২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই রজব, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

সোলারের আলোয় খুলনাঞ্চলের গ্রামগুলো আলোকিত

admin6

আপডেট টাইম : অক্টোবর ০৬ ২০১৬, ২২:২৪ | 664 বার পঠিত

মেহেদী হাসান,খুলনাঃ-

সোলার বিপ্লবের ফলে খুলনাঞ্চলের গ্রামগুলো এখন রাতের বেলাও আলোকিত। খুলনা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার লাখ লাখ পরিবার এখন ব্যবহার করছে সোলার। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও ব্যাপক ভিত্তিতে বিক্রি হচ্ছে সোলার। তবে সরকারি থেকে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সোলার বিক্রিতে এগিয়ে। পিছিয়ে পড়া এসব এলাকায় এখন প্রযুক্তির ব্যবহারও বেড়েছে।
বিদ্যুতের আলো না পৌঁছালেও খুলনার কয়রা উপজেলার প্রত্যন্ত লস্কর বাড়িতে এখন রাতের বেলা বিদ্যুৎতের আলো জ্বলে। মাটির কূপ অথবা হ্যারিকেনের আলোই যেখানে একসময় অন্ধকার দূরীভূত করার একমাত্র বস্তু ছিল এখন সেখানে চলে কম্পিউটার ও টেলিভিশন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা প্রাচীন রীতিতে এখন পরিবর্তনের সুর। দিগন্তে সূর্যের আলো নিভে যাওয়ার সাথে সাথে আলোকিত হচ্ছে ঘরবাড়ি। বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রা। বাড়ছে স্কুল কলেজগামী ছাত্র ছাত্রীদের সংখ্যা। পল্লী বিদ্যুতের সেবা বঞ্চিত এই গ্রামের মানুষগুলো জানান, এখন তারা ছেলে মেয়েদের নিয়ে ভালো আছেন। দিনের আলো নিভে গেলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে সোলারের আলোয় আলোকিত হচ্ছে ঘর-বাড়ি। ছেলে মেয়েরা পড়ার টেবিলে বসছে। পিছিয়ে পড়া এসব গ্রামগুলো এখন বিভিন্ন ধরনের বিপদ আপদ থেকেও এখন অনেকটা মুক্ত। খুলনা ও সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত বিলকিস, হরেন্দ্র নাথ, শেফালী বেগম, প্রতীমা রানী, রহিমা, কুদ্দুস, আব্দুর রহিম জানান, ‘আমাদের জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। সৌর বিদ্যুতের বদৌলতে আমরা এখন টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের সংবাদসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করছি। হাত পাখার পরিবর্তে ব্যবহার করছি সোলারে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক পাখা।’ শুধু তাই নয়, কম্পিউটারের ব্যবহারও শিখে ফেলছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব এলাকায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে সোলার সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ২০০৬ সাল থেকে শুরু হয় সোলার বিক্রির কার্যক্রম। সরকারিভাবে সোলার এনার্জি প্রজেক্ট এর আওতায় পলী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন গ্রামাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার বিক্রির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ফাউন্ডেশনের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ও নড়াইলের ১৬ উপজেলায় ৩ হাজার ৬৭৬টি সোলার বিক্রি করেছে।
পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক বেগম মনিজা বেগম বলেন, ‘যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল কল্পনাতীত এখন সেখানে পৌঁছে গেছে সোলার বিদ্যুৎ। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ এখন টিভি দেখছে। ছেলেমেয়েরা বিদ্যুতের আলোয় পড়াশোনা করতে পারছে। তিনি বলেন, তবে প্রচার প্রচারণা বাড়াতে পারলে এর ব্যবহার আরও বাড়ানো সম্ভব বলেই তিনি দাবি করেন।’ তিনি জানান, সরকারিভাবে সরবরাহ করা সোলারের মান ভাল থাকায় দাম একটু বেশী। যে কারণে গ্রাহকরা দাম কম থাকায় বেসরকারিভাবে সরবরাহ করা সোলারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে বেশী।
তবে এক্ষেত্রে ব্যপক সফলতা দেখিয়েছে সেরকারি বিভিন্ন সংস্থা। গ্রামীণ শক্তি নামে একটি বেসরকারি সংস্থার খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের দেয়া তথ্য মতে, ২০০৬ সাল থেকে এ সংস্থাটি ১ লাখ ১৯হাজার ৯০৩ টি সোলার বিক্রি করেছে। গ্রামীন শক্তির মত ১০/১২টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সোলার বিক্রির কাজ করে থাকে।
গ্রামীণ শক্তির আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: জাহিদুল ইসলাম বলেন, সোলার ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার মান বেড়েছে। তিনি জানান, সর্বনিম্ন ১০ ওয়াটের একটি সোলার দিয়ে ২টি বাল্ব জ্বালানো যায়। দাম মাত্র ৬ হাজার টাকা। এছাড়াও সর্বোচ্চ ৮৫ ওয়াটের একটি সোলারের মাধ্যমে একটি এলসিডি টিভি, ৭টি বাল্বসহ ফ্যান চালানো যায়। এর দাম কিস্তিতে মাত্র ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4383787আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET