শনিবার , ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

গুইমারায় যৌতুকের জন্য অকটেনের আগুন দিয়ে গৃহবধূ সালমাকে হত্যার দায়ে স্বামী মিজানুর রহমানকে মৃত্যুদন্ড

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- মোহাম্মদ ইমন মিয়া, বাঙ্গরা,কুমিল্লা করেসপন্ডেন্ট।

এম দুলাল আহাম্মেদ,গুইমারা(খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির গুইমারায় যৌতুকের জন্য অকটেনের আগুন দিয়ে গৃহবধূ সালমা আক্তারকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত স্বামী মিজানুর রহমানকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত।সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় খাগড়াছড়ির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল এ আদেশ দেন।রায় ঘোষণার সময় আদালতে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত মিজানুর রহমান সহ মামলার অন্যান্য আসামীরা উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুর আগে নিহত সালমার জবানবন্দী ও ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্ত স্বামী মিজানুর রহমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ ও ২০০৩ এর ১১ এর(ক) ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় মৃত্যুদন্ড ও ৫০ হাজার টাকার অর্থদন্ডে দন্ডিত করে আদালত।মামলার অন্য ৪ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেয়।মামলার বাদি ও সালমার ভাই মো: নুরুজ্জামান মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ন্যায় বিচার পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

প্রসঙ্গত,৩০শে মার্চ ২০১৪ ইং তারিখে সিন্দুকছড়ি গ্রামের এরফান আলী (পিটু মিয়া)র ছেলে মিজানুরের সাথে পারিবারিকভাবে বড়পিলাক গ্রামের এয়াকুব আলীর মেয়ে সালমার বিয়ে হয়।বিয়ের সময় সালমার হতদরিদ্র পিতা ৪০হাজার টাকা যৌতুক দেয়।পরবর্তিতে আরো ১০হাজার টাকা প্রদান করে।কিন্তু তাতে মন ভরেনি ছেলের পরিবারের।একটি নতুন মোটর সাইেকেল যৌতুক হিসেবে দাবি করে।কিন্তু সালমার দরিদ্র পিতার পক্ষে মোটর সাইকেল দিতে না পারায়,২৭ ডিসেম্বর ২০১৪ইং শশুরালয়ে তার স্বামী পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্লাউজের মধ্যে অকটেন দিয়ে ভিজিয়ে রাখে। দুপুরে সালমা গোসল সেরে এসে ব্লাউজটি পড়ে।তখনি স্বামী মিজানুর রহমান পেছন থেকে দিয়াশলায় জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত সরে পরে।গৃহবধু সালমার আত্মচিৎকার শুনে প্রতিবেশি ফেরদৌস বেগম ও শাশুড়ি এসে লবন পানি গাঁয়ে ঢেলে দেয়।তাতে সালমার যন্ত্রনা আরো বেড়ে যায়।দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে প্রায় ৩ঘন্টা বাড়ীতে ফেলে রাখে।পরে স্বামী মিজানুর এসে বলে এখনও মরস নাই।এলাকাবাসীর চাপের মুখে সন্ধার সময় চুপিসারে গুরুতর আহত গৃহবধু সালমাকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে দায়সারাভাবে ভর্তি করে চলে আসে।পরে মেয়ের বাবা ও ভায়েরা তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ৩০ডিসেম্বর চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।মাসাধিককাল চমেকের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসার পর গত ১৩ফেব্রুয়ারী হাসপাতাল ছাড়পত্র দিয়ে দেয়।চট্রগ্রামে নেওয়ার পর তাঁর স্বামীর পক্ষ থেকে কেউ কোন খোজ-খবর নেয়নি।টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেনি সালমার দরিদ্র পরিবার।উন্নত চিকিৎসার অভাবে গুরুতর আবস্থায় বিছানায় মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে সালমা।এসময় সাংবাদিকদের আগুনে দগ্ধ সালমা কান্নজড়িত কন্ঠে বলেছিলেন,ঐ,একটি মোটর সাইকেল’র জন্য আমাকে যেভাবে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হতে হল আমি তাঁর উপযুক্ত বিচার চায়।পরে শুক্রবার সালমা আক্তার নিজ পিত্রালয়ে মারা যায়।

সালমার পরিবার উপযুক্ত বিচারের আশায় স্বামীর এক আত্মিয়ের কাছে গেলে তিনি সুষ্ঠু বিচার করবেন বলে মামলা করতে বারণ করেন।কিন্ত শেষ পর্যন্ত সামাজিক কোন বিচার না পেয়ে সালমার ভাই মো: নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৫জনকে আসামী করে ১৯-০২-২০১৫ ইং তারিখে গুইমারা থানায় একটি মামলা দায়ের করে।যার নং ০৩।প্রায় ৩বছর ৭মাস মামলা চলার পর আদালত এই রায় প্রদান করেন।

Please follow and like us: