, || - ||

কাপাসিয়ায় রিক্সাওয়ালাদের কাছ থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজি

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ- কাপাসিয়া উপজেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে শহরের বাসস্ট্যন্ড ও তাঁর আশপাশ থেকে প্রায় এক হাজার রিক্সা, অটোরিক্সা থেকে অবৈধভাবে জোড়পূর্বক চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা চাঁদাবাজীর কথা অস্বিকার করে বলছেন এটা শ্রমিকদের জন্য সঞ্চয় যা অসুস্থ শ্রমিকের কাজে লাগবে।
গত সোমবার সকালে একাধিক রিক্সাচালকেরা জানায়, গত দু বছর আগে কাপাসিয়া উপজেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের উপজেলা শাখা কমিটি গঠন হয়। নতুন কমিটির আত্ব প্রকাশের পর থেকে উপজেলা শহর ও তাঁর আশপাশের সকল রিক্সা চালকের কাছ থেকে সমিতি চাঁদা নামে প্রতিদিন দশটাকা চাঁদা উঠানোর সিদ্ধান্তে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা উঠানো হয়।
উপজেলার টোক বাজার থেকে কাপাসিয়ায় এসে রাজদূত বাস থেকে নেমে রিক্সায় উঠতেই রিক্সাওয়ালার কাছ থেকে একটুকরো কাগজ পড়ে যায়। গরমের তীব্রতায় রিক্সাওয়ালায় বিরক্ত হয়ে কাগজটা উঠায়। কাগজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা চাঁদার রশিদ। প্রতিদিন দশটাকা চাঁদা দেই। এ চাঁদা কেন নেয় কে নেয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমিতির নেতারা নেন। এ টাকা কোথায় যায়, কে খায়, তা তিনি জানেননা।
উপজেলার বাসস্টেন্ডে কথা হয় রিক্সাচালক সিরাজুল ইসলামের সাথে। তিনি এই এলাকা খুব একটা চেনেননা। ইশ^রগঞ্জে তাঁর বাড়ী। কাপাসিয়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন এর একটা অটোরিক্সা ভাড়ায় চালান তিনি। সিরাজুল ইসলাম বলেন, চাপে সমিতিতে ভর্তি হই। প্রতিদিন দশ টাকা দেই। দুই দিন দিতে হয়নাই। পুলিশ নাকি চাঁদা তুলতে নিষেধ করেছিলো। চাঁদা তুলা দুই দিন বন্ধ ছিলো। আবার টাকা উঠানো শুরু করছে। রিক্সা ওয়ালা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ওই যে লাল গেঞ্জি পড়া শাহজাহান সেই দশ টাকা করে টাকা উঠায়।
উপজেলার বলখেলা বাজারের অটোরিক্সা চালক ফজলুল হক জানান, আমরা প্রতিদিন দশটাকা দেই। যদি টাকা না দেই তাইলে নির্যাতন করে, গালি দেয়। অটো আটকিয়ে রাখে। ময়মনসিংহ জেলা থেকে এখানে এসে রিক্সা চালায় সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন দশটাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে চাপ দেয় নেতারা। নেতারা বলে, বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতে হয়। তাদের টাকা না দিলে সমস্যা আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় শ্রমিক নেতা বলেন, আমাদের সংগঠন আছে। আমরা এভাবে কোনো চাঁদা উঠাইনা। তাঁরা উঠায়। টাকা নিয়ে কি করে জানতে চাইলে বলেন, নেতারা খায় দায়, ফুর্তিফার্তা করে।
উপজেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে গিয়ে অফিস বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আ. আজিজ মুঠোফোনে বলেন, আমরা প্রায় আড়াইশ রিক্সা থেকে চাঁদা তুলে ব্যাংকে জমা রাখছি। কোনো শ্রমিক অসুস্থ হলে সহযোগিতা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাকছুদুল ইসলাম বলেন, চাঁদা তুলার বিষয়টি উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় আলোচনা করা হবে।
Please follow and like us: