বুধবার , ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

গুইমারায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিভা অন্বেষণ’ কর্মসূচি শুরু

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- এম দুলাল আহাম্মদ, খাগড়াছড়ি করেসপন্ডেন্ট।
তৃণমূল পর্যায়ের শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন গুইমারা ও ক্রীড়া পরিদপ্তর। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিভা অন্বেষণ” কর্মসূচি, যা ইতোমধ্যে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামগঞ্জের প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের খুঁজে বের করে তাদের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তুলে ধরা এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন তারকা তৈরির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই এই কর্মসূচিকে গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্রতিযোগিতায় মোট ৮টি জনপ্রিয় ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো—ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, মার্শাল আর্ট ও সাঁতার। প্রতিটি খেলাতেই অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছাত্র-ছাত্রীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। অংশগ্রহণের জন্য অনলাইন ভেরিফাইড জন্মনিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক। এছাড়া একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারবে, তবে দলগত খেলাগুলোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মাবলি অনুসরণ করতে হবে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে—অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের প্রত্যয়নপত্র, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং অভিভাবকের সম্মতিপত্র।
প্রতিযোগিতাটি চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে—উপজেলা, জেলা, আঞ্চলিক এবং জাতীয় পর্যায়। প্রতিটি ধাপে সেরা প্রতিযোগীরা পরবর্তী ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবে।
বিজয়ীদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। প্রতিটি পর্যায়ে প্রদান করা হবে মেডেল, ট্রফি ও সনদপত্র। বিশেষ করে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ ও ভর্তির সুযোগ রাখা হয়েছে, যা তরুণ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ১২ এপ্রিল থেকে এবং চলবে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সকল যোগ্য শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
Please follow and like us: