বৃহস্পতিবার , ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে ‘ক্লাস পার্টি দিনভর চলল নাচ-গান ও আড্ডা ।

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- রফিকুল ইসলাম সুজন, রানীশংকৈল,ঠাকুরগাঁও করেসপন্ডেন্ট।
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার রাঘবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রেখে সারাদিন ‘ক্লাস পার্টি’ করার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে, শ্রেণী কক্ষে শিক্ষার্থীদের নাচ-গান ও গল্প-গুজব করে সময় পার করার এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের পাঠদান করানো হয়নি। ক্লাসের পরিবর্তে শ্রেণী কক্ষেই আয়োজন করা হয় ‘ক্লাস পার্টি’। সারাদিন ধরে সেখানে উচ্চশব্দে গান-বাজনা, নাচ এবং গল্প-গুজব চলে। শিক্ষকরা ক্লাসে গিয়ে পাঠদান করানোর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের এই আয়োজনে মেতে থাকতে সহযোগিতা করেন, যার ফলে পুরো দিনটিই পড়াশোনা ছাড়া পার হয়।
এ বিষয়ে রাঘবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন:
ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেরা ক্লাস পার্টির আয়োজন করেছিল, এই কারণে আজকে কোন ক্লাস নেওয়া হয়নি।
তবে জাতীয় কোনো বিশেষ দিবস বা সরকারি নির্দেশনা ছাড়া এভাবে স্কুল চলাকালীন সময়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পার্টি করার কোনো নিয়ম আছে কি না—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় কোনো প্রোগ্রাম না থাকলে কোনো অবস্থাতেই ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার মোকাদ্দেস ইবনে সালামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন,ঘটনাটি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন আমি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম এবিষয়ে আগামী মিটিংয়ে তুলে ধরা হবে । এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোফাজ্জল হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে জানান আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলবো ।
স্কুল চলাকালীন সময়ে পাঠদান বন্ধ রেখে এভাবে আনন্দ-ফুর্তির নামে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট করার ঘটনায় সচেতন মহল তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষী শিক্ষকদের শাস্তির দাবি তুলেছেন।
Please follow and like us: