সোমবার , ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

আগৈলঝাড়ায় উন্নয়ন মেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন দৃশ্যমান চিত্র প্রদর্শণ

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- মোহাম্মদ ইমন মিয়া, বাঙ্গরা,কুমিল্লা করেসপন্ডেন্ট।

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধিঃ
“উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ’’ শেখ হাসিনার দর্শণ, সব মানুষের উন্নয়ন”-এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ৪অক্টোবর সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী ৩ দিনের উদ্বোধন হওয়া ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলায় বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রান্তিক জনগোষ্ঠিসহ জনগনের কাংঙ্খিত উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের চিত্র উন্নয়ন মেলায় দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেন সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তর সমূহ। দক্ষিণাঞ্চলবাসীর প্রাণের দাবি স্বপ্নের পদ্মা সেতু দিয়ে একসাথে পরিবহন ও ট্রেন চলাচল, মেট্রো রেল, পদ্মা সেতুর সংযোগের নয়নাভিরাম ছয়লেন সড়ক, দক্ষিণের বিভিন্ন নদীর ওপর নির্মিত দীর্ঘ ব্রীজ, বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ডিজিটাল ক্লাশ রুমসহ সরকারের ব্যাপক দৃশ্যমান উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার প্রতীকি নির্মাণ করে জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয়েছে। আর এসব একাধিক দৃষ্টিনন্দন উন্নয়ন চিত্র উদ্ভাবন করেছে আগৈলঝাড়ার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এসবের বাইরে মেলে ধরা হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ-এলজিইডির গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের প্রতীকি চিত্র। এতে বর্তমান সরকারের সময়ে বদলে যাওয়া গ্রামীণ জনপদের বর্তমান চেহারার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। সারাদেশের ন্যায় বরিশালের আগৈলঝাড়ায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে
তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার নানা স্টলে বর্তমান সরকারের মেয়াদে এরকম অসংখ্য উন্নয়নের প্রতীকি চিত্র মেলে ধরা হয়েছে। মেলায় আসা নানা শ্রেণী ও পেশার দর্শক সরকারের এসব উন্নয়নের সাথে বাস্তবতা মিল খুঁজে পেয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনীর ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল হক তালুকদার জানান, উন্নয়ন মেলাকে সামনে রেখে আগে থেকেই উপজেলার ৯৭টি বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত উন্নয়নের শিখন কৌশল উদ্ভাবনের জন্য প্রতীকি তৈরির জন্য প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। সে অনুযায়ী মেলা উদ্বোধনের আগের দিন প্রতিটি স্কুল থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে তৈরী করা প্রতীকিগুলো শিক্ষা অফিসে জমা দেয়া হয়। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সেসব উদ্ভাবনকে মেলার মাঠে প্রদর্শন করে সর্বমহলে তারা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। নানা শ্রেণী ও পেশার দর্শক সরকারের এসব উন্নয়নের সাথে বাস্তবতা মিল খুঁজে পেয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনীর ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। মেলায় রনাঙ্গণ কাঁপানো বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের সময় তাদের ব্যবহৃত প্রতীকি আগ্নেয়াস্ত্র ও নারী উদ্যোক্তারা তাদের বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী মেলে ধরেছেন। এছাড়া সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জণ বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে মেলায় তাদের উন্নয়নের নানা কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বরিশাল পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ এর আওতায় আগৈলঝাড়া জোনাল অফিস সূত্রে সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলার একমাত্র শতভাগ বিদ্যুতায়ন উপজেলা আগৈলঝাড়ার গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে করনীয় বিষয়ে নানাচিত্র মেলায় প্রদর্শন করা হয়। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া উন্নয়ন মেলার শেষ দিন শনিবার বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মেলা মঞ্চে আগত দর্শকদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছিলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এনিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মেলায় আসা দর্শক শ্রোতারা। ‘উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ’ শ্লোগানকে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় আগৈলঝাড়ার উন্নয়ন মেলায় উপজেলা পরিষদের ৩৭টি দপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থা, ব্যাংক-বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং স্থানীয় নানা উন্নয়ন সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী রাজকুমার গাইন জানান, মেলায় তারা গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে নির্মিত প্রতীকি চিত্র-উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, সেতু ও কালভার্ট, পল্লী সড়ক উন্নয়ন, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, গ্রোথ সেন্টার, সাইক্লোন শেল্টার, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, বীর নিবাসসহ বদলে যাওয়া গ্রামীণ জনপদের বর্তমান চেহারার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের নয় বছরে জাতির পিতার ভাগ্নে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি, মন্ত্রী পদ মর্যাদায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি পরিবীক্ষন ও মূল্যায়ন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক, স্থানীয় এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর আপ্রাণ প্রচেষ্ঠায় তারা ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত উপজেলায় মোট ২শ ২৫ দশমিক ৪৭৬ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করেছেন। