কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রবাসী কর্তৃক দুই সন্তানের জননীকে গোপনে তালাক ও পাওনা বুঝিয়ে না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও ব্যবসার উদ্দেশ্যে নেয়া নগদ ৯ লক্ষ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দিচ্ছে না প্রবাসী শওকত হোসেন। উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের আকদিয়া গ্রামের রশিদ মেম্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। সোমবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে বরিশাল জেলার মেহেদীগঞ্জ থানার লস্করপুর গ্রামের ইব্রাহিম মাস্টারের মেয়ে জেসমিন আক্তারের সাথে চৌদ্দগ্রামের আকদিয়া গ্রামের মৃত মীর আহম্মেদের ছেলে শওকত হোসেনের ৩ লক্ষ টাকা মোহরানায় বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। এরই মধ্যে দেশে থাকা অবস্থায় স্ত্রী জেসমিন আক্তারের হাওলাত স্বরুপ ৯ লক্ষ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে টাকা নেয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়ে শ^াশুড়ি মাসুমা বেগম, চাচা শ^শুড় আকতার হোসেন, চাচী শ^াশুড়ি পারভিন আক্তার, ননদ নীলু বেগম ও চাচাতো দেবর মোঃ নীরব গং জেসমিন আক্তারকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর উদ্দেশ্যে মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন করে। স্বামীর বাড়ি থেকে চলে না যাওয়ায় তারা নির্যাতন আরো বাড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে গত মাসের ৬ তারিখ দুপুরে স্বামীর বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বাড়ি থেকে না গেলে প্রাণে হত্যা করার হুমকি প্রদর্শন করে। এতে মৌখিক প্রতিবাদ করায় মাসুমা আহম্মেদের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে জেসমিন আক্তারের উপর আক্রমন ও শ্লীলতাহানি করে। এরপর জোরপূর্বক একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে উঠিয়ে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখে। পরবর্তীতে জেসমিন আক্তার তাঁর ভাতিজী সুমাইয়া আক্তার ঝুমুকে জানালে ৯৯৯-এ কল করে থানাকে অবহিত করে। জড়িতরা আইনী সহায়তার টের পেয়ে মহাসড়কের পদুয়া রাস্তার মাথায় ঢাকামুখী লেনে তাকে নামিয়ে দেয়। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ জেসমিন আক্তারকে উদ্ধার করে।
অপরদিকে শ^শুড় পক্ষের লোকজন পাশ^বর্তী বাড়ির দুধ বিক্রেতা মাখন ও মুদি দোকানি কাউছারকে জেসমিন আক্তারের নিকট কোন কিছু বিক্রি না করতে নিষেধ করে।
চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি জেসমিন আক্তারের দাম্পত্য জীবনের অপসারণ ঘটানোর লক্ষ্যে গুণবতীর জামাল উদ্দিন ও তপবনের আবদুল কুদ্দুসের উপস্থিতিতে মাসুমা আহম্মেদ সমঝোতা স্বাক্ষর করেন। কিন্তু পরবর্তীতে মাসুমা আহম্মেদ নিজেই সেটি অমান্য করে প্রবাসী স্ত্রী জেসমিন আক্তারের উপর নির্যাতন বাড়িয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তারের শ^াশুড়ি মাসুমা আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা জেসমিন আক্তারের মোহরানা টাকার পরিশোধ করতে চাচ্ছি। কিন্তু সে বেশি টাকা দাবি করার কারণে বিষয়টি সমাধান হচ্ছে না’।
এদিকে জেসমিন আক্তারের কাতার প্রবাসী স্বামী শওকত হোসেনের ব্যবহৃত ইমো ও হোয়াটস্ অ্যাপ নাম্বারে গত দুইদিন ধরে কল ও ম্যাসেজ দিয়েও তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। মূলত সাংবাদিক পরিচয় জেনে তিনি কল ও ম্যাসেজের উত্তর দেননি।
কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘৯৯৯-এ কল পেয়ে আমরা ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তারকে উদ্ধার করেছি। জেসমিন আক্তারের দায়েরকৃত মামলার আসামীরা আদালত থেকে জামিনে রয়েছে।
, || - ||
চৌদ্দগ্রামে গোপনে দুই সন্তানের জননীকে প্রবাসীর ‘তালাক’, কষ্টে দিন কাটছে স্ত্রী-সন্তানের
প্রকাশিত হয়েছে- প্রকাশ করেছেন- স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, নয়া আলো।
Please follow and like us: