রবিবার , ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ২৭শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

চৌদ্দগ্রামে সিএনজি অটোরিকশা চালক হৃদয় হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- মোঃ শাহীন আলম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ধোড়করা বাজারে চাঞ্চল্যকর সিএনজি অটোরিকশা চালক মোঃ হৃদয়(২৪) হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। শনিবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিওড়া রাস্তার মাথায় মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল ও কিছু সময়ের জন্য মহাসড়ক বেরিকেড দেয় বিক্ষোভকারীরা। চিওড়া ইউনিয়ন সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হৃদয়ের শাকতলা গ্রামের সমাজসেবক নেছার আহমেদ বিডিআর, ব্যবসায়ী ইউনুছ লিপন, আবদুস সালাম বেলাল, প্রবাসী মোঃ শাহীন ও ব্যবসায়ী আবদুল লতিফ। স্বেচ্ছাসেবী মোহাম্মদ হোসেন নয়নের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী নজরুল ইসলাম লিটন, জাকারিয়া সাইফুল, ব্যবসায়ী মোঃ শহীদ, সমাজসেবক জাফর আহমেদ, ব্যবসায়ী হোসনে এলাহী, মফিজুর রহমান, আবদুর রাজ্জাক, মোঃ নয়ন, ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান, রফিকুল ইসলাম, আলামিন হোসেন রাকিবসহ শাকতলা গ্রামবাসী ও চিওড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের যুব সমাজ। বিক্ষোভকারীরা ঘটনার মুল আসামী মোঃ রাজিবকে আটক করতে প্রশাসনকে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায়, বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেয় বিক্ষোভকারীরা।
নিহত হৃদয়ের ভাই মোঃ ফারুকের দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়, চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের শাহাদাত হোসেন আসিফ, আবদুল্লাহ জনি ও মোঃ নয়ন মোটর সাইকেলের জন্য তেল নিতে বুধবার রাত আটটায় ধোড়করা বাজারের পূর্ব পাশে জনৈক কাইয়ুমের তেল দোকানে যায়। মুহুর্তেই ঘোষতল গ্রামের প্রান্ত, রাশেদ ও নজির আহমেদ অন্য মোটর সাইকেল নিয়ে বিপরীত থেকে এসে জনিদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ঝামেলা মিটিংে দিলেও প্রান্ত গং আসিফ গংদের প্রকাশ্যে হুমকি ধমকি দিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে সিএনজি চালক শাকতলা গ্রামের হেদায়েত উল্লাহ হেদুর ছেলে মোঃ হৃদয় এসে ঘটনার বিস্তারিত শুনে। একপর্যায়ে ঘোষতল গ্রামের রাজিব, পানসি ও ডিমাতলী গ্রামের বিজয় প্রকাশ রিফাত মোটর সাইকেল যোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহাদাত হোসেন আসিফ ও আবদুল্লাহ জনিকে এলোপাতাড়িভাবে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। তখন সিএনজি অটোরিকশা চালক মোঃ হৃদয় হামলাকারীদের কবল থেকে আসিফ ও জনিকে রক্ষার চেষ্টা করলে মোঃ রাজিব তার কোমর থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করে স্বজোরে হৃদয়ের বুকের ডান পাশে পাজরের নিচে ছুরিকাঘাত করে। এতে সে চিৎকার দিয়ে রাস্তার উপর লুটিয়ে পড়ে এবং মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটপট করতে থাকে। এ সময় তাঁর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে হামলাকারীরা মোটর সাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। উপস্থিত লোকজন হৃদয়কে ধোড়করা বাজারে অবস্থিত রেক্স ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে নিয়া গেলে চিকিৎসক হৃদয়ের অবস্থা আশংকাজনক দেখে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান দেন। পরবর্তীতে হৃদয়কে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়া গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় রাজিবকে প্রধান আসামী করে ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতরা হলো; চিওড়া ইউনিয়নের ঘোষতল গ্রামের নজির আহাম্মদের পুত্র নুরুল আমিন পানসি, আফতাব উদ্দিন খন্দকারের ছেলে তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত ও জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের গাংরা গ্রামের মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে জসিম উদ্দিন।
তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় রিয়া নামের এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে আলামিন হোসেন রাকিব ও তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত নামে দুই যুবকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রিয়ার স্বামী প্রবাসে থাকে। কিছুদিন ধরে রিয়ার সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রান্তকে দায়ী করে রাকিব। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
শনিবার বিকেলে মানববন্ধন চলাকালীন উপস্থিত চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক তারেক আকাশ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সিএনজি চালক হৃদয় হত্যাকান্ডের মূল আসামী রাজিবকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করা আপনাদের অধিকার। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে আটক করেছে। মূল আসামী রাজিবসহ অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
Please follow and like us: