, || - ||

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে প্রাণীকুল বিপর্যস্ত, রোজাদারদের ত্রাহি অবস্থ।

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- এইচ এম সাইফুল নুর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।
বঙ্গাব্দ ১৪২৮ এবং খ্রিস্টাব্দ ২০২১ সালে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারনে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় প্রচন্ড দাবদাহে খাল,বিল পুকুর শুকিয়ে পানি কষ্টে এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারনে প্রচন্ড গরমে প্রাণীকুল বিপর্যস্ত মাত্রাতিরিক্ত কষ্টে রোজাদার’রা। বেড়েছে পানি বাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব।
কলাপাড়া উপজেলায় গত কয়েকদিন ক্রম বর্ধমান তাপমাত্রা ৩৪,৩৫,৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার কারনে প্রচন্ড গরমে হাঁপিয়ে উঠছে প্রানীকূল। টানা প্রচন্ড দাবদাহ এবং বৃষ্টি না থাকার কারনে মাঠঘাট ফেটে চৌচির, শুকিয়ে গেছে খালবিল সহ পুকুর জলাশয়ের পানি ফলে পানিকষ্টে দুর্বিপাকে পরছে জন জীবন। নীলগঞ্জের কৃষক জিয়ারুল মোল্লা বলেন আমি ৮ টি গরু পালন করি গত পৌষ মাসের পর থেকে কোন বৃষ্টি না থাকার কারনে মাঠে কোন ঘাস না থাকায় বর্ষা মৌসুমের জন্য মজুদ করা খড় শেষ করে ফেলেছি তিনি অত্যান্ত দুঃখ করে বলেন সব চেয়ে পানির কষ্টে দিনযাপন করতেছি খালে এবং পুকুরে কোথাও পানি না থাকার কারনে অন্যের বাড়ির টিউবওয়েল চেপে এ-ই ৮ টি গরুর পানি খাওয়াতে হয়। নীলগঞ্জ ইউনিয়ন সহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের সব এলাকাতেই একই অবস্থা বিরাজমান।
কুমির মারার কৃষক জাকির গাজী ( লুঙ্গি জাকির) বলেন ইউনিয়নের অধিকাংশ খাল অগভীর হওয়ার কারনে বোরো মৌসুমে সেচ কাজ পরিচালনার জন্য খালের পানি শুকিয়ে গেছে আমরা কৃষকরা এখন চরম বিপাকে তাই খালগুলো অতি দ্রুত খনন না করলে ভবিষ্যতে কৃষিকাজ থেকে আমাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। এদিকে প্রচন্ড গরমে রোজাদার ব্যক্তিরা হাঁপিয়ে উঠছেন তারা বলছেন ঘরের মধ্যেও থাকার কোন সুযোগ নাই ফ্যানের বাতাস তাও গরম কারন ঘরের চালায় টিন থাকার কারনে প্রচন্ড রৌদ্রে তা উত্তপ্ত হয় ফলে ফ্যান চালিয়েও শান্তি নেই।
প্রচন্ড দাবদাহ এবং অনাবৃষ্টির কারনে উপজেলায় বেড়েছে পানি বাহিত রোগ ডায়রিয়া কলেরা ও আমাশয়ের প্রাদুর্ভাব সাথে,সাথে বেড়েছে সর্দি জ্বর ও ভাইরাস জনিত জ্বর। এর কারন হিসেবে স্বাস্থবিদরা দায়ী করছেন অনাবৃষ্টির কারনে পানি দুষিত হওয়াকে তাই তারা ঘর গৃহস্থালির কাজ খাওয়া গোসল সহ সব কাজে টিউবওয়েলের পানি ব্যাবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য মতে এই দাবদাহ আরও একসপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
Please follow and like us: