, || - ||

গদখালির ফুল খাচ্ছে গরু-ছাগল, ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- নয়া আলো অনলাইন ডেস্ক।

যশোরের গদখালি দেশের ফুলের রাজ্য খ্যাত । আর এখানেই এই ফুলের বেচা-কেনার জন্য গড়ে উঠে দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার। প্রতিদিন ভোর থেকে আনাগোনা শুরু হয় এ বাজারে গদখালি-পানিসারার কয়েক হাজার ফুল চাষির। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট-বড় পাইকাররা সেখান থেকে ফুল কিনে নিয়ে যান। এরপর বিভিন্ন হাতবদল হয়ে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে ফুলের রঙ ছড়ায় নানান বয়সের মানুষের মনে।

বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে ছন্দপতন র্সবত্র। তেমনি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সবচেয়ে ফুলের যোগান দেওয়া গদখালি ফুলের চাষ ও বাজারে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, যেখানে পূর্ব আকাশে লাল সূর্য উঁকি দেওয়ার সাথে সাথে জমে উঠতো ফুলের বাজার। সেখানেই করোনার প্রাদুর্ভাবে বাজার প্রাঙ্গণ জনমানব শূন্য। নেই আগের মতো ফুলের দাম নিয়ে তর্ক-বিতর্ক। নেই কোন হাঁকডাক। গুটি কয়েক দোকানদার বসে আছেন দোকান খুলে। ফুল চাষিরা ফুল বাগান থেকে ফুল কেটে ছাগল-গরু দিয়ে খাওয়াচ্ছেন। চাষিদের চোখ-মুখ বিষর্ণ।

গদখালি ফ্লাওয়ার সোসাইটি সূত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি-পানিসারার প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কৃষক ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ করছেন। ফুল চাষে আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার রেকর্ড পরিমাণ ফুলের উৎপাদন হয়েছিলো। দেশের সবচেয়ে ফুলের বাজার গদখালি বাজারে প্রায় ১২ রকমের ফুল বেচা-কেনা হয়। প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফুল চাষিদের ভরা মৌসুম। কিন্তু করোনাভাইরাসে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও বাংলা বর্ষবরণ উৎসব ঘিরে ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীদের অন্তত একশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি গদখালি ফ্লাওয়ার সোসাইটির।

গদখালি এলাকার কৃষক শাহজাহান জানান, তিনি এবার আড়াই বিঘা জমির গোলাপ ফুলের ক্ষেত এখন ছাগলের খাদ্যে পরিণত হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে ১২ দিন ধরে ফুলের বেচাকেনা নেই। এদিকে বাগান থেকে প্রতিদিনই দেড় থেকে দুই হাজার গোলাপ কেটে ছাগল-গরুকে খাওয়াতে হচ্ছে। কারণ গোলাপ না কাটলে বাগান নষ্ট হয়ে যায়। একদিকে ফুলের বেচাকেনা নেই; অন্যদিকে ফুল কাটার জন্যে শ্রমিক খরচ গুনতে হচ্ছে। প্রতিদিনই শাহজাহানের দুই হাজার টাকা লোকশান গুনতে হচ্ছে।

পানিসারা এলাকার ফুল চাষি শের আলী জানান, ‘আড়াই বিঘা জমিতে গোলাপ ফুলের চাষ করেছি। বাংলা বর্ষবরণ উৎসব সামনে রেখে ফুল উৎপাদনের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিলো। কয়েক লাখ টাকা গোলাপ বাগানে বিনিয়োগ করা আছে। ঠিক সেই সময়ে করোনা ভাইরাসের দুর্যোগের কারণে ১২ দিন ধরে পরিবহন-দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ফুলের বাজার বসছে না। ক্ষেত থেকে প্রতিদিনই দেড় হাজারের বেশি গোলাপ ফুল কেটে ছাগল গরু দিয়ে খাওয়াতে হচ্ছে। ফুল না কাটলে নতুন করে আর কুড়ি আসে না। অত্যন্ত খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি আমরা ফুল চাষিরা।

তিনি আরো বলেন, শুধু আমার মতো না এই এলাকার হাজারো ফুলচাষি এমন বিপাকে পড়েছেন। তাদের বাগানের রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা ফুল কেটে গরু দিয়ে খাওয়াচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে গদখালির পাইকারি ফুলের বাজার ২৪ এপ্রিল থেকে বন্ধ রয়েছে। চাষিরা ফুল বিক্রি পারছেন না। আবার ক্ষেতে ফুল রাখতেও পারছে না। এরকম উভয় সংকটে পড়েছেন তারা।  এর মধেই ১০০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষককে খাদ্য সরবারাহ ও বিনা সুদে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছি।

যশোরের  জেলা প্রশাসক ও ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

Please follow and like us: