শনিবার , ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

গুইমারার জালিয়াপাড়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: হোটেল ও তেলের দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৫০ লাখ টাকা

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- এম দুলাল আহাম্মদ, খাগড়াছড়ি করেসপন্ডেন্ট।
খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি হোটেল ও একটি তেলের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়া পাশের একটি ঔষধের দোকান এবং একটি বসতবাড়ীও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (৩ জুন) রাত আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে জালিয়াপাড়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তেই আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অল্প সময়ের মধ্যেই বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের তেলের দোকান এবং নাঈম হোটেল সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। আগুনের তাপে পাশের একটি ঔষধের দোকান এবং একটি বসতবাড়ীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে মাটিরাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। একই সঙ্গে সিন্ধুকছড়ি সেনা জোনের মেজর শাইয়েন কাদেরের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে অংশ নেন। যৌথ প্রচেষ্টায় প্রায় আধাঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
মাটিরাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আবু বকর জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। প্রায় আধাঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।”
এদিকে, বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুইমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনো উপজেলায় কোনো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গুইমারা উপজেলা থেকে মাটিরাঙ্গা বা খাগড়াছড়ি সদর থেকে ফায়ার সার্ভিস আসতে সময় লাগে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। তারা দ্রুত গুইমারা উপজেলায় একটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলাবাসীর প্রশ্ন, আর কত অগ্নিকাণ্ড, আর কত মানুষের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হলে গুইমারায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে?
সাম্প্রতিক সময়ে গুইমারার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের মতে, একটি স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন প্রতিষ্ঠা করা গেলে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে জানমাল ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
Please follow and like us: