার্ভেয়ার কবির হোসেন, তহশিলদার মোঃ ইলিয়াছ, এলএ শাখার চেইন ম্যান- মৃত্যুঞ্জয় কুমার দাস লিটন প্রমুখ।

সোলার ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এসে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে উপস্থিত লোকজনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, পৃথিবীর বহু দেশ ভ্রমন করে এরকম বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প দেখার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু আমার দেশের সাগরের কাছাকাছি অবারিত সম্ভাবনাময় প্রকল্প উপযোগী আর কোন স্থান চোখে পড়েনি। প্রকল্পের কাজটি যাতে দ্রুততম সময়ে শুরু করা যায় সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর কর্মকর্তা ও প্রশাসনের লোকদেরকে মৌখিকভাবে নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রকল্পের প্রজেক্ট ডিরেক্টর ড. কাজী মুহম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাংলাদেশের ‘প্রথম হাইব্রিড প্রজেক্ট’ যা এশিয়া মহাদেশের ও আর্ন্তজাতিক পর্যায় একটি মডেল হিসাবে গন্য হবে। প্রকল্প এলাকায় প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১০০০ একর ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে, পর্যাক্রমে এর পরিধি আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ভূমি বিভাগের সহায়তায় প্রকল্প এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে।

উক্ত প্রকল্প এলাকায় যাদের ভূমি পড়েছে তাদেরকে সরকারীভাবে ভূমির ক্ষতিপূরণসহ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, এ বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পটি সম্পূর্ণই পরিবেশের পক্ষে। এখানে প্রতিনিয়ত সাগরের দিক হতে বাতাস প্রবাহিত হয় আর সূর্যের রশ্মির তীক্ষতা বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল হতে কিছুটা বেশী। প্রকল্পটি যাতে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায় এ জন্য আমরা আর্ন্তজাতিক খ্যাতি সম্পন্ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরেজমিনে প্রকল্প এলাকার বাতাসের গতি এবং সূর্যের আলোর তীক্ষ্ণতা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

অপরদিকে জমির সর্বচ্চো ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রকল্প এলাকায় সোলার প্যানেলের নিচে মাছ চাষের প্রকল্পও হাতে নেয়া হবে যার মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে। স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, প্রকল্প এলাকাটি সাগরের নিকটে হওয়ায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ ছাড়াও জলোচ্ছাসের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্হানীয় অভিজ্ঞ লোক জন। তাই প্রকল্প এলাকার বাহিরে যত সম্ভব আউটার বেড়ীবাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরী।

তবে কিছু অভিজ্ঞ মহলের মতে আমাদের জমি সরকার নেওয়ার পর কাজটি বাস্থাবায়ন হবে কিনা? ইতিপূর্বে মাতা মুহুরী নদীর সেচ প্রকল্পের পাশ্বে বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্থবায়ন হয়৷ দু:খের বিষয় তাহা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছেন না৷ র্দীঘ দিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছেন৷ বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয়ের এ ব্যাপারে কোন উদ্দেগ নেই৷ আছেন সুদু নতুন প্রকল্পনিয়ে৷

অভিজ্ঞ মহলের মতে, দেশে প্রতিনিয়ত শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠায় বিদ্যুৎ সমস্যাটি দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে৷ বর্তমানে নবায়ন যোগ্য জ্বালানি হতে এ বিশাল বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন হলে আমদানিকৃত জ্বালানীর উপর ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশের নির্ভরশীলতা কমে আসবে ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে অনেকেই মনে করেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4405249আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET