দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর শহরের এক ব্যবসায়ীর পারিবারিক কলহকে পুঁজি করে তাকে অপহরণসহ সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উপজেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির আহমেদ এর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন এনসিপি নেতা জাকিরের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি অপহরণ ও ছিনতাই মামলা করেছেন। মামলায় জামিন পেয়ে এসে তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মামুন।
ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মামুন সংবাদ সম্মেলনে তার লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান। সোমবার ( ৪ মে) বেলা ১১টায় পৌর শহরের সুজাপুর গ্রামে তার নিজ বাড়ীতে এই সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মামুন ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, এই জাকির আহমেদ কখনও নিজেকে এনসিপি নেতা কখনও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিভিন্ন ভাবে চাঁদাবাজী করে আসছে। এরই মধ্যে দীর্ঘ ২বছর ধরে আমার অবাধ্য স্ত্রী মিনারা পারভীনের সাথে আমার পারিবারিক কলহের জেরে সে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছে। আমার মাদকাসক্ত শ্যালক জাহাঙ্গীর হাসান মিলন (বোতল মিলন) সম্প্রতি এনসিপিতে যোগ দিলে জাকিরের সাথে তার যোগাযোগ হয়। আমাদের পারিবারিক কলহকে পূঁজি করে জাকির ও বোতল মিলন গত ২৬ মার্চ রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ী ফেরার পথে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১০/১৫ জনের একটি দল নিয়ে আক্রমণ করে। এসময় তারা আমাকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে বেধড়ক মারধর করে এবং আমার পকেটে থাকা সাড়ে ৫ লাখ টাকা বের করে নেয়। হত্যায় ব্যর্থ হয়ে আমাকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে মাদকসেবী সাজিয়ে রংপুরে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে টাকার বিনিময়ে আটকে রাখে। পরে আমার পরিবারের লোকজন খোঁজ পেয়ে আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে ১৭ দিন চিকিৎসার পর আমি সুস্থ হই।
এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত ১৬ এপ্রিল জাকির ও বোতল মিলন আমার স্ত্রীকে দিয়ে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করায়। সেখানে আমার স্ত্রী মিনারা পারভিন দাবি করে আমি নাকি মাদকাসক্ত। আমি নাকি তাকে নির্যাতন করেছি। অথচ সে বাবার বাড়িতে আছে দু বছর থেকে। তাহলে তাকে কীভাবে মারধর করেছি? ওই সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আমি নাকি মেয়েকে কোন ভরণপোষণ দেইনা। প্রকৃত সত্য হলো, আমার মেয়ে একটি বেসরকারী মেডিকেলে পড়ে। এ পর্যন্ত তার পেছনে ৮০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে তার ব্যাংক ডকুমেন্ট আমার কাছে রয়েছে। আমি মাদকাসক্ত নই মর্মে আমার মেডিকেল সার্টিফিকেট রয়েছে।
জাকির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে মাদকাসক্ত বলে প্রচার করে ও আমাদের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তিকর পোস্ট করে ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুন্ন করে। এঘটনায় ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধারে ও বিচার চেয়ে এনসিপি নেতা ও সাংবাদিক পরিচয়দানকারি জাকির আহমেদ এবং বোতল মিলনের বিরুদ্ধে ১৮ এপ্রিল ফুলবাড়ী থানায় একটি ছিনতাই ও অপহরণ মামলা করি। এই মামলায় তারা জামিনে এসে আবারও আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় আমার জানমাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সঠিক জীবনযাপনের স্বার্থে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মামুন এর বাবা আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক ও ছোট ভাই আহসান হাবিব সাজু উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে এনসিপি নেতা জাকির আহমেদ এর সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে তা সম্পুর্ন বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন । হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন আমি জামিনে আসার পর থেকে তার সাথে দেখা বা কোন যোগাযোগ হয়নি।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দিনাজপুর জেলা সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ইমরান চৌধুরী নিশাদ জানান, বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক ভাবে জাকির আহমেদকে কারন দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। যদি কোন ব্যক্তি দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করে, তার দায় দল নেবে না। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শীঘ্রই বাকি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
মঙ্গলবার , ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
অপহরণ ও ছিনতাই মামলায় জামিনে এসে বাদীকে হত্যার হুমকি এনসিপি নেতার
প্রকাশিত হয়েছে- প্রকাশ করেছেন- মোঃ আবু শহীদ, ফুলবাড়ী,দিনাজপুর করেসপন্ডেন্ট।
Please follow and like us: