, || - ||

কুষ্টিয়ায় এক পরিবারকে ৬ দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ভূমিদস্যুরা

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- অর্পণ মাহমুদ, জেলা করেসপন্ডেন্ট ,কুষ্টিয়া।
 কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানাধীন ঝাউদিয়া একটি পরিবারকে ৬ দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে কিছু ভূমিদস্যুরা। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার বরাবর দরখাস্ত দিয়েছেন আবু আহাদ আল মামুন। তিনি তার দরখাস্ত উল্লেখ করেছেন আমি কর্মের কারনে ঢাকায় অবস্থান করি। আমার সন্তানদের সবাই কন্যা, কোন পুত্র সন্তান নেই। আমার স্ত্রী ঝাউদিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের কন্যা। সে আমার স্কুল পড়–য়া কন্যাদের নিয়ে গ্রামে বসবাস করে। একই এলাকার মৃত গঞ্জের আলী মণ্ডলের ছেলে ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী আবুল কাশেম, মৃত আবু ইউসুফ মোল্লা ওরফে কারিমুল্লাহ ছেলে বিটু মোল্লা ও মিঠু মোল্লা, মিঠু মোল্লার ছেলে মোয়াজ, মৃত আবু দাউদ মোল্লার ছেলে সাইফুল ইসলাম, সুজার ছেলে বিল্লাল, মৃত বানাত আলীর ছেলে আতিয়ার, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নগরবাকা গ্রামের মৃত আব্দুল ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে নওশাদ আলী ও বদিউজ্জামান ওরফে আরাম আমার পৈত্রিক ও খরিদ সূত্রে স্বত্ব দখলীয় জমা জমি ঘরবাড়ি জোরপূর্বক সন্ত্রাসী কায়দায় দখল করতে এবং আমাদেরকে বিভিন্নভাবে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি প্রদান করছে।
গত ৭ ডিসেম্বর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯ টার সময় উপরোক্ত ব্যক্তিগণ আরো অজ্ঞাত নামা ৭/৮ জন লোক হাসুয়া, রামদা, রড, শাবল, লাঠি ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে নিয়ে আমার বসতবাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে সগৌরবে আবুল কাশেম হুংকার দেয় যে, তোরা এখনও দাঁড়িয়ে আছিস। তাড়াতাড়ি বাঁশ ও নলা দিয়ে সমস্ত বাড়ি ও জমি ঘিরে দেয়। আবুল কাশেমের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিজে ও উপরোক্ত ব্যক্তিগণ শাবল, খুন্তা, দা, বাঁশ, রামদা, খুঁটি, নলা দিয়ে আমার ঘরের দরজার সামনে থেকে বাড়ির সকল জমি জোরপূর্বক ঘিরে নেয় এবং উচ্চস্বরে বলে যে কোন শালা এই খুটি বা নলা ঘেরাবেড়া তুলে ফেললে তাকে জীবনে মেরে ফেলা হবে। আমার স্ত্রী কন্যা সন্তানদের নিয়ে চরম দুরবস্থায় সেখানে দিন যাপন করছি এবং চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি। ঘর থেকে বের হওয়ার কোন রাস্তাও রাখেনি। আবুল কাশেম বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল এবং বর্তমানেও আছে। সে সেশন-৬৭২/১৬ নং হত্যা মামলার ১ নং আসামী।

জানা যায়, কাশেম মেম্বার দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের জাসদ গনবাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ভারতে নিহত আজিবার মেম্বারের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন। তৎকালীন সময় অপহরন, চাঁদাবাজী, নদী দখল ও আজিবারের অস্ত্রের ভান্ডার এখনো তার কাছে রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। কাশেমের ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পাইনা। প্রশাসন তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে থলের বিড়াল।
এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির চারপাশ দিয়ে ঘিরে রেখেছে ওইসব ভূমিদস্যুরা। কান্না জড়িত কন্ঠে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান শিরীনা আক্তার ও তার মেয়ে ঘেড়ার ভেতর থেকে বলে আমরা এখন বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। আজ ৬ দিন ধরে স্কুলে যেতে পারছিনা।
এই বিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এস এম তানভির আরাফাত পিপিএম(বার) সাথে কথা বললে তিনি জানান, অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই বিষয় ঝাউদিয়া ক্যাম্পের ইনচার্জ জাহাঙ্গীরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। আগামী কাল (বৃহস্পতিবার) দুই পক্ষকে ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে।

ঝাউদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি কেরামত আলীর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি আমি অবগত আছি। বাড়ি ঘিরে রাখা অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কাশেম মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দিপু আমার জায়গা দিয়ে বের হচ্ছে। আমি এখনো ঘেরিনি কিন্তু কাল-পরশু জায়গা ঘিরে রাখবো। আপানারা আমার কিছু করতে পারলে করেন।
অপর অভিযুক্ত বিটুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ঘিরিনি। আমার কোন বিষয় না। আমার কোন জমি জায়গা নেই ওখানে। ঘিরেছে তারই চাচা নগরবাকা গ্রামের নওশদ ও আরাম।

এই বাড়ী ঘিরে রাখার জন্য এলাকায় চলছে চাপা ক্ষোভ। কাশেম মেম্বার দাপট দেখিয়ে এলাকার দুইটি পরিবারকে একঘরে করে রেখেছে বলে এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়। যার একটি পরিবার এলাকা ছাড়া হয়েছে।

Please follow and like us: