সিরাজগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ আশরাফুল :সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা ১০ টাকা কেজি দরের চাল চোরাইপথে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতি, সঠিক মনিটরিংয়ের অভাবসহ কিছু কারণে এমনটি ঘটছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তা ছাড়া চালের গুণগত মান নিয়েও রয়েছে অভিযোগ।
সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের এই চাল সপ্তাহের সোম, মঙ্গল ও বুধবার বিক্রির নির্ধারিত দিনে উপজেলার বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় কিছু ফড়িয়া ও কালোবাজারি এবং কয়েকজন ডিলার উপকারভোগীদের কার্ডের বিপরীতে এক শ টাকা হাতে ধরিয়ে বিদায় করে দিচ্ছেন। অনেক সময় কড়াকড়ি হলে তাদের দিয়েই চাল উত্তোলন করে পরে সেগুলো নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নিচ্ছেন।
গত সপ্তাহে উপজেলার গান্ধাইল ইউনিয়নের দুবলাই কেন্দ্রের ৬০ বস্তা চাল দুটি ভ্যানে করে চোরাকারবারিদের নিয়ে যেতে দেখা গেছে। একই দিন ওই ইউনিয়নের উদগাড়ি কেন্দ্রে উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এ কে এম শাহা আলম মোল্লা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে খলিল ও জহুরুল নামের দুই চোরাকারবারিকে ৫৩ বস্তা চালসহ হাতেনাতে আটক করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী দুই চোরাকারবারিকে ১৫ দিন করে জেল দিয়েছেন। এর আগে চরাঞ্চল থেকে ৬৫ বস্তা চাল জব্দ করেন পিআইও।
উপজেলার চরাঞ্চলে এই অবস্থা আরো খারাপ। অনেক ডিলার চাল উত্তোলন না করে কিছু সুবিধাভোগীকে এই পারে নিয়ে এসে চাল বিতরণ করেন।আর বাকি সব চলে যায় চোরাইপথে।
এই অঞ্চলের ডিলারদের একই অভিযোগ, তাঁদের পরিবহন খরচ অনেক বেশি। তেকানি ইউনিয়নের ডিলার আহসান হাবিব মজনু ও নাটুয়ারপাড়া ডিলার আবুল কালাম বলেন, ‘নৌ পারাপারে অনেক খরচ হয়। যা কভার করা যায় না। এ কারণে আমাদের লোকসান গুনতে হয়। ’
কাজিপুর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুবহান জানান, যমুনা নদীর পূর্ব পারে ছয়টি ইউনিয়নের অবস্থান হওয়ায় পরিবহন খরচ বেশি হচ্ছে। দুর্গত এলাকা ঘোষণা না হওয়ায় অতিরিক্ত পরিবহন খরচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত তিন মাসে কাজিপুরে ১৩ হাজার ৮১০ পরিবারকে ১০ টাকা মূল্যের ৪১৪ মেট্রিক টন চাল সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরবরাহকৃত চালের সরকারি মূল্য এক কোটি ৮০ লাখ টাকা। তাতে সরকারিভাবে এক কোটি ৪৪ লাখ টাকা ভর্তুকি দিয়ে মাত্র ৩৫ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ টাকায় এই চাল বিতরণ করা হচ্ছে।