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে অসহায়-অবহেলিত জনগোষ্ঠির জন্য কাজ করছে সরকার। তার দপ্তর থেকে ৭ হাজার ২শ ১২জন ব্যাক্তি বিভিন্ন ভাতা পাচ্ছেন। এরমধ্যে বয়স্ক ভাতা ৪১৪১জন, বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্ত ভাতা পাচ্ছেন ১৩৪৬জন। মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে ৫শ ৪০জনকে। প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ৯৪৫জন, অনগ্রসর ও বেঁদে জনগোষ্ঠি ভাতা প্রাপ্ত ৪৮জন, হিজরা ভাতা ৪জন, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি ১২৭জন, হিজরা শিক্ষা উপবৃত্তি ১জন। এছাড়াও ২০৯৪জন প্রতিবন্ধীকে পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে। তার অধিদপ্তরের আওতায় ১১৮টি সংস্থার মাধ্যমে ১৯,৯১৫জন ব্যাক্তি ঋণ সুবিধা গ্রহণসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করছেন। এছাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কবীর উদ্দিন জানান, সরকারী বরাদ্দ কাবিখা, কাবিটা, টিআরের মাধ্যমে ৩৬ কোটি ৮১ লাখ, ৯ হাজার ২শ ৩১ টাকার এবং ২৮ হাজার ৬শ ৪২ দশমিক ৭শ ৪৩ মেট্টিক টন খাদ্য শষ্যের মাধ্যমে ৩ হাজার ১শ ৬৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উপজেলায় ভিজিএফ ও ৪০দিনের কর্মসূচীতে ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৩ জন উপকারভোগী রয়েছেন। পাশাপাশি মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় নগদ ৪০ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ১ হাজার ৪৩ দশমিক ৫শ টন খাদ্যশষ্য বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার ৫২টি পরিবারকে সৌর বিদ্যুৎ প্রদান ও ৩শ ৪৫টি স্থানে ষ্ট্রিট লাইট বা সড়ক বাতি স্থাপন করে আলোকিত করা হয়েছে গ্রামীণ জনপদকে।
উন্নয়ন মেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্টলে তুলে ধরা হয়েছে সরকারের মেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নানা উন্নয়নের চিত্র। এতে লোডশেডিং এর কবল থেকে বের হয়ে আসতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছে। আগৈলঝাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. হযরত আলী জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ও স্থানীয় সাংসদ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর সহযোগীতায় বরিশালের মধ্যে সর্বপ্রথম একমাত্র শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে আগৈলঝাড়া উপজেলাকে রূপ দেয়া সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরের ২২ আগষ্ট প্রধানমন্ত্রী একযোগে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণায় আগৈলঝাড়া উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা প্রদান করেন। মেলার স্টলে দশনার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেলেন জোনাল অফিসের টেকনিশিয়ান সৈয়দ জাকির হোসেন। তিনি জানান, উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের ৭ হাজার ১৭৯, রতœপুর ইউনিয়নে ৬ হাজার ৪১২, বাকাল ইউনিয়নে ৫ হাজার ৭৬০, বাগধা ইউনিয়নের ৬ হাজার ৫৮৬, রাজিহার ইউনিয়নের ৯ হাজার ৬০২টি পরিবারের মধ্যে এখন সবাই বিদ্যুতের সুবিধা গ্রহণ করছেন। বানিজ্যিক ও আবাসিক মিলিয়ে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা ৪০ হাজার ৮শ ৫৫জন। ২০০৯ সালের পূর্বে গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ১শ ৩১ জন। তিনি আরও জানান, পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে সরকারের বৈপক্ষবিক পরিবর্তনকেও মেলায় তুলে ধরেছেন স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের কর্মকর্তারা। মৎস্য বিভাগের স্টলেও ছিলো সরকারের সাফল্য মেলে ধরার প্রতিযোগিতা। হাঁঁস, মুরগি, ছাগল ও গরুর যেকোন রোগবালাই ও সমস্যা সমাধানে মোবাইল ফোনে সেবা প্রদানের দাবি করেছেন প্রাণি সম্পদ বিভাগের স্টলে থাকা কর্মকর্তারা। এসব উন্নয়নের বাইরে সরকারের নানা প্রতিষ্ঠানের সেবাদান নিয়ে একধরনের প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছিলো মেলার স্টলগুলোতে। মেলায় ১১০টি স্পট মিটারিং করে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।
মেলার আয়োজক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস জানান, আগামী ২০২১ সালে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে আগামী ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে একটি বাড়ি একটি খামার, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচী, কমিউনিটি ক্লিনিক, পরিবেশ উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও বিনিয়োগ বিকাশসহ সরকারের ১০টি বিশেষ উদ্যোগ প্রচার করার জন্যই উন্নয়ন মেলার আয়োজন। সরকারের সকল উন্নয়ন সম্পর্কে সকল জনগন জানে না। সরকারের উন্নয়ন সবার কাছে পৌছে দিতেই সরকারের এই উন্নয়ন মেলার আয়োজন। মেলার ষ্টলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস প্রথম, পল্লী বিদ্যুৎ দ্বিতীয় ও যৌথভাবে একটি বাড়ি একটি খামার ও উদ্বাবনীর জন্য শুভ নামের এক শিক্ষার্থী তৃতীয় স্থান অর্জণ করায় তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।

Please follow and like us: