১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

হায়রে শ্বশুর বাড়ি-আল রায়হান রানা।।

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ১১ ২০১৬, ০২:৫৩ | 686 বার পঠিত

13884396_1759283334314324_1141205063_n হায়রে শ্বশুর বাড়ি-
আল রায়হান রানা।।
নির্জন
রাস্তাবন্ধ পথিক রাজু।কাচা রাস্তার
কাদায় পা দুইটির মান
বিসর্জন দিয়ে শ্বশুর বাড়ির সামনে
এসে পৌছেই
মনে হলো তার খালি হাতে আসা উচিত হয়নি।
কি করবে এখন ভাবতে ভাবতে পথের
ধারের
কচুরডগার দিকে নজর পড়ল
বেচারার।
ইস যদি কচু
জাতীয় সবজী হতো তাইলে হয়তো
আজ মান থাকতো।
নিজেকে কোন ভাবে মানাতে পারছিল না
তবুও ধীরে ধীরে শ্বশুর বাড়িতে
ঢুকলো।
জামাইকে পেয়ে সবার সেবার কোন
কমতি নেই।
কেউ বসার কাজে,কেউ খাবার নিয়ে,
কেউ শুইবার জায়গা নিয়ে ব্যস্ত। শালা
শালির
তোষামোদপূর্ণ ব্যবহারে সন্তুষ্ট হলেও
একটু সন্দেহজনক। কি জানি পরে কি
চেয়ে বসে।
চারদিকে মেহমান।অনেক মুখ
রাজুর অজানা।তাই
কারো সাথে কথোপকথন ঠিক মনে
করছে না।
বাড়ির সকলেই তার খবর নিল
কিন্তু বউ কই?উঠানের
একটা কোণায় দাড়িয়ে মহিলাদের
কাজ করা
দেখছে।ভাবিরা সব পাক্কন পিঠা
বানানো নিয়ে
ব্যস্ত।
সবাই জানে জামাই বাবুর
পিঠা বড়ই পছন্দের।
কোথাথেকে যেন আচমকা এক
শব্দ এলো “জামাই বাবু ও জামাই বাবু এত
গরমে আমাগোরে
ঠান্ডা পানি খাবাইলে কি অয়,এত
কিপ্টে কে তুমিই”।
হায়রে ইজ্জত তুরেও শেষ পর্যন্ত
হারাতে
হবে হতভাগার।খালি পকেটস্থ
মানুষের ইজ্জত
যেন একটু বেশিই থাকে।যার
কারনে সেখানে
এক মুহুর্তের জন্যে দাড়ায়নি রাজু।
শোবার ঘরে
এসে ক্লান্ত দেহের ক্লান্তি দুর করতে
বিছানায়
পিঠ ঠেকাতেই ডাক পড়লো
“জামাইরে পিঠা দে
খাইয়া কওক কেমন হইছে”।
আহারে বিয়ে আর
জীবনেও করবেনা বলে শপথনামা
পড়তে
পড়তে উঠানে এলো।এসে দেখে
সোনার
বউ পিঠা খায় আর বিলাপ
করতেছে “মাগো
তোমার জামাই আমারে শান্তির
পিঠা খাওয়াইয়া কুল
পায়না আর খাওয়াইব পাক্কন
পিঠা”।এত কষ্ট করে
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা
উপার্জন করে যার
সাধনা করে গেল সেই বলে অসাধু,
পাপিষ্ঠ।
এ কথা শুনে রাজুর প্রান যেন উড়ে
যাবে উড়ে
যাবে ভাব।কোন রকমে নিজেকে
সামলিয়ে বউয়ের কাছে বসে পিঠা হাতে নিয়ে
প্রশ্ন
করে- এতক্ষন কোথায় ছিলে?প্রশ্ন
করা থামার
আগেই বউয়ের অপ্রত্যাশিত জবাব
পেয়ে রাজুর
মাথায় বারি পরে।উনি নাকি
এতক্ষন ভাবির ঘরে ছিনেমা
নিয়ে মগ্নচৈতন্য ছিল।
রাত প্রায় একটা বাজে।সবাই কাজ
শেষ করে যার
যার শুইবার ঘরে চলে যাচ্ছে।
এক
সময় পুরো বাড়ি নিরাল হয়ে গেল।রাজু ঘরে
একা আর কিছু দুর
ভাবিরা তার বউয়ের সাথে গল্প
করছে।খুব একা
লাগছে তা বড় নয় নিজের অপমান
হচ্ছে ভেবে
সে অভিমানশূন্য মনে গান গাইছে
“”যে নৌকার ভরসায় সিন্ধুতে পা
দিলাম সেই নৌকাই ভাসে অন্য কুলে………”””.।
অনেক রাত পর্যন্ত সজাগ থেকে
কখন যে
ঘুমিয়ে পড়লো নিজেই জানে না।
ভোরে গ্রাম
প্রহরীর “জাগো এলাকাবাসী
“শ্লোগান শুনে
ঘুম ভাংলেও বিছানা ত্যাগ করেনি
রাজু।পাশে চোখ
পড়তেই দেখে তার বিবিজান
অতিশান্ত মনে
চিরসুঃখে নিদ্রিত।রাজু তার
বউয়ের দিকে তাকিয়ে
কিছু ভাবতে শুরু করলো আর
নিজে নিজে
বলতে লাগলো “এ সে নয় যাকে
ভালোবেসে আমি সব ছেরেছি। এ
হয়তো
অন্যকেউ যাকে চিনেও চিনি না।
এক দিনে এত
বদলে যায় মানুষ। নিয়তি কি তাই
চেয়েছিল?
আর কিছু
বলতেই বউয়ের ঘুম কেটে যায়।
রাজু প্রথমে
থমকে যায় কিন্তু বউয়ের কথায়
স্বাভাবিকতা ফিরে
পায়।””তুমি কি মনে করো আমি
দুরে দুরে ছিলাম।
না তা নাগো আমি ঘুরে ঘুরে
দেখছিলাম তুমি কি
করছো?
বুঝিলে!আর মায়ের সাথে
যখন কথা বলি
তুমি আমার পিছনে ছিলে সেটা
আমি জানতাম
দেখলাম কি অবস্থা হয়
তোমার?
আমি টিভি ভবন ঘৃনা
করি জেনেও কি করে বিশ্বাস
করলে আমি
ছিনেমা দেখছিলাম?
আমায় এতোটা বিশ্বাস করতে
তাইনা?
“”রাজু কি
বলবে খুজে পাচ্ছিলো না।
বিবিজানকে জড়িয়ে
ধরে বলল ভাবি আমায় ঠান্ডা
পানির কথা
বলেছিল…
“”.আমি সেই কাজ
বলার সাথে সাথেই
করে দিয়েছি।এবার চলো মুখ ধুয়ে
নাস্তাটা
সেরে বাড়ি ফিরতে হবে “”আর
কিছু কথা বলতে
বলতে রাজুর সেই গানের মাঝি
ঘরের বাইরে
চলে গেল।রাজু কপালের মাপ নিয়ে
দেখে তিন
আংগুলের কপাল তাই তার সাথে
এমন হয়।হায়রে
নিয়তি নিজের বউকেই চিনে না
সে….!সকালে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এই
জোড়া কইতর
নিজের নিড়ে ফিরে গেল।
Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4522427আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET