আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে রোববার একটি বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলা চত্বর থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদণি করে। র্যালিতে সাঁওতাল নারীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নাচ ও গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি মাতিয়ে রাখে। গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল সম্প্রদায় নিজস্ব ঐতিহ্যে নেচে-গেয়ে আনন্দের সাথে বরণ করলো দিবসটিকে। র্যালি শেষে উপজেলা ভবনের সামনে সাঁওতাল নারীদের নাচের সাথে উপস্থিত সবাই অংগ্রহণ করায় সেখানে উৎসবমুখর সাঁওতাল-বাঙালিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। সাঁওতালদের সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগী সংস্থা অবলম্বন দিবসটি পালনে সহযোগিতা করে।
পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জেবুন নেছা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাকিলা বেগম, গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম মেহেদী হাসান, শাহানা আকতার, হ্যাপি বেগম, দিপ্তী মুর্মু প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে সৃজনশীল ও উন্নয়নমূলক সব কর্মকান্ডে পরুষের পাশাপাশি নারীর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আদিবাসী নেত্রীরা বলেন যে, আদিবাসী নারীরা নারী হিসেবে এবং আদিবাসী হওয়ার জন্য তারা উভয় েেত্র বৈষম্যের শিকার হয়। আদিবাসী নারীরা ধর্ষন, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। উচ্ছেদ হচ্ছে ভূমি থেকেও। আদিবাসী ও বাঙালি নারী কৃষিমজুরেরা হচ্ছেন মজুরি বৈষম্যের শিকার। মানবাধিকার: জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গভেদে সবার জন্য সমান অধিকার। এ অবস্থা নিরসনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। আদিবাসী নারীদের উন্নয়নের জন্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার দাবী করেন। এসডিজির ল্য অর্জনের জন্য রাষ্ট্র ও জনজীবনের সর্বস্তরের নারী-পুরুষ, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।