২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

১০ টাকা কেজিতে চাল- দেশে দুস্থ মানুষ থাকবে না

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ০৮ ২০১৬, ০৫:১৪ | 645 বার পঠিত

30821_f2নয়া আলো ডেস্ক- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের একটি মানুষও না খেয়ে কষ্ট পাবে না। যারা গৃহহারা হয়েছে, যাদের ঘর নাই, তারা ঘর পাবে। কেউ বিনা চিকিৎসায় মরবে না। দুস্থ মানুষ থাকবে না। সকল ছেলেমেয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। ১০ টাকা কেজি দামে দরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সারা দেশ ঘুরে দেখেছি। দেখেছি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা। ছিয়ানব্বই সালে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের মানুষের উন্নতি হয়েছে। মানুষ যেন না খেয়ে কষ্ট না পায় এজন্য সামাজিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। কুড়িগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা ও নদী ভাঙনে যারা গৃহহারা হয়েছে তাদের জমি  দেবো। ঘরবাড়ি দেবো। যারা দরিদ্র-ক্ষুধার্ত তাদের মুখে অন্ন তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদিকে আমরা দেশের দুর্ভিক্ষ দূর করার চেষ্টা করছি। অপরদিকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে বিএনপি-জামায়াত। ইসলামে কোথাও মানুষ খুন করার কথা বলা নাই। যারা মানুষ খুন করে তারা ইসলামের লোক হতে পারে না। এদের সম্পর্কে সজাগ হতে হবে। এজন্য জনমত তৈরি করতে হবে। আমাদের যুব সমাজ আমাদের সম্পদ, তারা যাতে বিপথে না যায়, মাদকাসক্ত না হয় এজন্য বাবা-মা, শিক্ষক, নির্বাচিত প্রতিনিধি সকলের কাছে আবেদন আপনাদের সন্তানরা কে কোথায় যায় সে ব্যাপারে নজর রাখুন। তাদের কথা শুনুন। বিএনপি ভারতের কাছে ছিটমহল বিনিময় ও সীমানা নির্ধারণের কথা উচ্চারণ করার সাহস পায়নি। কিন্তু আমরা শান্তিপূর্ণভাবে স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়ন করি। আমরা ছিটমহল বিনিময় করেছি। সারা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। বাংলাদেশের জন্য এটি ঐতিহাসিক ঘটনা। আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে বিশাল সমুদ্র এলাকা বাড়িয়েছি।
তিনি বলেন, যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে তাদের বিচার করেছি। ’৭১ সালে যারা নির্যাতন, হত্যা ও লুটপাট করেছে সেসব যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হচ্ছে। আমরা আমাদের প্রজন্মকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চাই। আমরা বিনামূল্যে বই তুলে দিচ্ছি। বাবা-মাকে আর কষ্ট করতে হবে না। এছাড়াও শিক্ষা সহায়তা ফান্ড তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় একটি কলেজ ও একটি স্কুলকে সরকারিকরণ করেছি।
তিনি বলেন, দেশের যুব সমাজকে কর্মক্ষম করতে বিনা জামানতে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে বেকারত্ব দূর হয়। দেশের কৃষকদের সহায়তায় ৩ দফা সারের দাম কমিয়েছি। এ জন্য ভর্তুকি দিয়েছি। ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিনা জামানতে বর্গাচাষিদের কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করেছি।
তিনি বলেন, চিলমারী বন্দরের পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করা হবে। চিলমারী থেকে পায়রা সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। কুড়িগ্রামের ১৬টি নদীর নাব্য দূর করার জন্য ড্রেজিং করা হবে। এ জন্য সমীক্ষার কাজ চলছে। এছাড়াও দ্বিতীয় ধরলা ব্রিজ ও রাস্তা নির্মাণে কাজ করা হচ্ছে। রেল সংযোগ আরো উন্নত করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তুলবো। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে দিতে। আওয়ামী লীগের হাতকে শক্তিশালী করুন। আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সমবেত হোন।
খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি’র সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও চিলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী সরকার, বীর বিক্রম প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এএম বদরুদ্দোজা। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এমপি একেএম মাঈদুল ইসলাম মুকুল, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এমপি রুহুল আমিন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. জাফর আলী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।
‘হামার দুঃখের দিন তো ঘুঁচি গেইল বাহে’
‘শেখের বেটি হাসিনা হামাক ১০ ট্যাকায় চাউল খোওয়াইবে। এটা হামরা কল্পনাতেও আনবার পাই নাই। হামার দুঃখের দিন তো ঘুঁচি গেইল বাহে।” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৩০ কেজি চাল পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ফাতেমা বেগম (৬৫) এ অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন। হতদরিদ্র মানুষের মাঝে প্রতিকেজি ১০ টাকা দরের ৩০ কেজি করে চাল বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে বুধবার চিলমারীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একে একে  ফাতেমা বেগম, হালিমা বেগম, শ্রীমতি বাসন্তী রানী, শ্রীমতি মালতি রানী, জিয়ারা খাতুন, রশিদা খাতুন, আঃ হক, আজিজুল হক, জাহাঙ্গীর আলম, আবু বকর সিদ্দিক, আলিফ উদ্দিন, আমজাদ হোসেন, মোস্তফা আলী, আঃ খালেক ও ফরিদ উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এ চাল পেয়ে আনন্দে উদ্বেলিত। মালতি রানীর স্বামী ভবেশ চন্দ্র দাস জোড়গাছ মাঝিপাড়ার অধিবাসী। জমিজমা নেই। মাছ ধরতে পারলে জোটে খাবার, না হলে উপোস। তিন মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে টানাটানির সংসার। ‘রেশন কার্ড’ পেয়ে তিনি আনন্দে উদ্বেলিত। বাসন্তীর স্বামী মনোজ মাছ ধরেন। তার ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে। রূপবান দু’বছর আগে আকস্মিকভাবে স্বামী নুর ইসলামকে হারিয়ে ২ ছেলে ও ৫ মেয়েকে নিয়ে পড়ে অথৈ সাগরে। সন্তানদের লালন-পালন করতে তিনি কাজ নেন চাতালে। সে কাজও নেই এখন। এরকম দুঃখের দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ রেশন কার্ড পেয়ে তিনি খুবই খুশি। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, আল্লাহ  যেন তাকে (শেখ হাসিনা) দীর্ঘজীবী

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4643919আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 12এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET