, || - ||

আস্ত নেই সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়ক: দুর্ভোগে নাকাল চার উপজেলার মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

এসএম শহীদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা থেকেঃ- সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়কটির ছাল চামড়া উঠে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই খালের আকার ধারণ করে গর্তগুলো। শুষ্ক আবহাওয়া ধুলোর আবরণে ধুয়াচ্ছন্ন মনে হয় জেলার অন্যতম প্রধান এই সড়ক। সাড়ে ছয় বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির এমন বেহাল হয়েছে। সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়কের ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে ২৫ কিলোমিটার রাস্তা আস্ত নেই। এতে করে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কে  ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে সময় লাগছে দ্বিগুণ। পথের মধ্যে প্রায়ই  বিকল হয়ে ‘আর যেতে পারবো না বলে দাঁড়িয়ে যায় যানবাহন’। এতে দুর্ভোগে নাকাল হতে হচ্ছে চালক ও যাত্রীদের।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জেলা কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশাশুনি থেকে জেলা সদরে যাতায়াতের এটি প্রধান সড়ক। ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৪ কিলোমিটার ও আশাশুনি উপজেলায় ১৬ কিলোমিটার রয়েছে। আশাশুনির ১১টি ইউনিয়নসহ সদর উপজেলার চারটি ও তালার একটি ইউনিয়ন, শ্যামনগর এবং খুলনার পাইকগাছা ও কয়রার মানুষও এ সড়ক ব্যবহার করে। দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনে চলাচল করতে হয়। আবার শীত মৌসুমে ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ধুলোবালিতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।  সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের আলিয়া মাদ্রাসার মোড়, দহাকুলা মোড়, ধুলিহর সাহেববাড়ির মোড়, চেলারডাংগা মোড়া, জাহানাবাজ নারকেলতলা মোড়, কোমরপুর স্কুল মোড়, আমতলা মোড়, খাবাড়ির মোড়, কানাবুড়ির মোড়, ঘোলঘোলে, ধুলিহর বাজার,ভালুকা চাঁদপুর, বুধহাটা বাজার ও নোয়াপাড়া এলাকায় খানাখন্দে ভরা। আবার কোথাও কোথাও পিচ উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বড় গর্তগুলোয় ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। এর ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচলের ফলে এসব খোয়া রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়কে অর্ধশতাধিক বাস চলাচল করে। বাসচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঝাকায় ঝাকায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই বাসের যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় গাড়ি নষ্ট হয়ে মাঝপথে পড়ে থাকে। এসব কারণে যাত্রীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। ৩০ কিলোমিটার সড়ক পার হতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মতো। অথচ রাস্তা ভালো থাকা অবস্থায় এর অর্ধেক সময় লাগত। আশাশুনির বুধহাটা স্কুল এন্ড কলেজের এক শিক্ষক বলেন, সড়কটির বেহাল দশার কারণে দুর্ঘটনা লেগেই আছে। স্থানীয় ডিবি গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক এমাদুল ইসলাম বলেন, শনিবার সন্ধ্যার পর সামান্য ঝড় বৃষ্টি হয়। এতে স্কুলটির সামনে সড়কে পানি জমে খালের আকার ধারণ করে। অনেক শিক্ষার্থী সাইকেলে করে বিদ্যালয়ে আসে। যানবাহনকে পাশ কাটাতে গিয়ে তারা প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হয়। অভিভাবকেরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর আলিয়া মাদ্রাসার মোড়ে এক কিলোমিটার ও যতন মালির মোড় এলাকার আড়াই কিলোমিটার স্থান মেরামতে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। সেই টাকা দিয়ে ইটের খোয়া ও ঘ্যাস দিয়ে গর্ত ভরাট করা হয়। পরে আবার যা তাই হয়েছে সড়কটি। সড়কটি মেরামতে বরাদ্দ পাওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Please follow and like us: