
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ- ইয়াকুব মিয়া। বর্তমান বয়স ৬৫ বছর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধের সময় পড়তেন গুণবতী ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষে। সহপাঠিদের মধ্যে ১৬ জনই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ও আগরতলায় গিয়ে ট্রেনিং নেন। যুদ্ধ শেষে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে সৈয়দপুর যান। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় এলাকায় না আসায় মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হতে পারেননি তিনি। ১৯৫২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গুণবতী ইউনিয়নের পরিকোট গ্রামে জন্মগ্রহন করেন ইয়াকুব মিয়া। বাবা মৃত মুনসুর আলী, মা মৃত আমিরের নেছা। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ইয়াকুব মিয়া জানান, সহপাঠিদের মধ্যে অনেকেরই মনে দেশপ্রেমের প্রতি গভীর মনোযোগ থাকায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ২৫ মার্চ কালোরাতে পাক সেনাবাহিনী এ দেশের মানুষের উপর অন্যায়ভাবে হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে ২৭ মার্চ রাতে তারা ক্যাপ্টেন নাগের মাধ্যমে গুণবতী ব্রিজ উড়িয়ে দেন। এরপর আগরতলা গিয়ে সেক্টর কমান্ডার ভারতের শুভ্র মনিহামের আন্ডারে একটি ক্যাম্পে যান। সেখানে ছিল ১৬৭ জনের মত মানুষ। সবাই বাঙ্গালী মুক্তিবাহিনী। সেখানে থাকা, খাওয়া, কাজ, যুদ্ধের প্রস্তুতি ও জীবনমরণের সন্ধিক্ষণের প্রহর গুনতে গুনতে এক সময় শুনেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাধীন হয়েছে। তারিখটি ছিল ১৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল। তিনি সেখান থেকে ২৪ ডিসেম্বর ফিরে শুনের যে, তার যুদ্ধ যাওয়ার কথা শুনে এলাকার শান্তিবাহিনীর মৌলভী বজলের রহমানের মাধ্যমে তার বাড়িতে পাকসেনারা হামলা করে। সুবেদার আকবর (গুণবতীতে পাকিস্তানি আর্মি) তার মা ও ভাইকে টর্চার করে। মাকে মেরে বড় ভাই মোফজলের রহমানকে বোর্ড অফিসে নিয়ে টর্চার করেছিল। তার মা পাকিস্তানিদের অত্যাচার ও টর্চারে আঘাতপ্রাপ্ত ও ভয়ে ১৯৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ইয়াকুবের সহযোদ্ধারা হলেন- আবদুল মোতালেব, আবদুল হক, আবদুল মান্নান, সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, আবু তাহের, মোঃ আলী, আলী হোসেন চেয়ারম্যান। আর গুণবতী ডিগ্রি কলেজের ছাত্র হিসেবে সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন আবদুল জলিল (কুমিল্লা জেলা আইজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি), মীর কাসিম, শাহজাহান, হাসান, আবদুল হাই, আলী হোসেন, বক্সগঞ্জের ২ জন, ঢালুয়ার ২ জন, আবদুল লতিফ (পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে গুনবতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন ও রোড এ্যাক্সিডেন্ট করে মারা যান, মূল্যায়িত হননি, ভাতা পাননি)। সবাই মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হলেও ঘটনাচক্রে তিনি হতে পারেন নি। অথচ ইয়াকুব মিয়া ওরফে ইয়াকুব আলী ম