একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগ, বি,এনপি ও জামায়াত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে দলের সম্ভব্য প্রার্থীরা এলাকায় গনসংযোগের পাশাপাশি তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুকম্পা লাভের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও স্থানীয় নেতাকর্মীরা নিজ নিজ দলের অবস্থান নিয়ে হিসাব নিকাশ করতে শুরু করেছে। খুলনা -৫ আসনের দুটি উপজেলায় কয়েক লাখ মানুষের মুখে এখন আগামী নির্বাচনের আলাপ আলোচনা চাউর হয়ে উঠেছে। খুলনা-৫ আসনটি বরাবরই আওয়ামীলীগ এর শক্ত ঘাটি হিসাবেই পরিচিত। এই আসনটিতে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ এর স্বাস্থ্য মন্ত্রী সালাউদ্দিন ইউসুফ ৭০হাজার ১’শ ৪৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছিলেন। তার নিকটতম প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুল ইসলাম পেয়েছিলেন মাত্র ৪৫ হাজার ৫’শ ৮৪ ভোট। ২০০০ সালের ৬ অক্টোবর সালাউদ্দিন ইউসুফ মৃত্যুর পর ঐ আসনটিতে মাত্র ৬ মাসের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে নির্বাচিত হন ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নারায়ন চন্দ্র চন্দ। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসাবে জামায়াতের মিয়া গোলাম পরওয়ার ১ লাখ ৫ হজার ৭’শ ৪০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। নিকটতম প্রতিদন্ধী বাবু নারায়ন চন্দ্র চন্দ ভোট পেয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২ টি ভোট। বিগত নির্বাচনের তুলনায় ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ভোট বেড়েছে ৩১ হাজার ২’শ ৮টি এবং অন্যান্য দলের ভোট বেড়েছিল মাত্র ৪ হাজার ৮ শ ৭২ টি। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৫ ই জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানে নির্বাচন হলেও খুলনা ৫, ডুমুরিয়া- ফুলতলা কোন নির্বাচন না হওয়ায় সাবেক এমপি নারায়ন চন্দ্র চন্দ বিনা নির্বাচনে নির্বাচিত হন। আসন্ন একাদ্বশ জাতীয় নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার, আমার সরকার আমলে এলাকায় সন্ত্রাস দমন হয়েছে। স্কুল, মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ রাস্তা ঘাট, কালভার্ট ব্রীজ উন্নয়ন হয়েছে এবং অব্যহত থাকবে। আমি নিরপক্ষ রাজনীতি করি, আমি এমন রাজনীতিতে বিশ্বাসী, আমি প্রত্যেকটি জনসভায় এ সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরি। আপনি এবার নমিনেশন পাবেন কিনা জানতে চাইলে বর্তমান সরকারের মাননীয় মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রী বাবু নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, আমি আশাবাদী আমি নমিনেশন পাবো। সেই ভাবে এলাকায় নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমার জনগণ, আমার বিশ্বাস আবার আমাকে জয়যুক্ত করবেন। এদিকে খুলনা জেলার বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মাহাবুব উল ইসলাম, খুলনা-৫ ডুমুরিয়া, ফুলতলা আসনের নির্বাচনের জন্য দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে লবিং নিয়ে ব্যস্ত আছে। বর্তমানে তিনি এলাকায় জনসমার্থনে এগিয়ে আছে, এমনটি ছড়িয়ে পড়েছে ভোটারদের কাছে। তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হিসাবে বিভিন্নমুখী প্রচার প্রচারনা সাধারন জনগনের মধ্যে চালিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়াও তিনি সভা,সমাবেশসহ বিভিন্ন স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন ও নিজস্ব অর্থায়নে অনুদান প্রদানের মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। এক প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর ড. মাহাবুব উল ইসলাম বলেন, মনোনয়ন পেলে দলকে বিজয় উপহার দিতে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশাবাদী। সে ক্ষেত্রে জোটের প্রার্থীর তুলনায় উপযুক্ত প্রার্থী না দেওয়া হলে আসনটি এবার হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনবিচ্ছিন্ন নেতারা প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে ইউনিয়ন নেতাদের কাজে লাগানো সহ গোপন বৈঠক চালাচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
রবিবার , ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া- ফুলতলা) আসনে কে হবেন নৌকার মাঝি
প্রকাশিত হয়েছে- প্রকাশ করেছেন- মোহাম্মদ ইমন মিয়া, বাঙ্গরা,কুমিল্লা করেসপন্ডেন্ট।
মারিয়া আফরিন পায়েল, ডুমুরিয়া, (খুলনা)
খুলনা-০৫ আসনে (ডুমুরিয়া- ফুলতলা)
সবার মুখে মুখে এখোন কে হবেন খুলনা- ৫ আসনের নৌকার মাঝি।
Please follow and like us: