সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ সাদাপুল এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকটক লাবণ্য রুমির গালাগালির প্রতিবাদে শ্রমিকদের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ সাদাপুল এলাকায় আয়োজিত এ সমাবেশে স্থানীয় শ্রমিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক ও বিএনপি নেতা ফজলুর করিম বকুল। শ্রমিক নেতা ও ম্যানেজার শাহেব আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন গোবিন্দগঞ্জ শ্রমিক শাখার আহ্বায়ক মাসুম আহমদ, সাহেদ আহমদ, শাহীন আহমদ, সাদ্দাম হোসেন, সেজুল আহমদ, রাজন আহমদ, সুজন আহমদ, আলী হোসেন, কাইয়ুম, কালা শাহ, জায়েদ, আলী জাকের, আলী, ওমিত, জুবায়ের, রুমন, খালেদ ও আহাদ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন শিক্ষক সাদিকুর রহমান, বিএনপি নেতা নজির আহমদ, জেলা বিএনপির নেতা আতাউর রহমান এমরান,দিদার আলম মেম্বার,আফরোজ আলী, লালা মিয়া, আজির উদ্দিন, আব্দুস সোবহান, শিক্ষক আব্দুল বাসিদ, ফজল উদ্দিন, বদর উদ্দিন ও সমুজ আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালাগালি করা এবং কোনো এলাকার মানুষকে হেয়প্রতিপন্ন করা গ্রহণযোগ্য নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ব্যক্তি, পেশাজীবী কিংবা কোনো এলাকার মানুষের সম্মানহানি করা উচিত নয়। এ ধরনের আচরণ সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয় শ্রমিকদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার সকালে গোবিন্দগঞ্জ সাদাপুলের মুখে শ্রমিকদের কার্যালয়ে টিকটক লাবণ্য রুমি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। এ সময় শ্রমিকেরা তাঁকে বাধা দিলে তিনি শ্রমিকদের নাম ধরে ‘২০ টাকার ড্রাইভার’ বলে গালাগালি করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে নিজ বাড়ি থেকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি গোবিন্দগঞ্জ এলাকার মানুষকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। এতে স্থানীয় শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকেরা সমাবেশের আয়োজন করেন।
বক্তারা বলেন, গোবিন্দগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এ এলাকার শ্রমজীবী মানুষ নিজেদের পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের পেশা ও সম্মান নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা অনভিপ্রেত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল ও শালীন আচরণ করতে হবে।
সমাবেশ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের গালাগালি ও মানহানিকর বক্তব্য পরিহারের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শালীনতা বজায় রাখা এবং এলাকার মানুষের সম্মান রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান বক্তারা।তবে এ বিষয়ে টিকটক লাবণ্য রুমির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।